‍পৌরনীতি ও সুশাসন ২য় পত্র • Barishal Board • বরিশাল বোর্ড ২০২৫

‍পৌরনীতি ও সুশাসন ২য় পত্র প্রশ্ন

একটি ভূখণ্ডে দুটি সম্প্রদায়ের মানুষ বসবাস করত। তারা দীর্ঘদিন ধরে উপনিবেশিক শাসনের অধীনে ছিল। ঐ ভূখণ্ডের একটি সম্প্রদায়ের প্রতিনিধিত্বকারী দলের একজন নেতা ঐ ভূখন্ডের উত্তর-পশ্চিম ও পূর্বাঞ্চলে একাধিক স্বাধীন রাষ্ট্র গঠনের প্রস্তাব করেন।

  1. ক)

    ১৯৪৬ সালে ব্রিটিশ ভারতের কোন পরিকল্পনা প্রদান করা হয়?

    (1)
  2. খ)

    ১৯৪৭ সালের ভারত স্বাধীনতা আইনের গুরুত্ব ব্যাখ্যা করো। ২

    (2)
  3. গ)

    উদ্দীপকে তোমার পঠিত কোন ঐতিহাসিক প্রস্তাব প্রতিফলিত হয়েছে? ব্যাখ্যা করো। ৩

    (3)
  4. ঘ)

    পরবর্তী রাজনীতিতে উদ্দীপকে প্রতিফলিত প্রস্তাবের গুরুত্ব বিশ্লেষণ করো। ৪

    (4)

উত্তর ও ব্যাখ্যা

  1. ক)

    AI-তৈরি নমুনা উত্তর

    ১৯৪৬ সালে ব্রিটিশ ভারতে 'মন্ত্রী মিশন পরিকল্পনা' বা 'ক্যাবিনেট মিশন পরিকল্পনা' (Cabinet Mission Plan) প্রদান করা হয়।

  2. খ)

    AI-তৈরি নমুনা উত্তর

    ১৯৪৭ সালের ভারত স্বাধীনতা আইন ব্রিটিশ ঔপনিবেশিক শাসনের অবসান ঘটিয়ে ভারত ও পাকিস্তান নামে দুটি পৃথক ও স্বাধীন ডোমিনিয়ন সৃষ্টি করে। এই আইনের মাধ্যমে দীর্ঘ প্রায় দুই শত বছরের ব্রিটিশ শাসনের অবসান ঘটে, দেশীয় রাজ্যগুলোর ওপর ব্রিটিশ সার্বভৌমত্বের বিলুপ্তি ঘটে এবং উভয় রাষ্ট্রকে নিজস্ব সংবিধান রচনার পূর্ণ সার্বভৌম ক্ষমতা প্রদান করা হয়। ফলে উপমহাদেশের রাজনৈতিক ইতিহাসে এটি একটি যুগান্তকারী পরিবর্তন আনে।

  3. গ)

    AI-তৈরি নমুনা উত্তর

    উদ্দীপকে ১৯৪০ সালের ঐতিহাসিক 'লাহোর প্রস্তাব' প্রতিফলিত হয়েছে।

    ১৯৪০ সালের ২৩ মার্চ নিখিল ভারত মুসলিম লীগের লাহোর অধিবেশনে পাঞ্জাবের মুখ্যমন্ত্রী এ কে ফজলুল হক ঐতিহাসিক লাহোর প্রস্তাব উত্থাপন করেন। এই প্রস্তাবে বলা হয়, ভৌগোলিক অবস্থান অনুযায়ী সংলগ্ন এলাকাগুলোকে চিহ্নিত করে ভারতের উত্তর-পশ্চিম ও পূর্বাঞ্চলের মুসলিম সংখ্যাগরিষ্ঠ অঞ্চলগুলো নিয়ে স্বাধীন ও সার্বভৌম রাষ্ট্রসমূহ (Independent States) গঠন করতে হবে।

    উদ্দীপকে উল্লেখিত ভূখণ্ডের উপনিবেশিক শাসনকালে একটি সম্প্রদায়ের নেতা কর্তৃক উত্তর-পশ্চিম ও পূর্বাঞ্চলে একাধিক স্বাধীন রাষ্ট্র গঠনের যে প্রস্তাবের কথা বলা হয়েছে, তা মূলত শেরে বাংলা এ কে ফজলুল হক উত্থাপিত ১৯৪০ সালের লাহোর প্রস্তাবের মূল বক্তব্যকে প্রতিফলিত করে।

  4. ঘ)

    AI-তৈরি নমুনা উত্তর

    পরবর্তী রাজনীতিতে উদ্দীপকে প্রতিফলিত লাহোর প্রস্তাবের গুরুত্ব ছিল অপরিসীম ও সুদূরপ্রসারী।

    প্রথমত, লাহোর প্রস্তাব মুসলিম লীগের রাজনীতিতে একটি সুস্পষ্ট লক্ষ্য নির্ধারণ করে দেয়। এর ফলেই মুসলিম লীগ পৃথক আবাসভূমির দাবিতে সোচ্চার হয় এবং শেষ পর্যন্ত ১৯৪৭ সালে পাকিস্তান নামক রাষ্ট্রের জন্ম হয়।

    দ্বিতীয়ত এবং সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ দিক হলো, লাহোর প্রস্তাবে 'States' বা একাধিক স্বাধীন রাষ্ট্রের কথা বলা হয়েছিল। যদিও ১৯৪৬ সালে দিল্লির কনভেনশনে জিন্নাহ চাতুরতার সাথে একে একক 'রাষ্ট্র' (State)-এ রূপান্তর করেন, কিন্তু পূর্ব বাংলার জনগণ লাহোর প্রস্তাবের 'একাধিক রাষ্ট্র' ধারণাকে তাদের স্বাধিকারের ভিত্তি হিসেবে ধারণ করে।

    পরবর্তীতে ১৯৫২ সালের ভাষা আন্দোলন, ১৯৫৪ সালের যুক্তফ্রন্টের ২১ দফা, ১৯৬৬ সালের ঐতিহাসিক ৬ দফা কর্মসূচি এবং ১৯৭১ সালের মহান মুক্তিযুদ্ধ—বাঙালির স্বাধিকার থেকে স্বাধীনতা সংগ্রামের প্রতিটি স্তরেই লাহোর প্রস্তাবের মূল চেতনার প্রভাব প্রতিফলিত হয়েছে। সুতরাং, লাহোর প্রস্তাবই ছিল পরবর্তীতে স্বাধীন-সার্বভৌম বাংলাদেশ রাষ্ট্র প্রতিষ্ঠার মূল ঐতিহাসিক বীজ।

আরও প্রশ্ন অনুশীলন করতে অ্যাপে যাও

সম্পর্কিত প্রশ্ন