বাংলা ১ম পত্র • Dhaka Board • ঢাকা বোর্ড ২০২৩

বাংলা ১ম পত্র প্রশ্ন

পুনর্মিলন অনুষ্ঠানের প্রস্তাবনা, পরিকল্পনা, প্রযোজনা ও কর্মপন্থা নির্ধারণে পাঁচ মাস ধরে নিরলসভাবে কাজ করে আয়োজন প্রায় সম্পন্ন করে রেখেছে রতন। বন্ধুদের মিলনমেলা আয়োজন তার জন্য যেমন কষ্টসাধ্য কাজ ছিল, তেমনি এতে স্বপ্নপূরণের আনন্দও ছিল অফুরান। অনুষ্ঠান নিয়ে কোনো ভাবনা, উত্তেজনা বা উচ্ছ্বাস নেই আজ তার মনে। কারণ অনুষ্ঠানের আগেই তার মা পৃথিবী ছেড়ে চলে গেছেন। মা যেন দূর আকাশে মুখ রেখে বাতাসে ঘুরে বেড়াচ্ছেন।

  1. ক)

    'ফুটেছে কী আমের মুকুল'? উক্তিটি কার?

    (1)
  2. খ)

    “যদিও এসেছে তবু তুমি তারে করিলে বৃথাই” - কীভাবে?

    (2)
  3. গ)

    উদ্দীপক ও তাহারেই পড়ে মনে কবিতার মধ্যে সাদৃশ্য কোথায়?

    (3)
  4. ঘ)

    “প্রিয়জনের বিয়োগব্যথা আমাদের আনন্দ – আয়োজনের গতি ভিন্ন পথে ধাবিত করতে পারে। ” - “তাহারেই পড়ে মনে” কবিতা ও উদ্দীপকের আলোকে মন্তব্যটি বিশ্লেষণ কর।

    (4)

উত্তর ও ব্যাখ্যা

  1. ক)

    AI-তৈরি নমুনা উত্তর

    'ফুটেছে কী আমের মুকুল?'—উক্তিটি কবি সুফিয়া কামালের (বা 'তাহারেই পড়ে মনে' কবিতার কবির)।

  2. খ)

    AI-তৈরি নমুনা উত্তর

    বসন্তের মনোলোভা রূপ ও আগমনকে কবি কোনো বরণডালা বা কবিতার স্তবকে সাদরে গ্রহণ না করে অগ্রাহ্য করায় কবিভক্ত এ কথা বলেছেন।

    ‘তাহারেই পড়ে মনে’ কবিতায় প্রকৃতির নিয়মে ঋতুরাজ বসন্তের আগমন ঘটলেও কবির মন ছিল তীব্র বিষাদগ্রস্ত ও উদাসীন। প্রিয়জন হারানোর বেদনায় কাতর কবি বসন্তকে বরণ করে কোনো গান বাঁধেননি বা কোনো কাব্য রচনা করেননি। তাঁর এই উদাসীনতা ও নীরবতার কারণে বসন্তের আগমন অর্থহীন ও বৃথা হয়ে পড়েছে বোঝাতেই কবিভক্ত ক্ষোভ ও আক্ষেপ নিয়ে উক্তিটি করেছিলেন।

  3. গ)

    AI-তৈরি নমুনা উত্তর

    উদ্দীপক ও ‘তাহারেই পড়ে মনে’ কবিতার মধ্যে মূল সাদৃশ্য হলো—প্রিয়জন হারানোর গভীর শোক এবং তার ফলে সৃষ্ট উৎসব ও আনন্দের প্রতি তীব্র অনীহা বা উদাসীনতা।

    ‘তাহারেই পড়ে মনে’ কবিতায় ঋতুরাজ বসন্তের অনুপম রূপ ও আগমন সত্ত্বেও কবি কোনো আনন্দ অনুভব করতে পারেন না; কারণ তাঁর জীবনে ঘটে গেছে প্রিয়জনের চিরবিদায়। প্রিয় মানুষের শূন্যতায় প্রকৃতি ও জীবনের সমস্ত সৌন্দর্য তাঁর কাছে অর্থহীন মনে হয়।

