‍পৌরনীতি ও সুশাসন ২য় পত্র • Jashore Board • যশোর বোর্ড ২০২১

‍পৌরনীতি ও সুশাসন ২য় পত্র প্রশ্ন

  1. ক)

    পাকিস্তানে প্রথম সংবিধান রচিত হয় কত সালে?

    (1)
  2. খ)

    দ্বৈতশাসন বলতে কী বোঝ?

    (2)
  3. গ)

    উদ্দীপকে '?' চিহ্ন ব্রিটিশ ভারতের যে আইনের সাথে সাদৃশ্যপূর্ণ তার কার্যকারিতা ব্যাখ্যা করো।

    (3)
  4. ঘ)

    উদ্দীপকে সাদৃশ্যপূর্ণ আইন প্রবর্তনের ফলে ব্রিটিশ ভারতের শাসন ব্যবস্থায় কী প্রভাব পড়েছিল বলে তুমি মনে করো?

    (4)

উত্তর ও ব্যাখ্যা

  1. ক)

    AI-তৈরি নমুনা উত্তর

    পাকিস্তানে প্রথম সংবিধান রচিত হয় ১৯৫৬ সালে (২৩ মার্চ ১৯৫৬ সালে কার্যকর হয়)।

  2. খ)

    AI-তৈরি নমুনা উত্তর

    দ্বৈতশাসন (Dyarchy) বলতে একই শাসনব্যবস্থায় দুটি পৃথক কর্তৃপক্ষের শাসন বা ক্ষমতা বিভাজনকে বোঝায়। ব্রিটিশ ভারতে ১৯১৯ সালের ভারত শাসন আইনের মাধ্যমে প্রদেশগুলোতে এবং পরবর্তীতে ১৯৩৫ সালের আইনের মাধ্যমে কেন্দ্রে এই ব্যবস্থা প্রবর্তন করা হয়। এর অধীনে শাসন সংক্রান্ত বিষয়গুলোকে দুভাগে ভাগ করা হতো— 'সংরক্ষিত' (Reserved) বিষয়সমূহ, যা গভর্নর বা গভর্নর-জেনারেলের মনোনীত কার্যনির্বাহী পরিষদের হাতে ন্যস্ত থাকত এবং 'হস্তান্তরিত' (Transferred) বিষয়সমূহ, যা আইনসভার প্রতি জবাবদিহিমূলক নির্বাচিত মন্ত্রীদের দ্বারা পরিচালিত হতো।

  3. গ)

    AI-তৈরি নমুনা উত্তর

    উদ্দীপকের '?' চিহ্নিত অংশে নির্দেশিত আইনটি হলো ১৯৩৫ সালের ভারত শাসন আইন (Government of India Act 1935)। এই আইনের মূল বৈশিষ্ট্যগুলো ছিল সর্বভারতীয় যুক্তরাষ্ট্র গঠন, প্রাদেশিক স্বায়ত্তশাসন, কেন্দ্রে দ্বৈতশাসন, শক্তিশালী গভর্নর জেনারেল পদ এবং নতুন প্রদেশ গঠন (যেমন: সিন্ধু ও উড়িষ্যা গঠন এবং বার্মাকে পৃথকীকরণ)।

    আইনটির কার্যকারিতা:
    ১৯৩৫ সালের ভারত শাসন আইনের অনেকগুলো প্রস্তাবনা প্রণীত হলেও সবগুলোর কার্যকারিতা সমান ছিল না। প্রধান দুটি ক্ষেত্রে এর কার্যকারিতা ছিল নিম্নরূপ:
    ১. সর্বভারতীয় যুক্তরাষ্ট্র ও কেন্দ্রে দ্বৈতশাসন সংক্রান্ত ব্যর্থতা: আইনে ভারতীয় প্রদেশ ও দেশীয় রাজ্যগুলোর সমন্বয়ে একটি সর্বভারতীয় যুক্তরাষ্ট্র গঠনের কথা বলা হয়েছিল। কিন্তু দেশীয় রাজ্যগুলোর সিংহভাগ এতে যোগ দিতে অস্বীকৃতি জানানোয় প্রস্তাবিত ফেডারেশন এবং কেন্দ্রে দ্বৈতশাসন কার্যকর হতে পারেনি। ফলে কেন্দ্রীয় পর্যায়ে পুরোনো ১৯১৯ সালের আইনের কাঠামোই কার্যত বহাল থাকে।
    ২. প্রাদেশিক স্বায়ত্তশাসনের কার্যকারিতা: ১৯৩৭ সালে এ আইনের ভিত্তিতে প্রাদেশিক পরিষদসমূহে নির্বাচন অনুষ্ঠিত হয়। এর মাধ্যমে প্রদেশগুলোতে প্রাদেশিক স্বায়ত্তশাসন কার্যকর হয় এবং নির্বাচিত প্রতিনিধিদের হাতে মন্ত্রিসভার দায়িত্ব অর্পিত হয়। যদিও গভর্নরের বিশেষ ক্ষমতা প্রাদেশিক স্বায়ত্তশাসনের আদর্শকে কিছুটা ক্ষুণ্ন করেছিল, তবুও আইনটির প্রাদেশিক অংশ কার্যকরভাবে বাস্তবায়িত হয়েছিল।

