জীববিজ্ঞান ২য় পত্র • Mymensingh Board • ময়মনসিংহ বোর্ড ২০২২

জীববিজ্ঞান ২য় পত্র প্রশ্ন

বিবর্তনিক গতিপথ> সরীসৃপ > [A] >পাখি

  1. ক)

    বিবর্তন কী?

    (1)
  2. খ)

    নিষ্ক্রিয় অঙ্গ বলতে কী বোঝ ?

    (2)
  3. গ)

    উদ্দীপকের 'A' প্রাণীটিকে সংযোগকারী যোগসূত্র বলা হয়— ব্যাখ্যা করো।

    (3)
  4. ঘ)

    উদ্দীপকটি গতিপথের সপক্ষে দুটি প্রমাণ বিশ্লেষণ কর।

    (4)

উত্তর ও ব্যাখ্যা

  1. ক)

    AI-তৈরি নমুনা উত্তর

    যে মন্থর, জটিল ও গতিশীল প্রক্রিয়ায় সরল প্রকৃতির আদিম জীব থেকে ক্রমান্বয়ে ধারাবাহিক পরিবর্তনের মাধ্যমে জটিল ও উন্নত নতুন প্রজাতির জীবের উৎপত্তি ঘটে, তাকে জৈব বিবর্তন বা বিবর্তন বলে।

  2. খ)

    AI-তৈরি নমুনা উত্তর

    জীবদেহের যেসব অঙ্গ অতীতে পূর্বপুরুষের দেহে সুগঠিত ও সক্রিয় ছিল, কিন্তু বিবর্তনের ধারায় পরিবর্তিত পরিবেশে অপ্রয়োজনীয় হয়ে বর্তমানে অকার্যকর, সংকুচিত বা অবশেষরূপে অবস্থান করে, সেগুলোকে নিষ্ক্রিয় অঙ্গ (Vestigial organ) বলে। যেমন— মানুষের অ্যাপেন্ডিক্স, চোখের উপপল্লব (নিকটিটেটিং পর্দা) এবং লেজের অবশেষ কক্সিস।

  3. গ)

    AI-তৈরি নমুনা উত্তর

    উদ্দীপকের ছকে সরীসৃপ ও পাখির মধ্যবর্তী প্রাণী 'A' হলো আর্কিওপটেরিক্স (Archaeopteryx)। আর্কিওপটেরিক্সকে সরীসৃপ ও পাখির মধ্যবর্তী সংযোগকারী যোগসূত্র (Connecting link) বলা হয়, কারণ এর দেহে উভয় শ্রেণির বৈশিষ্ট্য বিদ্যমান ছিল।

    ১. সরীসৃপীয় বৈশিষ্ট্য:

    • এর চোয়ালে দাঁত ছিল।
    • অগ্রপদে নখযুক্ত আঙুল উপস্থিত ছিল।
    • লেজটি লম্বা এবং একাধিক স্বতন্ত্র কশেরুকা দ্বারা গঠিত ছিল।
    • অস্থিসমূহ নিরেট ছিল (বায়ু কুঠুরিবিহীন)।

    ২. পক্ষীজাতীয় বৈশিষ্ট্য:

    • দেহটি পালকে আবৃত ছিল।
    • অগ্রপদ ডানায় রূপান্তরিত হয়েছিল।
    • চোয়াল চঞ্চুতে (beak) পরিণত হয়েছিল।
    • গ্রীবা 'S' আকৃতির এবং করোটি পাখির মতো হালকা ছিল।

    যেহেতু আর্কিওপটেরিক্সের দেহে একই সাথে সরীসৃপ এবং আধুনিক পাখির সুস্পষ্ট গঠনগত বৈশিষ্ট্যের সমাবেশ ঘটেছিল, তাই এটি প্রমাণ করে যে সরীসৃপ থেকেই পাখির উৎপত্তি হয়েছে। এ কারণে আর্কিওপটেরিক্সকে এই দুই পর্বের মধ্যবর্তী সংযোগকারী যোগসূত্র বলা হয়।

  4. ঘ)

    AI-তৈরি নমুনা উত্তর

    উদ্দীপকের বিবর্তনিক গতিপথটি হলো: সরীসৃপ > পাখি (সরীসৃপ থেকে পাখির উৎপত্তি)। এই গতিপথের সপক্ষে দুটি বলিষ্ঠ বৈজ্ঞানিক প্রমাণ নিচে বিশ্লেষণ করা হলো:

    ১. জীবাশ্মঘটিত প্রমাণ (Palaeontological Evidence):
    জীবাশ্ম হলো অতীতে বিলুপ্ত জীবের পাথুরে প্রমাণ। জার্মানির ব্যাভেরিয়ার জুরাসিক যুগের চুনাপাথরে আবিষ্কৃত 'আর্কিওপটেরিক্স' (Archaeopteryx)-এর জীবাশ্ম সরীসৃপ থেকে পাখির উৎপত্তির প্রত্যক্ষ প্রমাণ দেয়। আর্কিওপটেরিক্সে একই সঙ্গে সরীসৃপের মতো চোয়ালে দাঁত, লম্বা লেজ ও নখযুক্ত আঙুল এবং পাখির মতো পালক, ডানা ও চঞ্চু উপস্থিত ছিল। এই মধ্যবর্তী রূপটি নিশ্চিত করে যে জুরাসিক যুগে সরীসৃপের কোনো এক শাখা পরিবর্তিত হয়ে ক্রমান্বয়ে পাখিতে রূপান্তরিত হয়েছিল।

    ২. তুলনামূলক শারীরস্থানিক প্রমাণ (Comparative Anatomical Evidence):
    পাখি ও সরীসৃপের শারীরস্থানিক গঠনে গভীর সাদৃশ্য রয়েছে। পাখির পায়ের ত্বকে এপিডার্মাল আঁইশ বিদ্যমান, যা সম্পূর্ণভাবে সরীসৃপের আঁইশের অনুরূপ। উভয়েরই করোটিতে একটিমাত্র অক্সিপিটাল কন্ডাইল থাকে এবং ডিম ইউরিওটেলিক ও শক্ত চুনযুক্ত খোলস দ্বারা আবৃত থাকে। এছাড়া পাখির অগ্রপদের অস্থির বিন্যাস (হিউমেরাস, রেডিয়াস-আলনা, কার্পাল ও ফ্যালাঞ্জেস) সরীসৃপের অগ্রপদের সাথে সমসংস্থ প্রকৃতির।

    সুতরাং, জীবাশ্মতাত্ত্বিক ও তুলনামূলক শারীরস্থানিক প্রমাণ দুটি অত্যন্ত স্পষ্টভাবে প্রমাণ করে যে আধুনিক পাখির পূর্বপুরুষ ছিল সরীসৃপ।

আরও প্রশ্ন অনুশীলন করতে অ্যাপে যাও

সম্পর্কিত প্রশ্ন