    উদ্দীপকের রতনও বন্ধুদের নিয়ে একটি মিলনমেলার দীর্ঘ ও আনন্দদায়ক পরিকল্পনা সফলভাবে সম্পন্ন করেছিল। কিন্তু হঠাৎ মায়ের মৃত্যুতে তার সমস্ত আনন্দ, উত্তেজনা ও উচ্ছ্বাস কর্পূরের মতো মিলিয়ে যায়। অতএব, প্রিয়জনের বিয়োগব্যথায় জীবনের সমস্ত আয়োজন ও উৎসবের আনন্দ ম্লান হয়ে যাওয়ার অনুভূতির দিক থেকেই উদ্দীপক ও কবিতার মধ্যে সাদৃশ্য বিদ্যমান।

  4. ঘ)

    AI-তৈরি নমুনা উত্তর

    “প্রিয়জনের বিয়োগব্যথা আমাদের আনন্দ-আয়োজনের গতি ভিন্ন পথে ধাবিত করতে পারে”—উক্তিটি ‘তাহারেই পড়ে মনে’ কবিতা ও উদ্দীপকের আলোকে গভীরভাবে সত্য ও যথার্থ।

    মানুষের মনস্তত্ত্ব গভীরভাবে আবেগের সাথে যুক্ত। জীবনের সবচেয়ে বড় আঘাত যখন আসে প্রিয় মানুষকে হারানোর মাধ্যমে, তখন জাগতিক কোনো আয়োজন, উৎসব বা প্রকৃতির অপার রূপসুধাও সেই বেদনার ওপর প্রলেপ দিতে পারে না; বরং সমস্ত আনন্দকে রূপান্তর করে গভীর বিষাদে।

    ‘তাহারেই পড়ে মনে’ কবিতায় কবি সুফিয়া কামাল বসন্তের বিপুল ঐশ্বর্য ও আনন্দের মাঝেও কোনো উচ্ছ্বাস প্রকাশ করতে পারেননি। তাঁর সাহিত্যসাধনা ও জীবনের পরম প্রেরণা ছিলেন তাঁর স্বামী সৈয়দ নেহাল হোসেন। স্বামীর অকালমৃত্যুর শূন্যতা কবির হৃদয়কে এতটাই আচ্ছন্ন করে রেখেছিল যে প্রকৃতির আনন্দময় আহ্বানে সাড়া দেওয়ার বদলে তিনি কেবল স্মৃতি ও কান্নায় নিমজ্জিত ছিলেন।

    উদ্দীপকের রতনের ক্ষেত্রেও একই মানসিক রূপান্তর লক্ষ করা যায়। পাঁচ মাস ধরে যে পুনর্মিলনী উৎসবের জন্য সে নিরলস প্রস্তুতি নিয়েছিল, যার জন্য সে রোমাঞ্চিত ছিল, মায়ের আকস্মিক মৃত্যুতে সেই সমস্ত আয়োজন তার কাছে পুরোপুরি অর্থহীন হয়ে পড়ে। আনন্দ-উচ্ছ্বাসের পরিবর্তে তার হৃদয় ভরে ওঠে মায়ের স্মৃতির হাহাকারে।

    সুতরাং উভয় ক্ষেত্রেই প্রমাণিত হয় যে, শোকের তীব্রতা মানুষের প্রাত্যহিক আবেগ, আনন্দ ও আয়োজনের গতিপথকে বদলে দিয়ে তাকে গভীর শূন্যতা ও উদাসীনতার দিকে পরিচালিত করে। তাই প্রশ্নোক্ত মন্তব্যটি সর্বাংশে সত্য।

আরও প্রশ্ন অনুশীলন করতে অ্যাপে যাও

সম্পর্কিত প্রশ্ন