  4. ঘ)

    AI-তৈরি নমুনা উত্তর

    উদ্দীপকে নির্দেশিত ১৯৩৫ সালের ভারত শাসন আইন প্রবর্তনের ফলে ব্রিটিশ ভারতের শাসনব্যবস্থায় গভীর ও সুদূরপ্রসারী প্রভাব পড়েছিল। এই প্রভাবের মূল দিকগুলো নিচে আলোচনা করা হলো:

    ১. দায়িত্বশীল সরকারের সূচনা: ১৯৩৫ সালের আইনের অধীনে ১৯৩৭ সালে অনুষ্ঠিত প্রাদেশিক নির্বাচনের মাধ্যমে ভারতীয় দলগুলো (বিশেষত কংগ্রেস ও মুসলিম লীগ) বিভিন্ন প্রদেশে সরকার গঠন করে। এর ফলে ভারতীয় রাজনৈতিক নেতারা প্রথমবার বৃহৎ পরিসরে সংসদীয় ও প্রশাসনিক পরিচালনার বাস্তব অভিজ্ঞতা অর্জনের সুযোগ পান।

    ২. যুক্তরাষ্ট্রীয় কাঠামোর ভিত্তি স্থাপন: যদিও সর্বভারতীয় ফেডারেশন পুরোপুরি কার্যকর হয়নি, তবুও এ আইনের মাধ্যমে কেন্দ্র ও প্রদেশের মধ্যে ক্ষমতা বণ্টন (কেন্দ্রীয়, প্রাদেশিক ও যৌথ তালিকা) এবং ফেডারেল কোর্ট প্রতিষ্ঠার মাধ্যমে ভারতীয় উপমহাদেশে আধুনিক যুক্তরাষ্ট্রীয় কাঠামোর রূপরেখা তৈরি হয়।

    ৩. প্রাদেশিক স্বায়ত্তশাসনের সীমাবদ্ধতা ও অসন্তোষ: প্রদেশগুলোতে স্বায়ত্তশাসন প্রদান করা হলেও গভর্নরদের হাতে ভেটো প্রয়োগ, অধ্যাদেশ জারি এবং মন্ত্রিসভা বরখাস্তের মতো ব্যাপক 'বিশেষ ক্ষমতা' সংরক্ষিত ছিল। এর ফলে এটি ব্রিটিশদের কঠোর নিয়ন্ত্রণের বাইরে প্রকৃত স্বায়ত্তশাসন নিশ্চিত করতে ব্যর্থ হয়, যা ভারতীয় জাতীয়তাবাদী নেতাদের অসন্তুষ্ট করে।

    ৪. ভবিষ্যৎ সংবিধানের ভিত্তি: এই আইনটি পরবর্তীতে স্বাধীন ভারত ও পাকিস্তান রাষ্ট্রের অন্তর্বর্তীকালীন সংবিধান হিসেবে কাজ করে এবং ১৯৪৭ সালের পর উভয় দেশের স্থায়ী সংবিধান রচনার ক্ষেত্রে মূল ভিত্তি ও কাঠামো হিসেবে ব্যবহৃত হয়।

    অতএব, ১৯৩৫ সালের আইনটি ভারতীয়দের পূর্ণ স্বায়ত্তশাসন বা স্বাধীনতার দাবি মেটাতে না পারলেও, এটি ব্রিটিশ ভারতে সাংবিধানিক বিবর্তনকে ত্বরান্বিত করে এবং শাসনতান্ত্রিক বিকাশে একটি মৌলিক ভিত্তি স্থাপন করে।

আরও প্রশ্ন অনুশীলন করতে অ্যাপে যাও

সম্পর্কিত প্রশ্ন