যুক্তিবিদ্যা ১ম পত্র • Sylhet Board • সিলেট বোর্ড ২০২৩
যুক্তিবিদ্যা ১ম পত্র প্রশ্ন
দৃষ্টান্ত-১ : সকল ভোটার হয় নাগরিকসুতরাং কোনো ভোটার নয় অ-নাগরিক
দৃষ্টান্ত-২ : সকল বাংলাদেশি হয় দেশপ্রেমিক আসাদ হয় বাংলাদেশিসুতরাং আসাদ হয় দেশপ্রেমিক
- ক)(1)
সহানুমানে কয়টি পদ থাকে?
- খ)(2)
অব্যাপ্য মধ্যপদজনিত অনুপপত্তি কীভাবে ঘটে ?
- গ)(3)
উদ্দীপকে দৃষ্টান্ত-১ যে অবরোহ অনুমানকে নির্দেশ করে তার বৈশিষ্ট্য ব্যাখ্যা কর।
- ঘ)(4)
পাঠ্যবইয়ের আলোকে দৃষ্টান্ত-১ ও দৃষ্টান্ত-২ এর মধ্যে পার্থক্য বিশ্লেষণ কর।
উত্তর ও ব্যাখ্যা
- ক)
AI-তৈরি নমুনা উত্তর
সহানুমানে তিনটি পদ থাকে। যথা: প্রধান পদ (Major term), অপ্রধান পদ (Minor term) এবং মধ্যপদ (Middle term)।
- খ)
AI-তৈরি নমুনা উত্তর
সহানুমানের একটি অন্যতম মৌলিক নিয়ম হলো মধ্যপদকে আশ্রয়বাক্যদ্বয়ের মধ্যে অন্তত একবার ব্যাপ্য হতে হবে। কিন্তু কোনো যুক্তিতে মধ্যপদটি যদি প্রধান বা অপ্রধান কোনো আশ্রয়বাক্যেই অন্তত একবারও ব্যাপ্য না হয়, তবে যুক্তিতে যে অনুপপত্তি দেখা দেয় তাকে 'অব্যাপ্য মধ্যপদজনিত অনুপপত্তি' (Fallacy of Undistributed Middle) বলে। এর ফলে প্রধান ও অপ্রধান পদের মধ্যে কোনো সুনির্দিষ্ট যৌক্তিক সম্পর্ক স্থাপিত হতে পারে না।
- গ)
AI-তৈরি নমুনা উত্তর
উদ্দীপকের দৃষ্টান্ত-১ (সকল ভোটার হয় নাগরিক, সুতরাং কোনো ভোটার নয় অ-নাগরিক) অবরোহ অনুমানের অন্তর্ভুক্ত 'অমাধ্যম অনুমান' (বিশেষভাবে 'প্রতিবর্তন' বা Obversion)-কে নির্দেশ করে।
প্রতিবর্তনমূলক অমাধ্যম অনুমানের প্রধান বৈশিষ্ট্যসমূহ নিচে ব্যাখ্যা করা হলো:
১. আশ্রয়বাক্যের সংখ্যা: এতে একটিমাত্র আশ্রয়বাক্য থেকে সরাসরি কোনো মাধ্যম ছাড়াই সিদ্ধান্ত নিঃসৃত হয়।
২. উদ্দেশ্য পদের অপরিবর্তনীয়তা: আশ্রয়বাক্যের (প্রতিবর্তনীয়) উদ্দেশ্য পদ সিদ্ধান্তের (প্রতিবর্তিত) উদ্দেশ্য পদ হিসেবে অপরিবর্তিত থাকে (যেমন: 'ভোটার')।
৩. বিধেয় পদের পরিবর্তন: আশ্রয়বাক্যের বিধেয় পদের বিরুদ্ধ পদটি সিদ্ধান্তের বিধেয় পদ হিসেবে ব্যবহৃত হয় (যেমন: 'নাগরিক'-এর বিরুদ্ধ পদ 'অ-নাগরিক')।
৪. গুণের পরিবর্তন: আশ্রয়বাক্য সদর্থক হলে সিদ্ধান্ত নঞর্থক হয় এবং আশ্রয়বাক্য নঞর্থক হলে সিদ্ধান্ত সদর্থক হয়। এখানে সদর্থক 'A' বাক্য নঞর্থক 'E' বাক্যে রূপান্তরিত হয়েছে।
৫. পরিমাণের সমতা: আশ্রয়বাক্য ও সিদ্ধান্তের পরিমাণ একই থাকে; আশ্রয়বাক্য সার্বিক হলে সিদ্ধান্তও সার্বিক হয়। - ঘ)
AI-তৈরি নমুনা উত্তর
উদ্দীপকের দৃষ্টান্ত-১ হলো অমাধ্যম অবরোহ অনুমান (প্রতিবর্তন) এবং দৃষ্টান্ত-২ হলো মাধ্যম অবরোহ অনুমান (নিরপেক্ষ সহানুমান)। পাঠ্যবইয়ের আলোকে এদের মধ্যকার পার্থক্য নিচে বিশ্লেষণ করা হলো:
১. আশ্রয়বাক্যের সংখ্যা: দৃষ্টান্ত-১ এ একটিমাত্র আশ্রয়বাক্য থেকে সরাসরি সিদ্ধান্ত টানা হয়েছে। পক্ষান্তরে, দৃষ্টান্ত-২ এ দুটি আশ্রয়বাক্যের (প্রধান ও অপ্রধান) সমন্বয়ে সিদ্ধান্তটি নিঃসৃত হয়েছে।
২. মধ্যপদের উপস্থিতি: দৃষ্টান্ত-১ অমাধ্যম অনুমান হওয়ায় এখানে কোনো মধ্যপদের প্রয়োজন নেই। কিন্তু দৃষ্টান্ত-২ সহানুমান হওয়ায় এখানে দুটি পদের সম্পর্ক নির্ণয়ের জন্য একটি সাধারণ সংযোগকারী পদ বা মধ্যপদ (যেমন: 'বাংলাদেশি') বিদ্যমান রয়েছে।
৩. সিদ্ধান্ত প্রক্রিয়ার ধরন: দৃষ্টান্ত-১ এ আশ্রয়বাক্যের অর্থকে রূপান্তরের মাধ্যমে সরাসরি প্রকাশ করা হয়েছে। অন্যদিকে দৃষ্টান্ত-২ এ দুটি আশ্রয়বাক্যের সার্বিক ও বিশেষ সম্পর্কের তুলনার মাধ্যমে একটি নতুন সিদ্ধান্ত অনুমিত হয়েছে।
৪. জ্ঞানের ব্যাপকতা: অমাধ্যম অনুমানে (দৃষ্টান্ত-১) নতুন কোনো ধারণার উন্মেষ ঘটে না, কেবল আশ্রিত বক্তব্যটির রূপান্তর ঘটে। পক্ষান্তরে, মাধ্যম অনুমানে (দৃষ্টান্ত-২) একাধিক ধারণাকে সমন্বিত করে নতুন এক ধরনের যৌক্তিক সিদ্ধান্তের দিকে অগ্রসর হওয়া যায়।অতএব, দৃষ্টান্ত দুটি অবরোহ অনুমানের দুটি ভিন্ন রূপ—একটি অমাধ্যম অনুমান এবং অন্যটি মাধ্যম অনুমান।
আরও প্রশ্ন অনুশীলন করতে অ্যাপে যাও