যুক্তিবিদ্যা ১ম পত্র • Rajshahi Board • রাজশাহী বোর্ড ২০২৩
যুক্তিবিদ্যা ১ম পত্র প্রশ্ন
একাদশ শ্রেণির মানবিক শাখার শিক্ষার্থী তারেক তার সহপাঠী আবিরের সাথে কথোপকথনে বলল, "যুক্তিবিদ্যা আমাদের অনুমানের নিয়মগুলো শিক্ষা দেয়, এটি যথাযথ ও সুশৃঙ্খল আলোচনা করে।" আবির বলল, "যুক্তিবিদ্যার রয়েছে তাত্ত্বিক ও ব্যবহারিক দিক।"
- ক)(1)
যুক্তিবিদ্যার জনক কে?
- খ)(2)
আদর্শনিষ্ঠ বিজ্ঞান বলতে কী বোঝ?
- গ)(3)
উদ্দীপকে তারেকের বক্তব্যে যুক্তিবিদ্যার কোন স্বরূপটি প্রকাশ পেয়েছে? ব্যাখ্যা কর।
- ঘ)(4)
উদ্দীপকে আবিরের বক্তব্য পাঠ্যবইয়ের আলোকে বিশ্লেষণ কর।
উত্তর ও ব্যাখ্যা
- ক)
AI-তৈরি নমুনা উত্তর
যুক্তিবিদ্যার জনক হলেন গ্রিক দার্শনিক এরিস্টটল।
- খ)
AI-তৈরি নমুনা উত্তর
যে বিজ্ঞান কোনো একটি নির্দিষ্ট আদর্শ বা মানদণ্ডের ওপর ভিত্তি করে তার আলোচ্য বিষয়টির মূল্যায়ন করে, তাকে আদর্শনিষ্ঠ বিজ্ঞান (Normative Science) বলে। যেমন— যুক্তিবিদ্যা সত্যের আদর্শকে সামনে রেখে সঠিক চিন্তার নিয়মাবলি আলোচনা করে এবং ভুল অনুমান বা যুক্তি পরিহার করার পথ নির্দেশ করে।
- গ)
AI-তৈরি নমুনা উত্তর
উদ্দীপকে তারেকের বক্তব্যে যুক্তিবিদ্যার 'বিজ্ঞান' রূপটি বা 'তাত্ত্বিক স্বরূপ' প্রকাশ পেয়েছে।
বিজ্ঞান হলো কোনো বিষয় সম্পর্কিত সুশৃঙ্খল, সুবিন্যস্ত ও নিশ্চিত জ্ঞান, যা সাধারণ নিয়মের ওপর প্রতিষ্ঠিত। তারেক তার বক্তব্যে বলেছে, "যুক্তিবিদ্যা আমাদের অনুমানের নিয়মগুলো শিক্ষা দেয়, এটি যথাযথ ও সুশৃঙ্খল আলোচনা করে।"
যুক্তিবিদ্যা চিন্তন প্রক্রিয়ার সাধারণ নিয়মাবলি প্রণয়ন করে এবং যুক্তির বৈধতা বা অবৈধতা বিচারের সঠিক পদ্ধতি ও নিয়ম আবিষ্কার করে। যুক্তিবিদ্যা যখন অনুমানের প্রকৃতি, প্রকারভেদ এবং নিয়মের সুশৃঙ্খল আলোচনা করে, তখন তা তাত্ত্বিক জ্ঞানের পরিমণ্ডলে অবস্থান করে বিজ্ঞানের ভূমিকা পালন করে। অতএব, তারেকের বক্তব্যে যুক্তিবিদ্যার তাত্ত্বিক ও বিজ্ঞানসম্মত রূপটিই স্পষ্ট হয়ে উঠেছে।
- ঘ)
AI-তৈরি নমুনা উত্তর
উদ্দীপকে আবিরের বক্তব্যটি হলো— "যুক্তিবিদ্যার রয়েছে তাত্ত্বিক ও ব্যবহারিক দিক।" পাঠ্যবইয়ের আলোকে বক্তব্যটি যথার্থ ও সুপ্রতিষ্ঠিত, কারণ যুক্তিবিদ্যা একই সাথে একটি বিজ্ঞান এবং একটি কলা।
১. তাত্ত্বিক দিক (বিজ্ঞান হিসেবে যুক্তিবিদ্যা):
বিজ্ঞান যেমন কোনো সুনির্দিষ্ট বিষয়ের সাধারণ নিয়মাবলি আবিষ্কার ও প্রণয়ন করে, যুক্তিবিদ্যাও তেমনি সঠিক চিন্তা বা অনুমানের সাধারণ নিয়মাবলি আবিষ্কার ও সুশৃঙ্খলভাবে উপস্থাপন করে। এটি সত্য অর্জনের তাত্ত্বিক ভিত্তি দেয়। আবিরের তাত্ত্বিক দিকের উল্লেখ এই বিজ্ঞানসম্মত দিকটির কথাই বলে।২. ব্যবহারিক দিক (কলা হিসেবে যুক্তিবিদ্যা):
কলা হলো কোনো কাজ সুনিপুণভাবে সম্পাদনের প্রায়োগিক কৌশল। যুক্তিবিদ্যা কেবল তাত্ত্বিক নিয়ম আবিষ্কার করেই ক্ষান্ত থাকে না, বরং বাস্তব জীবনে কীভাবে সেই নিয়মগুলো প্রয়োগ করে সঠিক যুক্তি গঠন করতে হয় এবং কুযুক্তি বা অনুপপত্তি পরিহার করতে হয়, তার প্রায়োগিক কলাকৌশল শিক্ষা দেয়। এটি যুক্তি প্রয়োগের ব্যবহারিক দিক।যুক্তিবিদ অলড্রিচ, মিল প্রমুখের মতে যুক্তিবিদ্যা বিজ্ঞান ও কলা উভয়ই। যুক্তিবিদ্যা তত্ত্বীয়ভাবে সত্যের নিয়ম নির্ধারণ করে এবং বাস্তবে তা প্রয়োগের শিক্ষা দেয়।
সুতরাং, আবিরের বক্তব্য যুক্তিবিদ্যার মূল স্বরূপের যথার্থ প্রতিফলন বহন করে।
আরও প্রশ্ন অনুশীলন করতে অ্যাপে যাও