বাংলা ১ম পত্র • Dinajpur Board • দিনাজপুর বোর্ড ২০২২
বাংলা ১ম পত্র প্রশ্ন
মহাকাব্য ‘রামায়ণ’-এ বর্ণিত হয়েছে-রাবণ যখন রাম-ল²ণের আক্রমণ থেকেলংকা রাজ্য রক্ষায় সবংশে প্রাণপাত করে চলেছেন, তখন তাঁরই সহোদর বিভীষণরামের পক্ষ অবলম্বন করে দেশের গোপন খবর ও নগরে প্রবেশের গোপন পথেরসন্ধান রামকে জানিয়ে দিচ্ছে। শেষ পর্যন্ত রামের নিকট রাবণ পরাজিত হন।
- ক)(1)
“রাশিয়ার ছিল জেনারেল উইনটার, আমাদের জেনারেল ।”- শূন্যস্থানে কী হবে?
- খ)(2)
“সত্যি বলেছে? আমার নাম বলেছে?”-নুরুল হুদার এ উত্তেজনার কারণ ব্যাখ্যা কর।
- গ)(3)
উদ্দীপকের বিভীষণ ও ‘রেইনকোট’ গল্পের প্রিন্সিপ্যালের মধ্যে মিল আছে কি? বুঝিয়ে দাও।
- ঘ)(4)
“পরিণতি বিচারে উদ্দীপক ও ‘রেইনকোট’ গল্পে পার্থক্য বিদ্যমান।”-উক্তিটির যথার্থতা নিরূপণ কর।
উত্তর ও ব্যাখ্যা
- ক)
AI-তৈরি নমুনা উত্তর
“রাশিয়ার ছিল জেনারেল উইনটার, আমাদের জেনারেল মৌসুন।” অর্থাৎ শূন্যস্থানে ‘মৌসুন’ (বা মনসুন) হবে।
- খ)
AI-তৈরি নমুনা উত্তর
আখতারুজ্জামান ইলিয়াসের ‘রেইনকোট’ গল্পে প্রিন্সিপাল ড. আফাজ আহমদ নুরুল হুদাকে তলব করলে পিয়ন ইসহাক জানায় যে, জবেদ আলী তাকে ডেকেছে এবং নুরুল হুদার নাম বলেছে। জবেদ আলী আলমারি তোলার জন্য কুলি আনতে গিয়ে মিসক্রিয়ান্ট অর্থাৎ মুক্তিযোদ্ধাদের সাথে যোগাযোগ করেছে—এমন সন্দেহে নুরুল হুদা শঙ্কিত হয়ে পড়েন। নিজের মুক্তিযোদ্ধা শ্যালক বা গেরিলাদের সাথে তার কোনো যোগসাজশ ফাঁস হয়ে গেল কি না, সেই আতঙ্ক ও উৎকণ্ঠা থেকেই নুরুল হুদা এমন তীব্র উত্তেজনা প্রকাশ করেন।
- গ)
AI-তৈরি নমুনা উত্তর
উদ্দীপকের বিভীষণ ও ‘রেইনকোট’ গল্পের প্রিন্সিপ্যাল ড. আফাজ আহমদের মধ্যে স্বজাতির বিরুদ্ধে গিয়ে হানাদার বা শত্রুপক্ষের তোষণ ও তাদের কাছে তথ্য পাচার/সহযোগিতার দিক থেকে স্পষ্ট মিল রয়েছে।
উদ্দীপকে দেখা যায়, রাম-রাবণের যুদ্ধে লঙ্কা রাজ্যের রক্ষক রাবণের সহোদর বিভীষণ নিজের দেশের স্বার্থ জলাঞ্জলি দিয়ে শত্রু রামের পক্ষ নেয় এবং দেশের অভ্যন্তরীণ গোপন খবরাখবর রামকে জানিয়ে দেয়।
‘রেইনকোট’ গল্পে প্রিন্সিপাল ড. আফাজ আহমদ ছিলেন পাকিস্তানি হানাদার বাহিনীর একনিষ্ঠ দোসর ও দালাল। কলেজের অভ্যন্তরে মুক্তিযোদ্ধাদের তৎপরতা (যেমন আলমারি নামানোর ছলে কুলিদের সাথে গেরিলা যোগাযোগ ও বিস্ফোরণ) সম্পর্কে সে পাকিস্তানি মিলিটারিকে সমস্ত গোপন খবর অবহিত করে এবং সহকর্মী শিক্ষকদের তলব করিয়ে সন্দেহভাজন নুরুল হুদাকে পাকিস্তানি সেনাদের হাতে তুলে দেয়। এভাবে বিভীষণ ও প্রিন্সিপাল উভয়েই নিজ ভূখণ্ড ও দেশের মানুষের সঙ্গে বিশ্বাসঘাতকতা করে শত্রুর পদলেহন করেছে, যার ফলে তাদের মধ্যে চারিত্রিক মিল পরিলক্ষিত হয়।
- ঘ)
AI-তৈরি নমুনা উত্তর
“পরিণতি বিচারে উদ্দীপক ও ‘রেইনকোট’ গল্পে পার্থক্য বিদ্যমান।”—উক্তিটি যথার্থ।
উদ্দীপকের কাহিনীতে দেখা যায়, বিভীষণের বিশ্বাসঘাতকতার ফলে শেষ পর্যন্ত রাবণ পরাজিত হন এবং শত্রুপক্ষ রামের বিজয় অর্জিত হয়। অর্থাৎ বিশ্বাসঘাতকের সহায়তায় বহিঃশত্রুর জয়লাভের মধ্য দিয়ে আখ্যানের চরম পরিণতি টানা হয়েছে।
পক্ষান্তরে, ‘রেইনকোট’ গল্পে প্রিন্সিপাল আফাজ আহমদের বিশ্বাসঘাতকতা এবং পাকিস্তানি বাহিনীর অমানুষিক নির্যাতন সত্ত্বেও দেশের স্বাধীনতাকামী মানুষের মনোবল ভাঙা যায়নি। বরং কলেজ শিক্ষক নুরুল হুদা, যিনি ভীতু প্রকৃতির ছিলেন, মুক্তিযোদ্ধাদের রেইনকোট পরিধান করার পর দেশপ্রেমে উজ্জীবিত হন। পাকিস্তানি মিলিটারির নির্মম প্রহার ও ঝুলিয়ে পেটানোর মধ্যেও তিনি মুক্তিযোদ্ধাদের কোনো তথ্য প্রকাশ করেননি, বরং তার মাঝে জন্ম নেয় গভীর উষ্ণতা ও স্বাধীনতা সংগ্রামের প্রতি অদম্য প্রত্যয়। গল্পটিতে বিভীষণের মতো বিশ্বাসঘাতকের সহযোগীদের জয় নয়, বরং বাঙালির মুক্তিচেতনার অবিনাশী রূপ ও মুক্তিযুদ্ধের অবশ্যম্ভাবী বিজয়ের ইঙ্গিত দিয়ে সমাপ্তি ঘটেছে।
সুতরাং, উদ্দীপকে বিশ্বাসঘাতকতার পরিণতিতে মাতৃভূমির পরাজয় দেখানো হলেও ‘রেইনকোট’ গল্পে শত্রুর পৈশাচিকতার মুখে দেশপ্রেমের অনমনীয় বিজয়ের ইঙ্গিত থাকায় পরিণতি বিচারে দুইয়ের মধ্যে সুস্পষ্ট পার্থক্য বিদ্যমান।
আরও প্রশ্ন অনুশীলন করতে অ্যাপে যাও