‍পৌরনীতি ও সুশাসন ২য় পত্র • Sylhet Board • সিলেট বোর্ড ২০২১

‍পৌরনীতি ও সুশাসন ২য় পত্র প্রশ্ন

শ্রমিক বিশ্ববিদ্যালয় ভর্তি পরীক্ষা দিতে যেয়ে একজন রাজনীতিবিদের নামে ছাত্রদের জন্য একটি আবাসিক হল দেখতে পেল। উক্ত হলের নামকরণ সম্পর্কে তার মামার কাছ থেকে জানতে পারল-  
(i) উক্ত রাজনীতিবিদ বেঙ্গল প্যাক্টের নেতা ছিলেন।  
(ii) তিনি মুসলিম লীগের রাজনীতির সাথে জড়িত ছিলেন।  
(iii) আওয়ামী মুসলিম লীগ প্রতিষ্ঠায় তার অবদান ছিল।  
(iv) "গণতন্ত্র ছিল তার জীবনের মূলমন্ত্র।"

  1. ক)

    তাকে দেশবন্ধু উপাধি দেওয়া হয়?

    (1)
  2. খ)

    বেঙ্গল প্যাক্ট  বলতে কী বোঝ?

    (2)
  3. গ)

    উদ্দীপকে উল্লিখিত নেতার সাথে তোমার পাঠ্য বইয়ের যে নেতা সাদৃশ্য আছে অখন্ড বাংলা প্রতিষ্ঠায় তার অবদান ব্যাখ্যা কর।

    (3)
  4. ঘ)

    তিনি ছিলেন গণতন্ত্রের মানসপুত্র -উদ্দীপকের আলোকে বিশ্লেষণ কর।

    (4)

উত্তর ও ব্যাখ্যা

  1. ক)

    AI-তৈরি নমুনা উত্তর

    চিত্তরঞ্জন দাশকে (সি. আর. দাশ) 'দেশবন্ধু' উপাধি দেওয়া হয়।

  2. খ)

    AI-তৈরি নমুনা উত্তর

    ১৯২৩ সালে চিত্তরঞ্জন দাশ হিন্দু-মুসলমানদের পারস্পরিক বিশ্বাস ও রাজনৈতিক ঐক্য প্রতিষ্ঠার লক্ষ্যে যে ঐতিহাসিক রাজনৈতিক চুক্তি স্বাক্ষর করেছিলেন, তা 'বেঙ্গল প্যাক্ট' (Bengal Pact) নামে পরিচিত। এই চুক্তির মূল উদ্দেশ্য ছিল আইনসভা ও সরকারি চাকরিতে জনসংখ্যার ভিত্তিতে মুসলমানদের ন্যায্য অধিকার নিশ্চিত করা এবং ধর্মীয় সম্প্রীতি সুদৃঢ় করে ব্রিটিশবিরোধী ঐক্যবদ্ধ আন্দোলন গড়ে তোলা।

  3. গ)

    AI-তৈরি নমুনা উত্তর

    উদ্দীপকে উল্লিখিত নেতার বৈশিষ্ট্যাবলির সাথে পাঠ্যবইয়ের প্রখ্যাত রাজনীতিবিদ হোসেন শহীদ সোহরাওয়ার্দীর সাদৃশ্য রয়েছে। অখণ্ড বাংলা প্রতিষ্ঠায় তাঁর অবদান ছিল অত্যন্ত তাৎপর্যপূর্ণ।

