অর্থনীতি ২য় পত্র • Cumilla Board • কুমিল্লা বোর্ড ২০১৯

অর্থনীতি ২য় পত্র প্রশ্ন

আশফাক সাহেবের নাতি ঈশান তার দাদার কাছে জানতে চাইল, বাংলাদেশ বৈদেশিক সাহায্য গ্রহণ করে কেন? আশফাক সাহেব উত্তর দিলেন যে বাংলাদেশের মতো উন্নয়নশীল দেশগুলোতে মূলধনের অভাব অত্যন্ত প্রকট। বাংলাদেশের রপ্তানি বাণিজ্যের ভিত্তিও ততটা শক্তিশালী নয়। রপ্তানি বাজারের সংকীর্ণতা, রপ্তানি পণ্যের স্বল্পতা, ভোগ্যপণ্য ও মূলধনী দ্রব্য আমদানি, আমদানিনির্ভর রপ্তানি দ্রব্য প্রভৃতি। কারণে আমদানি ব্যয়ের তুলনায় রপ্তানি আয় কম। ফলে বাণিজ্য ঘাটতি ক্রমশ বৃদ্ধি পাচ্ছে। অবকাঠামোগত উন্নয়ন, প্রাকৃতিক দুর্যোগ মোকাবিলা, মানবসম্পদ উন্নয়ন প্রভৃতি কারণেও বাংলাদেশকে বৈদেশিক সাহায্য গ্রহণ করতে হয়। তথাপি বৈদেশিক সাহায্য হ্রাস করে রপ্তানি বাণিজ্য সম্প্রসারণ করতে পারলে তা বাংলাদেশের জন্য মঙ্গলজনক হতো।

  1. ক)

    বিশ্বায়ন কী?

    (1)
  2. খ)

    দুটি দেশের মধ্যে বাণিজ্য সংঘটিত হয় কেন?

    (2)
  3. গ)

    বাংলাদেশ কেন বৈদেশিক সাহায্য গ্রহণ করে? উদ্দীপকের আলোকে ব্যাখ্যা করো।

    (3)
  4. ঘ)

    বাংলাদেশের জন্য বৈদেশিক সাহায্যের তুলনায় রপ্তানি বাণিজ্যের সম্প্রসারণ মঙ্গলজনক' - উক্তিটি কি যথার্থ? তোমার উত্তরের সপক্ষে যুক্তি দাও।

    (4)

উত্তর ও ব্যাখ্যা

  1. ক)

    AI-তৈরি নমুনা উত্তর

    বিশ্বায়ন হলো তথ্যপ্রযুক্তি, বাণিজ্য, বিনিয়োগ ও সংস্কৃতির আদান-প্রদানের মাধ্যমে বিশ্বের সকল দেশ ও অর্থনীতিকে একটি একক বিশ্বব্যবস্থায় একীভূত করার প্রক্রিয়া।

  2. খ)

    AI-তৈরি নমুনা উত্তর

    বিভিন্ন দেশের প্রাকৃতিক সম্পদ, জলবায়ু, প্রযুক্তি ও উৎপাদন খরচের পার্থক্যের কারণে আন্তর্জাতিক বাণিজ্যের উদ্ভব ঘটে। একটি দেশ সব ধরনের পণ্য সমদক্ষতায় ও কম খরচে উৎপাদন করতে পারে না। যে দেশ যে পণ্যটি তুলনামূলক কম খরচে উৎপাদনে দক্ষ, সে দেশ সেটি উৎপাদন করে উদ্বৃত্ত অংশ রপ্তানি করে এবং অন্য দেশ থেকে প্রয়োজনীয় পণ্য আমদানি করে। এভাবে উভয় দেশই বাণিজ্য থেকে লাভবান হওয়ার উদ্দেশ্যে দুটি দেশের মধ্যে বাণিজ্য সংঘটিত হয়।

  3. গ)

    AI-তৈরি নমুনা উত্তর

    উদ্দীপকের আলোকে বাংলাদেশের অভ্যন্তরীণ সঞ্চয়-বিনিয়োগের ব্যবধান ও বৈদেশিক মুদ্রার ঘাটতি মেটানোর জন্য বৈদেশিক সাহায্য গ্রহণ করা হয়।

