জীববিজ্ঞান ২য় পত্র • Chattogram Board • চট্টগ্রাম বোর্ড ২০২২
জীববিজ্ঞান ২য় পত্র প্রশ্ন

- ক)(1)
ম্যান্টল কী?
- খ)(2)
উভচর প্রাণীদেরকে এক্টোথার্মিক প্রাণী বলা হয় কেন?
- গ)(3)
উদ্দীপকে উল্লিখিত 'A' চিহ্নিত প্রাণী যে পর্বের অধীন তার শনাক্তকারী বৈশিষ্ট্যাবলি লেখো।
- ঘ)(4)
পোষক দেহে বসবাসের জন্য উদ্দীপকে বর্ণিত 'B' চিহ্নিত প্রাণীর মধ্যে পরিবর্তন লক্ষ করা যায়-উক্তিটির মূল্যায়ন কর।
উত্তর ও ব্যাখ্যা
- ক)
AI-তৈরি নমুনা উত্তর
মলাস্কা (Mollusca) পর্বের প্রাণীদের নরম ও মাংসল দেহকে আবৃত করে রাখা পাতলা ও মাংসল আবরণীকে ম্যান্টল (Mantle) বলে।
- খ)
AI-তৈরি নমুনা উত্তর
যেসব প্রাণীর দেহের তাপমাত্রা পরিবেশের তাপমাত্রার ওঠানামার সাথে পরিবর্তিত হয় এবং অভ্যন্তরীণভাবে নির্দিষ্ট থাকে না, তাদেরকে এক্টোথার্মিক (Ectothermic) বা শীতল রক্তবিশিষ্ট প্রাণী বলে।
উভচর (Amphibia) প্রাণীদের দেহে বিপাকীয় ক্রিয়ার মাধ্যমে দেহের নির্দিষ্ট তাপমাত্রা বজায় রাখার জন্য তাপ নিয়ন্ত্রণ ব্যবস্থা থাকে না। পরিবেশের তাপমাত্রা কমলে এদের দেহের তাপমাত্রাও কমে যায় এবং পরিবেশের তাপমাত্রা বাড়লে দেহের তাপমাত্রা বৃদ্ধি পায়। দেহের তাপমাত্রার জন্য তারা বহিঃস্থ পরিবেশের ওপর নির্ভরশীল হওয়ায় উভচর প্রাণীদের এক্টোথার্মিক প্রাণী বলা হয়।
- গ)
AI-তৈরি নমুনা উত্তর
উদ্দীপকে উল্লিখিত 'A' চিহ্নিত প্রাণীটি হলো অ্যাম্ফিঅক্সাস বা ব্র্যাঙ্কিওস্টোমা (Branchiostoma), যা কর্ডাটা (Chordata) পর্বের অন্তর্ভুক্ত।
কর্ডাটা (Chordata) পর্বের শনাক্তকারী বৈশিষ্ট্যাবলি নিচে উল্লেখ করা হলো:
১. নটোকর্ড: জীবনের যেকোনো দশায় বা আজীবন দেহের পৃষ্ঠমধ্যরেখা বরাবর দণ্ডাকার, স্থিতিস্থাপক ও নমনীয় নটোকর্ড বিদ্যমান থাকে। উন্নত কর্ডেটদের ক্ষেত্রে এটি পরবর্তীতে মেরুদণ্ড দ্বারা প্রতিস্থাপিত হয়।
২. স্নায়ুরজ্জু: নটোকর্ডের ঠিক উপরে পৃষ্ঠীয় ফাঁপা নলাকার স্নায়ুরজ্জু (Dorsal hollow nerve cord) থাকে, যা উন্নত প্রাণীতে মস্তিষ্ক ও সুষুম্নাকাণ্ডে রূপান্তরিত হয়।
৩. গলবিলীয় ফুলকা রন্ধ্র: ভ্রূণাবস্থায় অথবা আজীবন গলবিলের উভয় পাশে কয়েক জোড়া গলবিলীয় ফুলকারন্ধ্র থাকে।
৪. পায়ু-পশ্চাৎ লেজ: ভ্রূণাবস্থায় বা আজীবন পায়ুর পেছনে অবস্থিত পেশিবহুল লেজ বিদ্যমান থাকে।
৫. এন্ডোস্টাইল: গলবিলের মেঝেতে সিলিয়াযুক্ত এন্ডোস্টাইল থাকে, যা পরবর্তীতে থাইরয়েড গ্রন্থিতে রূপান্তরিত হয়। - ঘ)
AI-তৈরি নমুনা উত্তর
উদ্দীপকে বর্ণিত 'B' চিহ্নিত প্রাণীটি হলো গোলকৃমি (Ascaris lumbricoides), যা নেমাটোডা পর্বের একটি অন্যতম পরিচিত অন্তঃপরজীবী। পোষক দেহে সফলভাবে টিকে থাকা ও বংশবৃদ্ধির জন্য এর বিভিন্ন পরজীবী অভিযোজনিক (parasitic adaptation) পরিবর্তন লক্ষ করা যায়।
নিচে এ পরিবর্তনগুলো বিশ্লেষণ করা হলো:
১. পুরু কিউটিকল: পোষকের পরিপাকতন্ত্রের পাচক রস, অ্যাসিড ও এনজাইমের ক্ষতিকর প্রভাব থেকে নিজেদের দেহকে রক্ষা করতে এদের বহিঃত্বক পুরু, অকোশীয় ও প্রতিরক্ষামূলক কিউটিকল দ্বারা আবৃত থাকে।
২. সংবেদ অঙ্গ ও চলন অঙ্গের হ্রাস: পোষকের দেহের ভেতরে নিরাপদে সুরক্ষিত পরিবেশে বাস করায় বাহ্যিক চলন অঙ্গ, চোখ বা জটিল সংবেদনশীল অঙ্গের প্রয়োজনীয়তা লোপ পেয়েছে।
৩. শোষণীয় খাদ্য গ্রহণ: পোষকের পরিপাকনালীতে পরিপাককৃত পুষ্টি উপাদান সরাসরি গ্রহণ করার উপযোগী সোজা ও সরল পৌষ্টিকনালী বিদ্যমান।
৪. উন্নত জননতন্ত্র ও অধিক ডিম উৎপাদন: জীবনচক্রের জটিলতার কারণে পোষকের বাইরে প্রতিকূল পরিবেশে টিকে থেকে নতুন পোষকে প্রবেশের সুবিধার্থে এদের জননতন্ত্র অত্যন্ত সুগঠিত এবং এরা প্রতিদিন লক্ষ লক্ষ ডিম পাড়তে সক্ষম।
৫. অবাত শ্বসন: পোষকের অন্ত্রে অক্সিজেনের অনুপস্থিতি বা ঘাটতি থাকার কারণে এরা অবাত শ্বসন পদ্ধতিতে শক্তি উৎপাদন করে জীবন ধারণ করতে সক্ষম।সুতরাং, উপরোক্ত পরজীবী অভিযোজনিক পরিবর্তনগুলোর মাধ্যমেই প্রাণীটি পোষক দেহে কার্যকরভাবে বসবাস করে টিকে থাকে। তাই উক্তিটি যথার্থ ও মূল্যায়নযোগ্য।
আরও প্রশ্ন অনুশীলন করতে অ্যাপে যাও