যুক্তিবিদ্যা ২য় পত্র • Dinajpur Board • দিনাজপুর বোর্ড ২০২১

যুক্তিবিদ্যা ২য় পত্র প্রশ্ন

রফিক, করিম ও স্বপন 'কবি ও কবিতা' নিয়ে আলোচনা করছিল। রফিক বললো, "কবিরা হলেন সমাজের দর্পণ।" করিম বললো, "কবিরা হলেন বুদ্ধিবৃত্তিসম্পন্ন ভাবানুরাগী ও সৌন্দর্য পিপাসু মানুষ।" স্বপন বললো, “কবিরা হলেন বুদ্ধিবৃত্তিসম্পন্ন-জীব এবং কাব্য রচনা করা তাদের মূল কাজ।"

  1. ক)

    বর্ণনা কী?

    (1)
  2. খ)

    মানুষের মৌলিক অনুভূতি কেন সংজ্ঞায়িত করা যায় না?

    (2)
  3. গ)

    রফিকের বক্তব্যে যৌক্তিক সংজ্ঞার কোন নিয়মের অনুপপত্তি ঘটেছে? ব্যাখ্যা করো।

    (3)
  4. ঘ)

    করিম ও স্বপনের বক্তব্যে যে ত্রুটিপূর্ণ সংজ্ঞার প্রতিফলন ঘটেছে তাদের যৌক্তিকতা নিরূপণ করো।

    (4)

উত্তর ও ব্যাখ্যা

  1. ক)

    AI-তৈরি নমুনা উত্তর

    কোনো পদের আসন্নতম জাতি এবং তার লক্ষণ বা অবান্তর লক্ষণ উল্লেখ করে পদটির তাৎপর্য স্পষ্ট করার প্রক্রিয়াকে বর্ণনা বলে।

  2. খ)

    AI-তৈরি নমুনা উত্তর

    কোনো বিষয়ের যৌক্তিক সংজ্ঞা দিতে হলে তার আসন্নতম জাতি ও বিভেদক লক্ষণ উল্লেখ করতে হয়। মানুষের মৌলিক অনুভূতিসমূহ (যেমন- সুখ, দুঃখ, ভালোবাসা) সরল এবং এদের কোনো উপজাতি বা কোনো বিভেদক লক্ষণ নেই। এগুলোকে ক্ষুদ্রতর অংশে বা কোনো উচ্চতর জাতির অধীনে বিশ্লিষ্ট করা সম্ভব নয় বলে এদের সংজ্ঞা দেওয়া যায় না।

  3. গ)

    AI-তৈরি নমুনা উত্তর

    রফিকের বক্তব্যে যৌক্তিক সংজ্ঞার দ্বিতীয় নিয়মের লঙ্ঘনজনিত 'রূপক সংজ্ঞা অনুপপত্তি' (Fallacy of Figurative Definition) ঘটেছে।

    যৌক্তিক সংজ্ঞার দ্বিতীয় নিয়ম অনুযায়ী, যে পদের সংজ্ঞা দিতে হবে সে পদটি রূপক, দুর্বোধ্য বা অলংকারিক ভাষা দ্বারা ব্যাখ্যা করা যাবে না, সংজ্ঞা হতে হবে সহজ ও সরল।

    উদ্দীপকে রফিক বলেছে, "কবিরা হলেন সমাজের দর্পণ।" এখানে কবি পদের সংজ্ঞায় 'সমাজের দর্পণ' একটি অলংকারিক বা রূপক শব্দ ব্যবহার করা হয়েছে। কবির প্রকৃত অর্থ নির্দেশ না করে রূপক ব্যবহারের কারণে এখানে রূপক সংজ্ঞা অনুপপত্তি ঘটেছে।

  4. ঘ)

    AI-তৈরি নমুনা উত্তর

    করিম ও স্বপনের বক্তব্যে যৌক্তিক সংজ্ঞার যথাক্রমে 'আধিক্য সংজ্ঞা' (বা অবান্তর লক্ষণজনিত ত্রুটি) এবং 'অপ্রয়োজনীয়/ত্রুটিপূর্ণ অবান্তর লক্ষণ সংযোজন' ঘটেছে।

    প্রথমত, করিম বলেছে, "কবিরা হলেন বুদ্ধিবৃত্তিসম্পন্ন ভাবানুরাগী ও সৌন্দর্য পিপাসু মানুষ।" মানুষের আসন্নতম জাতি হলো জীব এবং লক্ষণ হলো বুদ্ধিবৃত্তি। কিন্তু কবি হতে হলে কেবল ভাবানুরাগী বা সৌন্দর্য পিপাসু হওয়া সংজ্ঞার্থ নয়, এগুলো কবির বিচ্ছেদ্য বা অবিচ্ছেদ্য অবান্তর লক্ষণ। সংজ্ঞায় আসন্নতম জাতি ও বিভেদক লক্ষণের অতিরিক্ত গুণ যুক্ত করায় এখানে 'আধিক্য সংজ্ঞা অনুপপত্তি' ঘটেছে।

    দ্বিতীয়ত, স্বপন বলেছে, “কবিরা হলেন বুদ্ধিবৃত্তিসম্পন্ন-জীব এবং কাব্য রচনা করা তাদের মূল কাজ।” এখানে বুদ্ধিবৃত্তিসম্পন্ন জীব দ্বারা মানুষকে বোঝায় এবং 'কাব্য রচনা করা' হলো কবির কর্মভিত্তিক লক্ষণ। এটি যথার্থ বিভেদক লক্ষণ (কাব্য রচনাকারী মানুষ) হলেও একই সাথে 'বুদ্ধিবৃত্তিসম্পন্ন-জীব' (মানুষের সংজ্ঞা) উল্লেখ করে বক্তব্যটি বিভ্রান্তিকর ও অতিরিক্ত তথ্যে ভারাক্রান্ত করা হয়েছে।

    অতএব, করিম ও স্বপন উভয়েই সংজ্ঞার মৌলিক নিয়মে জাত্যর্থের বাইরে অনাবশ্যক ও অবান্তর গুণাবলীর উল্লেখ করায় তাদের সংজ্ঞা যৌক্তিক মানদণ্ডে ত্রুটিপূর্ণ।

আরও প্রশ্ন অনুশীলন করতে অ্যাপে যাও

সম্পর্কিত প্রশ্ন