    উদ্দীপকে উল্লেখিত কারণগুলোর মধ্যে প্রধান হলো—মূলধনের তীব্র অভাব, রপ্তানি আয়ের তুলনায় আমদানি ব্যয়ের আধিক্য এবং বাণিজ্য ঘাটতি। বাংলাদেশে ভোগ্যপণ্য, শিল্পকারখানার কাঁচামাল ও ভারী মূলধনী যন্ত্রপাতি আমদানি করতে বিপুল পরিমাণ বৈদেশিক মুদ্রার প্রয়োজন হয়; কিন্তু রপ্তানি পণ্যের সীমিত বৈচিত্র্য ও সংকীর্ণ বাজারের কারণে রপ্তানি আয় তুলনামূলক কম থাকে। ফলে বৈদেশিক লেনদেনে বড় ধরনের ঘাটতি দেখা দেয়। এছাড়া বৃহৎ অবকাঠামো নির্মাণ, দারিদ্র্য বিমোচন, প্রাকৃতিক দুর্যোগ মোকাবিলা ও মানবসম্পদ উন্নয়নে পর্যাপ্ত অভ্যন্তরীণ সম্পদের অপ্রতুলতার কারণে বাংলাদেশকে বৈদেশিক সাহায্যের ওপর নির্ভর করতে হয়।

  4. ঘ)

    AI-তৈরি নমুনা উত্তর

    'বাংলাদেশের জন্য বৈদেশিক সাহায্যের তুলনায় রপ্তানি বাণিজ্যের সম্প্রসারণ মঙ্গলজনক'—উক্তিটি অত্যন্ত যথার্থ।

    এর সপক্ষে নিম্নোক্ত যুক্তিগুলো তুলে ধরা হলো:
    ১. স্বনির্ভরতা অর্জন: বৈদেশিক সাহায্য বা ঋণ দেশের জন্য শর্তযুক্ত হতে পারে এবং দীর্ঘমেয়াদে সুদাসলে ঋণ পরিশোধের দায় বৃদ্ধি করে দেশের অর্থনীতির ওপর চাপ সৃষ্টি করে। বিপরীতে, রপ্তানি আয় বৃদ্ধির মাধ্যমে দেশ নিজস্ব শক্তিতে স্বাবলম্বী হতে পারে।
    ২. বাণিজ্য ঘাটতি হ্রাস: নিয়মিত ও বর্ধিত রপ্তানি আয় দেশের বৈদেশিক মুদ্রা অর্জনের পথ প্রশস্ত করে, যা ক্রমাগত বৃদ্ধি পাওয়া আমদানি ব্যয় ও বাণিজ্য ঘাটতি মোকাবিলায় সরাসরি অবদান রাখে।
    ৩. কর্মসংস্থান ও শিল্পায়ন: রপ্তানিমুখী শিল্প খাতের বিকাশ ঘটলে দেশে ব্যাপক কর্মসংস্থান সৃষ্টি হয়, অর্থনৈতিক সক্ষমতা বাড়ে এবং দারিদ্র্য হ্রাস পায়।
    ৪. মর্যাদাবান অর্থনীতি গঠন: বৈদেশিক সাহায্যের ওপর অতিরিক্ত নির্ভরতা দেশের অর্থনৈতিক সার্বভৌমত্ব ও নীতি নির্ধারণে পরোক্ষ প্রভাব ফেলে। রপ্তানি বাণিজ্যের প্রসার দেশকে পরনির্ভরশীলতা থেকে মুক্ত করে আন্তর্জাতিক পরিমণ্ডলে মর্যাদা বৃদ্ধি করে।

    অতএব, দীর্ঘমেয়াদে টেকসই অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধি নিশ্চিত করতে বৈদেশিক সাহায্যের পরিবর্তে রপ্তানি বাণিজ্যের বহুমুখীকরণ ও সম্প্রসারণই বাংলাদেশের অর্থনীতির জন্য সবচেয়ে মঙ্গলজনক কৌশল।

আরও প্রশ্ন অনুশীলন করতে অ্যাপে যাও

সম্পর্কিত প্রশ্ন