জীববিজ্ঞান ২য় পত্র • Dhaka Board • ঢাকা বোর্ড ২০১৭
জীববিজ্ঞান ২য় পত্র প্রশ্ন
জীববিজ্ঞান ক্লাসে শিক্ষক পাখিদের পরিযানের গুরুত্ব উপস্থাপনের পাশাপাশি মৌমাছি সম্পর্কে মন্তব্যে বললেন যে অন্যান্য প্রাণীর তুলনায় তাদের সামাজিক আচরণ অনেক উন্নত।
- ক)(1)
ট্যাক্সিস কী?
- খ)(2)
নপসিয়াল উড্ডয়ন বলতে কী বোঝ?
- গ)(3)
উদ্দীপকে পাখিদের উপস্থাপিত বিষয়টি ব্যাখ্যা করো।
- ঘ)(4)
উদ্দীপকে দ্বিতীয় প্রাণীটি সম্পর্কে মন্তব্যটি বিশ্লেষণ করো।
উত্তর ও ব্যাখ্যা
- ক)
AI-তৈরি নমুনা উত্তর
কোনো উদ্দীপকের প্রভাবে জীবের সামগ্রিক চলন বা দিকমুখী স্থানান্তরকে ট্যাক্সিস (Taxis) বলে।
- খ)
AI-তৈরি নমুনা উত্তর
মৌমাছির প্রজননের উদ্দেশ্যে আকাশে মিলন-উড্ডয়নকে নপসিয়াল উড্ডয়ন (Nuptial flight) বা বৈবাহিক উড্ডয়ন বলে।
সাধারণত নতুন রানি মৌমাছি ঝাঁক বেঁধে আকাশে উড়াল দেয় এবং পেছনে পেছনে পুরুষ মৌমাছিরা ছুটে যায়। মিলনের পর পুরুষ মৌমাছির জননাঙ্গ ছিঁড়ে গিয়ে পুরুষ মৌমাছিটি মারা যায় এবং রানি মৌমাছি শুক্রাণু গ্রহণ করে চাকে ফিরে এসে ডিম পাড়া শুরু করে। - গ)
AI-তৈরি নমুনা উত্তর
উদ্দীপকে পাখিদের উপস্থাপিত বিষয়টি হলো ‘পরিযান’ বা ‘মাইগ্রেশন’।
কোনো নির্দিষ্ট ঋতুতে অনুকূল পরিবেশ, খাদ্যপ্রাপ্তি কিংবা প্রজননের জন্য পাখিদের এক ভৌগোলিক অঞ্চল থেকে অন্য অঞ্চলে সাময়িক স্থানান্তর এবং পুনরায় আদি আবাসে ফিরে আসাকে পরিযান বলে।
পাখিদের পরিযানের গুরুত্ব নিচে ব্যাখ্যা করা হলো:
১. খাদ্যের অন্বেষণ: শীতকালে চরম শীতপ্রধান অঞ্চলে তাপমাত্রা হিমাঙ্কের নিচে নেমে যায় এবং বরফে ঢাকা পড়ার কারণে খাদ্যাভাব দেখা দেয়। খাদ্য নিশ্চিত করতে পাখিরা তুলনামূলক উষ্ণ অঞ্চলে গমন করে।
২. প্রজনন ও বংশবৃদ্ধি: প্রতিকূল চরম আবহাওয়ায় ডিম ফুটে বাচ্চা বের হওয়া এবং টিকে থাকা অসম্ভব। তাই প্রজননের অনুকূল পরিবেশ ও ছানাদের নিরাপদে লালন-পালনের জন্য পরিযান অত্যন্ত জরুরি।
৩. প্রতিকূল আবহাওয়া এড়ানো: শৈত্যপ্রবাহ, অতিবৃষ্টি বা খরা থেকে নিজেদের দেহ রক্ষা করার উদ্দেশ্যে পাখিরা সুদূর পথ পাড়ি দেয়।
৪. জৈবিক বৈচিত্র্য ও পরাগায়ন: পরিযায়ী পাখিরা বিভিন্ন অঞ্চলে বীজ বিস্তার ও পরাগায়নে ভূমিকা রেখে বাস্তুতন্ত্রের ভারসাম্য রক্ষা করে।
সুতরাং, প্রতিকূলতা কাটিয়ে টিকে থাকা এবং বংশধর রক্ষার জন্যই পাখিরা পরিযান করে থাকে। - ঘ)
AI-তৈরি নমুনা উত্তর
উদ্দীপকে উল্লিখিত দ্বিতীয় প্রাণীটি হলো ‘মৌমাছি’। শিক্ষক মন্তব্য করেছিলেন— অন্যান্য প্রাণীর তুলনায় তাদের সামাজিক আচরণ অনেক উন্নত। মন্তব্যটি যথার্থ, যা নিচে বিশ্লেষণ করা হলো:
১. শ্রমবণ্টন (Division of labor): মৌমাছির কলোনিতে সুনির্দিষ্ট শ্রমবণ্টন দেখা যায়। একটি চাকে তিন ধরনের মৌমাছি থাকে:- রানি মৌমাছি: এরা আকারে বৃহত্তম এবং এদের প্রধান কাজ ডিম পাড়া ও বংশবৃদ্ধি করা।
- ড্রোন বা পুরুষ মৌমাছি: এদের একমাত্র কাজ রানি মৌমাছির সাথে সঙ্গমে লিপ্ত হওয়া।
- কর্মী মৌমাছি: এরা বন্ধ্যা স্ত্রী মৌমাছি। চাক নির্মাণ, ফুল থেকে মধু ও পরাগরেণু সংগ্রহ, রানি ও বাচ্চাদের পরিচর্যা, চাক পাহারা দেওয়া ও পরিষ্কার-পরিচ্ছন্ন রাখার সমস্ত দায়িত্ব সুশৃঙ্খলভাবে কর্মী মৌমাছিরাই পালন করে।
২. জটিল যোগাযোগ ব্যবস্থা: মৌমাছিরা নৃত্যের মাধ্যমে খাদ্যের উৎস ও দূরত্বের নিখুঁত সংকেত আদান-প্রদান করে। নোবেলজয়ী বিজ্ঞানী কার্ল ভন ফ্রিশ এটি আবিষ্কার করেন। খাদ্যের উৎস নিকটবর্তী হলে 'বৃত্তাকার নৃত্য' (Round dance) এবং ১০০ মিটারের বেশি দূরে হলে 'ওয়াগল নৃত্য' (Waggle dance) প্রদর্শন করে।
৩. কলোনির স্বার্থে নিঃস্বার্থ আত্মত্যাগ: কর্মী মৌমাছিরা নিজেদের জীবন বিপন্ন করে হুল ফুটিয়ে শত্রুর হাত থেকে মৌচাক রক্ষা করে এবং হুল ফোটার পর তাদের মৃত্যু ঘটে।
৪. পরিবেশ ও তাপমাত্রা নিয়ন্ত্রণ: কর্মী মৌমাছিরা পাখা ঝাপটে মৌচাকের ভেতরের আর্দ্রতা ও তাপমাত্রা নির্দিষ্ট মাত্রায় বজায় রাখে।
এরূপ সুসংগঠিত সমাজব্যবস্থা, পারস্পরিক সহযোগিতা ও চমৎকার যোগাযোগ দক্ষতার কারণে মৌমাছিকে অন্যতম উন্নত সামাজিক প্রাণী বলা হয়। তাই শিক্ষকের মন্তব্যটি সম্পূর্ণ যথার্থ।
আরও প্রশ্ন অনুশীলন করতে অ্যাপে যাও