ইসলাম • Rajshahi Board • রাজশাহী বোর্ড ২০২৪
ইসলাম প্রশ্ন
বিদ্যালয়ের শিক্ষাসপ্তাহ পালনের সময় প্রধান অতিথি তার বক্তৃতায় আত্মমর্যাদাসম্পন্ন জাতি গঠনের নিমিত্তে জ্ঞানীদের ভূয়সী প্রশংসা করেন। তিনি তার বক্তৃতায় প্রথমত এমন একজন ব্যক্তির কথা উল্লেখ করেন, যিনি তার কাজের জন্য সারা রাষ্ট্রময় সুখ্যাতি অর্জন করেন। ফলে তার দেশের রাষ্ট্রপ্রধান তাঁকে রাজদরবারে গিয়ে জ্ঞানের শিক্ষা দেয়ার জন্য বলেন। কিন্তু আত্মমর্যাদাবোধের কারণে তিনি তা প্রত্যাখ্যান করেন। দ্বিতীয়ত প্রধান অতিথি অপর একজন জ্ঞানীর কথা বলেন, যিনি রাষ্ট্রের বিভিন্ন আইনের তত্ত্বকে বোর্ড গঠনের মাধ্যমে জনসাধরণের কাছে সহজভাবে তুলে ধরেন। পরবর্তীতে ঐ দেশের সরকার তাকে বিচারপতির পদ দিতে চাইলে তিনি তা গ্রহণ করেননি। পরিশেষে প্রধান অতিথি বলেন, উভয় জ্ঞানীই আত্মমর্যাদাবোধকে সমুন্নত রেখেছেন।
- ক)(1)
খুলাফায়ে রাশেদিন বলতে কী বোঝ?
- খ)(2)
হযরত উমর (রা)-কে 'ফারুক' উপাধি দেয়া হয়েছিল কেন?
- গ)(3)
প্রধান অতিথির আলোচনায় প্রথমোক্ত ব্যক্তির মধ্যে কোন মনীষীর আদর্শ ফুটে উঠেছে? ব্যাখ্যা করো।
- ঘ)(4)
দ্বিতীয়জন সম্পর্কে প্রধান অতিথির মন্তব্যের সঠিকতা সংশ্লিষ্ট মনীষীর জীবনাদর্শের আলোকে নিরূপণ করো।
উত্তর ও ব্যাখ্যা
- ক)
রাসুল (স)-এর ইন্তেকালের পর যে চারজন যোগ্য সাহাবি ইসলামি রাষ্ট্র পরিচালনা করেছেন, তাঁদের খুলাফায়ে রাশেদিন বলা হয়। তাঁরা হলেন হযরত আবু বকর, উমর, উসমান ও আলী (রা)।
- খ)
ইসলাম গ্রহণের পর হযরত উমর (রা) গোপনে ইবাদতের পরিবর্তে প্রকাশ্যে ইবাদত করার ব্যবস্থা করেন। তাঁর ইসলাম গ্রহণের ফলে মুসলমানরা কাবার সামনে প্রকাশ্যে সালাত আদায় করতে সক্ষম হন। তিনি হক ও বাতিলের মধ্যে স্পষ্ট পার্থক্য করেছিলেন। ফারুক অর্থ পার্থক্যকারী। এ কারণে রাসুল (স) তাঁকে 'ফারুক' উপাধি দেন।
- গ)
প্রথমোক্ত ব্যক্তির মধ্যে ইমাম মালিক (র)-এর আদর্শ ফুটে উঠেছে।
ইমাম মালিক (র) হাদিস শাস্ত্রের একজন মহান জ্ঞানী। তাঁর খ্যাতি সারা রাষ্ট্রে ছড়িয়ে পড়েছিল। খলিফা তাঁকে রাজদরবারে গিয়ে জ্ঞান শেখানোর অনুরোধ করলে তিনি বলেছিলেন, জ্ঞানের কাছে মানুষ আসে, জ্ঞান মানুষের কাছে যায় না। জ্ঞানের মর্যাদা ও আত্মসম্মান রক্ষায় তিনি রাজদরবারে যেতে রাজি হননি। উদ্দীপকের ব্যক্তিও রাষ্ট্রপ্রধানের আহ্বান আত্মমর্যাদাবোধের কারণে প্রত্যাখ্যান করেছেন। তাই তাঁর সাথে ইমাম মালিকের আদর্শের মিল রয়েছে।
- ঘ)
দ্বিতীয়জনের মধ্যে ইমাম আবু হানিফা (র)-এর আদর্শ প্রতিফলিত হয়েছে। প্রধান অতিথির মন্তব্য, তিনি আত্মমর্যাদাবোধ সমুন্নত রেখেছেন, যথার্থ।
১. আইন সংকলন: ইমাম আবু হানিফা (র) কুরআন ও হাদিসের আলোকে ফিকহ শাস্ত্রকে সুসংহত করেন। তিনি বিশিষ্ট শিষ্যদের নিয়ে একটি বোর্ড গঠন করে আলোচনার ভিত্তিতে আইন তৈরি করেন, যা জনসাধারণের কাছে সহজ ছিল। উদ্দীপকের জ্ঞানীও বোর্ড গঠন করে আইনের তত্ত্ব সহজভাবে তুলে ধরেছেন।
২. পদ প্রত্যাখ্যান: শাসকের পক্ষ থেকে বিচারপতির পদের প্রস্তাব পেয়েও তিনি তা গ্রহণ করেননি। কারণ তিনি নীতি ও স্বাধীন মত বিসর্জন দিতে রাজি ছিলেন না।
৩. আত্মমর্যাদা: রাজকীয় সুবিধা গ্রহণ না করে তিনি জ্ঞানের স্বাধীনতা ও মর্যাদা রক্ষা করেছেন।সুতরাং, দ্বিতীয়জনের আত্মমর্যাদাবোধ সম্পর্কে প্রধান অতিথির মন্তব্য ইমাম আবু হানিফা (র)-এর জীবনাদর্শের আলোকে সঠিক।
আরও প্রশ্ন অনুশীলন করতে অ্যাপে যাও