উৎপাদন ব্যাবস্থাপনা ও বিপণন ১ম পত্র • Chattogram Board • চট্টগ্রাম বোর্ড ২০১৬
উৎপাদন ব্যাবস্থাপনা ও বিপণন ১ম পত্র প্রশ্ন
'ক' প্রতিষ্ঠানের উৎপাদন সম্পর্কিত তথ্য নিম্নরূপ—প্রতিষ্ঠানটি ২০১৫ সালে ১৪,০০০ একক পণ্য উৎপাদন করে। প্রতিযোগী প্রতিষ্ঠানগুলো 'ক' প্রতিষ্ঠানের তুলনায় কম মূল্যে পণ্য বিক্রয় করায় প্রতিষ্ঠানটির অনেক পণ্য অবিক্রীত থাকে। ফলে প্রতিষ্ঠানটি ব্যাপক ক্ষতির সম্মুখীন হয়।

- ক)(1)
মাঝারি এন্টারপ্রাইজ কী?
- খ)(2)
মাত্রাজনিত ব্যয়-সংকোচ ধারণাটি ব্যাখ্যা করো।
- গ)(3)
'ক' প্রতিষ্ঠানের কাম্য উৎপাদন মাত্রা কত? ব্যাখ্যা করো।
- ঘ)(4)
'ক' প্রতিষ্ঠানের ১৪,০০০ একক পণ্য উৎপাদনের সিদ্ধান্তের সঠিকতা মূল্যায়ন করো।
উত্তর ও ব্যাখ্যা
- ক)
AI-তৈরি নমুনা উত্তর
জাতীয় শিল্পনীতি ২০১০ অনুযায়ী, উৎপাদনমুখী শিল্পের ক্ষেত্রে যেসব প্রতিষ্ঠানে জমি এবং কারখানা ভবন ব্যতিরেকে স্থায়ী সম্পদের মূল্য প্রতিস্থাপন ব্যয়সহ ১০ কোটি টাকার অধিক এবং সর্বোচ্চ ৩০ কোটি টাকা কিংবা যেসব শিল্প প্রতিষ্ঠানে ১০০-২৫০ জন শ্রমিক নিয়োজিত রয়েছে, সেগুলোকে মাঝারি এন্টারপ্রাইজ বলে। (অথবা সেবা খাতের ক্ষেত্রে স্থায়ী সম্পদ ১ কোটি থেকে ১৫ কোটি টাকা এবং ৫০-১২০ জন শ্রমিক)।
- খ)
AI-তৈরি নমুনা উত্তর
উৎপাদনের মাত্রা বৃদ্ধির ফলে গড় উৎপাদন ব্যয় হ্রাস পাওয়ার অবস্থাকে মাত্রাজনিত ব্যয়-সংকোচ (Economies of Scale) বলা হয়।
একটি প্রতিষ্ঠান যখন তার উৎপাদনের পরিমাণ ক্রমান্বয়ে বৃদ্ধি করে, তখন বৃহদায়তন উৎপাদনের বিভিন্ন অভ্যন্তরীণ ও বাহ্যিক সুযোগ-সুবিধা সৃষ্টি হয়। যেমন—কাঁচামাল পাইকারি মূল্যে ক্রয়ের সুবিধা, আধুনিক যন্ত্রপাতির পূর্ণ ব্যবহার, বিশেষজ্ঞ কর্মী নিয়োগ এবং দক্ষ ব্যবস্থাপনার সুযোগ ঘটে। এর ফলে প্রতিষ্ঠানের স্থির ব্যয় বেশি সংখ্যক এককের মধ্যে বণ্টিত হয় এবং একক প্রতি বা গড় উৎপাদন ব্যয় হ্রাস পায়। একেই মাত্রাজনিত ব্যয়-সংকোচ বলে।
- গ)
AI-তৈরি নমুনা উত্তর
উদ্দীপকে প্রদত্ত চিত্রমতে 'ক' প্রতিষ্ঠানের কাম্য উৎপাদন মাত্রা হলো ১২,০০০ একক।
