‍পৌরনীতি ও সুশাসন ২য় পত্র • Chattogram Board • চট্টগ্রাম বোর্ড ২০২২

‍পৌরনীতি ও সুশাসন ২য় পত্র প্রশ্ন

  1. ক)

    বাংলাদেশের সংবিধান কবে হতে কার্যকর হয়?

    (1)
  2. খ)

    গণপরিষদ কী?

    (2)
  3. গ)

    ছকে উল্লিখিত ঘটনা বলে তোমার পঠিত কোন নেতার কার্যক্রমের সঙ্গে সাদৃশ পাওয়া যায়?ব্যাখ্যা কর।

    (3)
  4. ঘ)

    ছকে উল্লেখিত ঘটনাবলীর মাধ্যমে কি উক্ত নেতার সামগ্রিক রাজনৈতিক জীবনের পরিচয় পাওয়া যায়? মতামত দাও।

    (4)

উত্তর ও ব্যাখ্যা

  1. ক)

    AI-তৈরি নমুনা উত্তর

    ১৯৭২ সালের ১৬ ডিসেম্বর হতে বাংলাদেশের সংবিধান কার্যকর হয়।

  2. খ)

    AI-তৈরি নমুনা উত্তর

    গণপরিষদ হলো সংবিধান প্রণয়ন এবং অন্তর্বর্তীকালীন আইন প্রণয়নের উদ্দেশ্যে গঠিত একটি বিশেষ পরিষদ। বাংলাদেশের ক্ষেত্রে, ১৯৭০ সালের সাধারণ নির্বাচনে তৎকালীন পূর্ব পাকিস্তান থেকে নির্বাচিত জাতীয় ও প্রাদেশিক পরিষদের সদস্যদের নিয়ে ১৯৭২ সালের ২৩ মার্চ রাষ্ট্রপতির আদেশবলে 'বাংলাদেশ গণপরিষদ' গঠন করা হয়। এর মূল দায়িত্ব ছিল সদ্য স্বাধীন বাংলাদেশের জন্য একটি স্থায়ী সংবিধান প্রণয়ন করা।

  3. গ)

    AI-তৈরি নমুনা উত্তর

    উদ্দীপকের ছকে উল্লিখিত ঘটনাবলিতে স্বাধীন বাংলাদেশের স্থপতি ও জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের কার্যক্রমের সঙ্গে সাদৃশ্য পাওয়া যায়।

    বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান ছিলেন বাঙালি জাতীয়তাবাদী আন্দোলনের মূল নেতা। ১৯৬৬ সালে তিনি ঐতিহাসিক ৬ দফা কর্মসূচি পেশ করেন, যা বাঙালির 'ম্যাগনাকার্টা' বা মুক্তির সনদ নামে পরিচিত। এ কারণে ১৯৬৮ সালে পাকিস্তান সরকার তাঁকে ১ নম্বর আসামি করে 'আগরতলা ষড়যন্ত্র মামলা' দায়ের করে। ১৯৭১ সালের ৭ই মার্চ তিনি তৎকালীন রেসকোর্স ময়দানে ঐতিহাসিক ভাষণ দেন এবং মুক্তিযুদ্ধের সর্বাত্মক ডাক দেন। ২৬শে মার্চের প্রথম প্রহরে তিনি বাংলাদেশের স্বাধীনতা ঘোষণা করেন।

    উদ্দীপকের ছকে ১৯৬৬ সালের ৬ দফা দাবি, ১৯৬৮ সালের আগরতলা মামলা, মুক্তিযুদ্ধের ডাক, স্বাধীনতার ঘোষক, রেসকোর্স ময়দানে ভাষণ এবং বাঙালি জাতির জনক—এই বিষয়গুলো উল্লেখ করা হয়েছে, যার প্রতিটিই সরাসরি বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের অনন্য রাজনৈতিক ভূমিকা ও আত্মত্যাগের সঙ্গে সাদৃশ্যপূর্ণ।

  4. ঘ)

    AI-তৈরি নমুনা উত্তর

    উদ্দীপকে উল্লিখিত ঘটনাবলি বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের রাজনৈতিক জীবনের অত্যন্ত তাৎপর্যপূর্ণ অধ্যায় হলেও এগুলো দিয়ে তাঁর সামগ্রিক রাজনৈতিক জীবনের পূর্ণাঙ্গ পরিচয় পাওয়া যায় না—এ বক্তব্যের সঙ্গে আমি একমত।

    উদ্দীপকের ছকে বঙ্গবন্ধুর জীবনের প্রধান প্রধান কিছু বাঁক যেমন—১৯৬৬ সালের ৬ দফা আন্দোলন, ১৯৬৮ সালের আগরতলা মামলা, ১৯৭১ সালের ৭ই মার্চের ভাষণ, মুক্তিযুদ্ধের ডাক ও স্বাধীনতার ঘোষণার মতো গৌরবময় ঘটনাগুলো তুলে ধরা হয়েছে। এই ঘটনাগুলো বাংলাদেশের স্বাধীনতা অর্জনে তাঁর অবিসংবাদিত নেতৃত্বকে ফুটিয়ে তোলে।

    তবে তাঁর রাজনৈতিক জীবন আরও বহুদূর বিস্তৃত। তিনি ছাত্রজীবন থেকেই হোসেন শহীদ সোহরাওয়ার্দীর সান্নিধ্যে রাজনীতি শুরু করেন। ১৯৪৮ ও ১৯৫২ সালের ভাষা আন্দোলনে সক্রিয় অংশগ্রহণ ও কারাবরণ, ১৯৪৯ সালে আওয়ামী মুসলিম লীগ গঠনে অবদান, ১৯৫৪ সালের যুক্তফ্রন্ট নির্বাচন ও মন্ত্রী পরিষদে অন্তর্ভুক্তি, ১৯৫৮ সালে আইয়ুব খানের সামরিক শাসনবিরোধী আন্দোলন এবং ১৯৬৯ সালের গণঅভ্যুত্থানের মাধ্যমে 'বঙ্গবন্ধু' উপাধি লাভ তাঁর সামগ্রিক রাজনৈতিক জীবনের অন্যতম মাইলফলক। এছাড়া স্বাধীনতার পর যুদ্ধবিধ্বস্ত দেশ পুনর্গঠন, ১৯৭২ সালে বিশ্বের অন্যতম শ্রেষ্ঠ সংবিধান উপহার দেওয়া, আন্তর্জাতিক স্বীকৃতি অর্জন এবং প্রথম পঞ্চবার্ষিক পরিকল্পনা গ্রহণ—এসব কর্মকাণ্ডও তাঁর রাজনৈতিক জীবনের অবিচ্ছেদ্য অংশ।

    অতএব, উদ্দীপকের ঘটনাবলি মূলত বাংলাদেশের মুক্তিসংগ্রাম ও স্বাধীনতার প্রেক্ষাপটকে ধারণ করে। সুতরাং, ছকের ঘটনাবলি বঙ্গবন্ধুর রাজনৈতিক নেতৃত্বের মূল গৌরবোজ্জ্বল চিত্র হলেও তা তাঁর সামগ্রিক ও আজীবন রাজনৈতিক কর্মকাণ্ডের সম্পূর্ণ পরিচয় বহন করে না।

আরও প্রশ্ন অনুশীলন করতে অ্যাপে যাও

সম্পর্কিত প্রশ্ন