    ১৯৪৭ সালে ব্রিটিশ ভারত বিভক্তির প্রাক্কালে হিন্দু-মুসলিম সংঘাত নিরসন ও বাঙালির আত্মনিয়ন্ত্রণাধিকারের প্রশ্নে হোসেন শহীদ সোহরাওয়ার্দী ও আবুল হাশিম শরৎচন্দ্র বসুর সাথে মিলে একটি সার্বভৌম ও অখণ্ড বাংলা (United Independent Bengal) রাষ্ট্র গঠনের পরিকল্পনা গ্রহণ করেন। সোহরাওয়ার্দী বুঝতে পেরেছিলেন যে বাংলা বিভক্ত হলে তা উভয় সম্প্রদায়ের জন্যই অর্থনৈতিক ও সামাজিকভাবে বিপর্যয় ডেকে আনবে। তাই তিনি স্বাধীন ও সার্বভৌম অখণ্ড বাংলা গড়ার জোর দাবি তুলেছিলেন এবং মুহাম্মদ আলী জিন্নাহ ও মহাত্মা গান্ধীর সমর্থন আদায়ের উদ্যোগ নেন। যদিও কংগ্রেসের কেন্দ্রীয় নেতৃবৃন্দের বিরোধিতা ও রাজনৈতিক প্রতিকূলতার কারণে এই পরিকল্পনা বাস্তবায়িত হতে পারেনি, তবুও বাঙালি জাতীয়তাবাদী চিন্তার বিকাশে তাঁর এই প্রচেষ্টা ইতিহাসে স্মরণীয়।

  4. ঘ)

    AI-তৈরি নমুনা উত্তর

    উদ্দীপকের (iv) নং তথ্যে বলা হয়েছে "গণতন্ত্র ছিল তার জীবনের মূলমন্ত্র", যা হোসেন শহীদ সোহরাওয়ার্দীর রাজনৈতিক দর্শনের সঙ্গে সম্পূর্ণ সামঞ্জস্যপূর্ণ; এজন্যই তাঁকে 'গণতন্ত্রের মানসপুত্র' বলা হয়।

    সোহরাওয়ার্দীর পুরো রাজনৈতিক জীবন ছিল নিয়মতান্ত্রিক আন্দোলন, সাংবিধানিক অধিকার ও গণতান্ত্রিক নীতি প্রতিষ্ঠার সংগ্রাম। পাকিস্তান প্রতিষ্ঠার পর যখন ক্ষমতাসীন মুসলিম লীগ বিরোধী রাজনীতি দমন করে একনায়কতন্ত্র প্রতিষ্ঠা করতে চেয়েছিল, তখন তিনি ১৯৪৯ সালে আওয়ামী মুসলিম লীগ গঠনে দিকনির্দেশনামূলক ভূমিকা রাখেন এবং দেশে একটি কার্যকর বিরোধী দল গড়ে তোলেন। ১৯৫৪ সালের নির্বাচনে যুক্তফ্রন্ট গঠনে তিনি অন্যতম প্রধান ভূমিকা পালন করেন, যা নির্বাচনে ক্ষমতাসীন দলকে পরাজিত করে পূর্ব বাংলায় গণতান্ত্রিক চর্চার পথ সুগম করে।

    ১৯৫৬ সালে পাকিস্তানের প্রধানমন্ত্রী হিসেবে দায়িত্ব পালনকালে তিনি দেশে যৌথ নির্বাচন ব্যবস্থা প্রবর্তন করেন এবং সামরিক জান্তা আইয়ুব খানের স্বৈরশাসন ও এনডো (EBDO) আইনের বিরুদ্ধে জাতীয় গণতান্ত্রিক ফ্রন্ট (NDF) গঠন করে আমৃত্যু গণতন্ত্র পুনরুদ্ধারের সংগ্রাম চালান। তিনি বিশ্বাস করতেন জনগণের মৌলিক অধিকার রক্ষা করতে হলে নিয়মতান্ত্রিক গণতন্ত্রের কোনো বিকল্প নেই। উদ্দীপকে বর্ণিত তাঁর রাজনৈতিক জীবন এবং গণতান্ত্রিক মূল্যবোধের প্রতি অবিচল নিষ্ঠা বিবেচনা করলে নিঃসন্দেহে বলা যায়, তিনি যথার্থই ছিলেন 'গণতন্ত্রের মানসপুত্র'।

আরও প্রশ্ন অনুশীলন করতে অ্যাপে যাও

সম্পর্কিত প্রশ্ন