উৎপাদনের যে নির্দিষ্ট স্তরে বা মাত্রায় প্রতিষ্ঠানের একক প্রতি বা গড় উৎপাদন ব্যয় সর্বনিম্ন হয়, তাকে কাম্য উৎপাদন মাত্রা (Optimum Scale of Production) বলে। এই মাত্রায় উৎপাদনের ক্ষেত্রে প্রতিষ্ঠান উৎপাদন দক্ষতার সর্বোচ্চ শিখরে পৌঁছায়।
উদ্দীপকের চিত্রে দেখা যায়, 'ক' প্রতিষ্ঠান যখন ৮,০০০ একক পণ্য উৎপাদন করে, তখন একক প্রতি ব্যয় হয় ১৫ টাকা। উৎপাদন বৃদ্ধি পেয়ে ১২,০০০ একক হলে একক প্রতি ব্যয় সর্বনিম্ন অর্থাৎ ১৩ টাকায় নেমে আসে। পরবর্তীতে উৎপাদন আরো বৃদ্ধি পেয়ে ১৬,০০০ একক হলে একক প্রতি ব্যয় বেড়ে ১৬ টাকা হয়ে যায়। যেহেতু ১২,০০০ একক উৎপাদনের স্তরে একক প্রতি ব্যয় সর্বনিম্ন (১৩ টাকা), তাই 'ক' প্রতিষ্ঠানের কাম্য উৎপাদন মাত্রা হলো ১২,০০০ একক।
- ঘ)
AI-তৈরি নমুনা উত্তর
'ক' প্রতিষ্ঠানের ১৪,০০০ একক পণ্য উৎপাদনের সিদ্ধান্তটি সঠিক ছিল না; বরং তা অদূরদর্শী ও অলাভজনক সিদ্ধান্ত ছিল।
সাধারণত কাম্য উৎপাদন মাত্রায় উৎপাদন করলে একক প্রতি উৎপাদন ব্যয় সর্বনিম্ন রাখা সম্ভব হয়, যা বাজারে প্রতিযোগিতামূলক মূল্যে পণ্য বিক্রয়ে সহায়তা করে। কিন্তু কাম্য মাত্রার অতিরিক্ত উৎপাদন করলে মাত্রাজনিত ব্যয়-বৃদ্ধির (Diseconomies of scale) কারণে একক প্রতি ব্যয় বৃদ্ধি পায়। ফলে বাজারে প্রতিযোগিতায় টিকে থাকা কঠিন হয়ে পড়ে।
উদ্দীপকে দেখা যাচ্ছে, 'ক' প্রতিষ্ঠানের কাম্য উৎপাদন মাত্রা ১২,০০০ একক, যেখানে একক প্রতি ব্যয় সর্বনিম্ন ১৩ টাকা। কিন্তু প্রতিষ্ঠানটি ২০১৫ সালে কাম্য মাত্রা অতিক্রম করে ১৪,০০০ একক পণ্য উৎপাদন করে। এর ফলে মাত্রাজনিত ব্যয়-বৃদ্ধির কারণে তাদের একক প্রতি উৎপাদন ব্যয় ১৩ টাকার চেয়ে বৃদ্ধি পায়। ফলে প্রতিষ্ঠানটি পণ্যের বিক্রয়মূল্য বেশি নির্ধারণ করতে বাধ্য হয়। অন্যদিকে প্রতিযোগী প্রতিষ্ঠানগুলো কম মূল্যে পণ্য সরবরাহ করায় 'ক' প্রতিষ্ঠানের বিপুল পরিমাণ পণ্য অবিক্রীত থেকে যায় এবং প্রতিষ্ঠানটি ব্যাপক আর্থিক ক্ষতির সম্মুখীন হয়। প্রতিষ্ঠানটি যদি কাম্য মাত্রা অর্থাৎ ১২,০০০ একক পণ্য উৎপাদন করত, তবে তারা সর্বনিম্ন খরচে পণ্য উৎপাদন করে প্রতিযোগিতামূলক দামে বিক্রি করতে পারত।
অতএব, কাম্য উৎপাদন মাত্রাকে উপেক্ষা করে ১৪,০০০ একক পণ্য উৎপাদনের সিদ্ধান্তটি 'ক' প্রতিষ্ঠানের জন্য সম্পূর্ণ ভুল এবং অযৌক্তিক ছিল।
আরও প্রশ্ন অনুশীলন করতে অ্যাপে যাও