বাংলা ২য় পত্র • Jashore Board • যশোর বোর্ড ২০১৬

বাংলা ২য় পত্র প্রশ্ন

5.

একটি শীতের সকাল

উত্তর ও ব্যাখ্যা

AI-তৈরি নমুনা উত্তর

একটি শীতের সকাল

বাংলাদেশের ষড়ঋতুর বৈচিত্র্যে শীতকাল এক অনন্য রূপ নিয়ে আবির্ভূত হয়। আর শীতের সকাল তো নিজস্ব বৈশিষ্ট্য ও স্নিগ্ধতায় অতুলনীয়। রাতের কুয়াশার চাদর ভেদ করে যখন শীতের সকালের সূচনা হয়, তখন চারপাশের প্রকৃতি যেন এক শান্ত ও মায়াবী রূপ ধারণ করে।

শীতের সকালে প্রকৃতি থাকে ঘন কুয়াশায় আচ্ছন্ন। দূর-দূরান্তের গাছপালা, ঘরবাড়ি কিংবা পথঘাট সহজে চোখে পড়ে না। দূর থেকে ভেসে আসে পাখিদের মৃদু কাকলি। ঘাসের ডগায়, ধানের শীষে এবং বৃক্ষপল্লবে জমে থাকা শিশিরবিন্দু ভোরের মৃদু আলোয় মুক্তোদানার মতো জ্বলজ্বল করে। ধীরে ধীরে পূর্ব দিগন্তে রক্তিম সূর্য উদিত হয়। কুয়াশাচ্ছন্ন আকাশ চিরে যখন নরম সোনালি রোদ ছড়িয়ে পড়ে, তখন শীতের তীব্রতা কিছুটা কমে এসে এক অদ্ভুত মিষ্টি আরামের অনুভূতি সৃষ্টি হয়।

শীতের সকালের গ্রামীণ জীবন অত্যন্ত প্রাণবন্ত ও বৈচিত্র্যময়। গ্রামের মানুষ শীতের কাঁপুনি দূর করতে খড়কুটো জ্বালিয়ে আগুন পোহায়। কৃষক লাঙল-জোয়াল নিয়ে বা কাঁচি হাতে ছুটে চলে ফসলের মাঠে। গাছিরা খেজুর গাছ থেকে নামিয়ে আনে মিষ্টি রসের হাঁড়ি। ঘরে ঘরে শুরু হয় খেজুরের রসে ভেজা পিঠাপুলি, ভাপা ও চিতই পিঠার ধূমায়িত উৎসব। মা-দাদিদের হাতে তৈরি পিঠার মৌ মৌ গন্ধে চারপাশ ভরে ওঠে।

শহরে শীতের সকালের রূপ কিছুটা ভিন্ন হলেও তার আবেদন কম নয়। কুয়াশা ভেদ করে মানুষ প্রাতর্ভ্রমণে বের হয়। পথের ধারে ছোট ছোট দোকানে বসে ধোঁয়া ওঠা চায়ের আড্ডা এবং গরম ভাপা পিঠা বিক্রির ধুম পড়ে যায়। পথশিশু ও দরিদ্র মানুষদের জন্য শীতের সকাল কিছুটা কষ্টের হলেও লেপ-কম্বলের ওম ছেড়ে মিষ্টি রোদে বসা প্রতিটি মানুষের কাছেই এক অপার আনন্দের।

সংক্ষেপে বলা যায়, শীতের সকাল কেবল ঠাণ্ডা বা জড়তার প্রতীক নয়; বরং এটি পল্লীবাংলার চিরায়ত রূপ, পিঠাপুলির স্বাদ এবং স্নিগ্ধ রূপমাধুর্যের এক অপূর্ব মিলনমেলা। শীতের সকাল প্রতিটি বাঙালির হৃদয়ে এক অনন্য অনুভূতি ও স্মৃতি জাগিয়ে তোলে।

আরও প্রশ্ন অনুশীলন করতে অ্যাপে যাও

সম্পর্কিত প্রশ্ন