পৌরনীতি ও সুশাসন ২য় পত্র • Rajshahi Board • রাজশাহী বোর্ড ২০২৩
পৌরনীতি ও সুশাসন ২য় পত্র প্রশ্ন

- ক)(1)
বাংলাদেশের মন্ত্রিসভার প্রধান কে?
- খ)(2)
সাংবিধানিক প্রতিষ্ঠান বলতে কী বোঝায়?
- গ)(3)
উদ্দীপকে প্রশ্ন চিহ্নিত (?) স্থানে কোন প্রতিষ্ঠানকে ইঙ্গিত করা হয়েছে? উক্ত প্রতিষ্ঠানের গঠন প্রক্রিয়া ব্যাখ্যা কর।
- ঘ)(4)
উক্ত প্রতিষ্ঠানের সামগ্রিক কার্যাবলী বিশ্লেষণ কর।
উত্তর ও ব্যাখ্যা
- ক)
AI-তৈরি নমুনা উত্তর
বাংলাদেশের মন্ত্রিসভার প্রধান হলেন প্রধানমন্ত্রী।
- খ)
AI-তৈরি নমুনা উত্তর
যেসব প্রতিষ্ঠান দেশের সর্বোচ্চ আইন বা সংবিধানের প্রত্যক্ষ বিধান বা নির্দেশনার মাধ্যমে সৃষ্টি হয় এবং সংবিধান থেকেই তাদের ক্ষমতা, দায়িত্ব ও কর্মপরিধি লাভ করে, সেগুলোকে সাংবিধানিক প্রতিষ্ঠান বলা হয়। যেমন—বাংলাদেশ নির্বাচন কমিশন, বাংলাদেশ সরকারি কর্ম কমিশন (BPSC), মহাহিসাব নিরীক্ষক ও নিয়ন্ত্রকের কার্যালয় ইত্যাদি। এ প্রতিষ্ঠানগুলোর মর্যাদা সংবিধানে সুরক্ষিত থাকে এবং সাধারণ আইনের মাধ্যমে এদের বিলুপ্ত করা যায় না।
- গ)
AI-তৈরি নমুনা উত্তর
উদ্দীপকে প্রশ্নচিহ্নিত (?) স্থানে সাংবিধানিক প্রতিষ্ঠান হিসেবে 'বাংলাদেশ সরকারি কর্ম কমিশন' (Bangladesh Public Service Commission - BPSC)-কে ইঙ্গিত করা হয়েছে।
বাংলাদেশ সরকারি কর্ম কমিশনের গঠন প্রক্রিয়া:
সংবিধানের ১৩৭ নং অনুচ্ছেদ অনুযায়ী বাংলাদেশে এক বা একাধিক সরকারি কর্ম কমিশন প্রতিষ্ঠার বিধান রয়েছে। বর্তমানে একটি কমিশন কার্যকর রয়েছে।
১. সদস্য সংখ্যা: সংবিধানের ১৩৮(১) অনুচ্ছেদ অনুযায়ী রাষ্ট্রপতি কর্তৃক নির্ধারিত সংখ্যক সদস্য ও একজন সভাপতি নিয়ে কর্ম কমিশন গঠিত হয়। আইন অনুযায়ী বর্তমানে একজন সভাপতি এবং সর্বনিম্ন ৬ জন ও সর্বোচ্চ ১৫ জন সদস্য নিয়ে এটি গঠিত হতে পারে।
২. নিয়োগ: রাষ্ট্রপতি কর্ম কমিশনের সভাপতি ও অন্যান্য সদস্যদের নিয়োগ দেন।
৩. যোগ্যতা ও শর্ত: সংবিধানের ১৩৮(২) অনুচ্ছেদ অনুসারে, কমিশনের মোট সদস্য সংখ্যার অন্তত অর্ধেকাংশ এমন ব্যক্তি হবেন, যাঁরা প্রজাতন্ত্রের কর্মে অন্তত ২০ বছর দায়িত্ব পালন করেছেন।
৪. মেয়াদ: সংবিধানের ১৩৯(১) অনুচ্ছেদ অনুযায়ী সভাপতি ও সদস্যদের মেয়াদ দায়িত্ব গ্রহণের তারিখ থেকে ৫ বছর বা তাঁদের বয়স ৬৫ বছর পূর্ণ হওয়া—যেটি আগে ঘটে। - ঘ)
AI-তৈরি নমুনা উত্তর
উদ্দীপকে ইঙ্গিতকৃত প্রতিষ্ঠানটি হলো 'বাংলাদেশ সরকারি কর্ম কমিশন' (BPSC)। সংবিধানের ১৪০ অনুচ্ছেদ অনুযায়ী প্রজাতন্ত্রের বেসামরিক কর্মে যোগ্য জনবল নিয়োগ ও প্রশাসন সংক্রান্ত পরামর্শ প্রদানে প্রতিষ্ঠানটি গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে। নিম্নে এর সামগ্রিক কার্যাবলী বিশ্লেষণ করা হলো:
১. পরীক্ষা পরিচালনা ও প্রার্থী বাছাই: প্রজাতন্ত্রের কর্মে (বিশেষ করে বিসিএস এবং ৯ম-১২তম গ্রেডের বিভিন্ন পদে) উপযুক্ত ও যোগ্য প্রার্থী নির্বাচনের উদ্দেশ্যে লিখিত, মৌখিক এবং মনোদৈহিক পরীক্ষা পরিচালনা করা কমিশনের প্রধান কাজ।
২. পরামর্শমূলক দায়িত্ব: রাষ্ট্রপতি কর্তৃক কমিশনের নিকট কোনো বিষয়ে পরামর্শ চাওয়া হলে সংবিধান অনুযায়ী কমিশন রাষ্ট্রপতিকে পরামর্শ দিয়ে থাকে। বিশেষ করে:
ক. প্রজাতন্ত্রের কর্মের যোগ্যতার শর্ত ও নিয়োগ পদ্ধতি প্রণয়ন;
খ. এক কর্ম হতে অন্য কর্মে পদোন্নতি বা বদলির নীতি নির্ধারণ;
গ. সরকারি কর্মচারীদের শৃঙ্খলা ও আচরণ সংক্রান্ত বিষয়াদি;
ঘ. পেনশন ও অন্যান্য সুযোগ-সুবিধার দাবি সংক্রান্ত বিষয়াদি।৩. উপযুক্ততা যাচাই: প্রজাতন্ত্রের কর্মে নিয়োগ বা পদোন্নতির জন্য সংশ্লিষ্ট প্রার্থীর উপযুক্ততা যাচাই ও সুপারিশ করা।
৪. বার্ষিক প্রতিবেদন পেশ: প্রতি বছর মার্চ মাসের পূর্বে পূর্ববর্তী বছরের সামগ্রিক কার্যাবলী ও প্রদত্ত পরামর্শ সম্পর্কিত একটি বার্ষিক প্রতিবেদন রাষ্ট্রপতির নিকট পেশ করা, যা পরবর্তীতে জাতীয় সংসদে উত্থাপিত হয়।
সুতরাং, মেধাভিত্তিক, দক্ষ ও জবাবদিহিতামূলক জনপ্রশাসন গড়ে তোলার ক্ষেত্রে বাংলাদেশ সরকারি কর্ম কমিশনের ভূমিকা অত্যন্ত তাৎপর্যপূর্ণ ও কার্যকর।
আরও প্রশ্ন অনুশীলন করতে অ্যাপে যাও