অর্থনীতি ২য় পত্র • Dinajpur Board • দিনাজপুর বোর্ড ২০১৬
অর্থনীতি ২য় পত্র প্রশ্ন
'X' দক্ষিণ এশিয়ার কৃষিপ্রধান একটি দেশ। দেশটিতে বাণিজ্য ঘাটতি লেগেই আছে। একদল উচ্চ শিক্ষিত উদ্যোক্তা সে দেশের সরকারকে দেশে উৎপাদিত কাঁচামালের সাহায্যে শিল্পজাত পণ্যের উৎপাদন ও রপ্তানি সম্প্রসারণের পরামর্শ দিল এবং এমন কিছু পণ্য উৎপাদন করতে অনুরোধ করলো যেগুলো বর্তমানে আমদানি করতে হয়। এর ফলে বৈদেশিক মুদ্রার সাশ্রয় ও দেশীয় শিল্পের প্রসার ঘটবে।
- ক)(1)
কুটির শিল্প কাকে বলে?
- খ)(2)
বাংলাদেশের প্রধান প্রধান বৃহৎ শিল্পগুলোর নাম লেখ।
- গ)(3)
উদ্দীপকে উল্লিখিত শিল্প কিভাবে বৈদেশিক বাণিজ্যের ঘাটতি মেটাতে পারে? ব্যাখ্যা করো।
- ঘ)(4)
উদ্দীপকের আলোকে বাংলাদেশে আমদানি বিকল্প শিল্পের গুরুত্ব আলোচনা করো।
উত্তর ও ব্যাখ্যা
- ক)
AI-তৈরি নমুনা উত্তর
সাধারণত পারিবারিকভাবে সদস্যদের শ্রমের ওপর ভিত্তি করে স্বল্প মূলধনে স্থানীয় কাঁচামাল ব্যবহার করে ঘরে বসে যে ক্ষুদ্রায়তন শিল্প পরিচালিত হয়, তাকে কুটির শিল্প বলে।
- খ)
AI-তৈরি নমুনা উত্তর
বাংলাদেশে প্রতিষ্ঠিত প্রধান প্রধান বৃহৎ শিল্পগুলো হলো:
১. তৈরি পোশাক ও টেক্সটাইল শিল্প
২. পাট শিল্প
৩. চামড়া ও চামড়াজাত পণ্য শিল্প
৪. রাসায়নিক সার শিল্প
৫. সিমেন্ট শিল্প
৬. চা শিল্প
৭. চিনি শিল্প এবং ওষুধ শিল্প। - গ)
AI-তৈরি নমুনা উত্তর
উদ্দীপকে রপ্তানিমুখী শিল্প ও আমদানি বিকল্পায়ন শিল্পের প্রতি ইঙ্গিত করা হয়েছে। এ ধরনের শিল্প দুইভাবে বৈদেশিক বাণিজ্যের ঘাটতি মেটাতে কার্যকর ভূমিকা রাখে:
১. রপ্তানি বৃদ্ধি: দেশীয় কাঁচামাল ব্যবহার করে উৎপাদিত শিল্পজাত পণ্য আন্তর্জাতিক বাজারে রপ্তানি করলে বিপুল পরিমাণ বৈদেশিক মুদ্রা অর্জিত হয়, যা রপ্তানি আয় বৃদ্ধি করে।
২. আমদানি ব্যয় হ্রাস: যেসব পণ্য বিদেশ থেকে আমদানি করতে হতো, সেগুলো দেশীয় কারখানায় উৎপাদন (আমদানি বিকল্প শিল্পায়ন) করা হলে পণ্য আমদানির প্রয়োজনীয়তা কমে যায়। ফলে বিপুল পরিমাণ বৈদেশিক মুদ্রার সাশ্রয় ঘটে।
বাণিজ্য ঘাটতি হলো আমদানি ব্যয় ও রপ্তানি আয়ের প্রতিকূল ব্যবধান (আমদানি ব্যয় > রপ্তানি আয়)। সুতরাং, উদ্দীপকে উল্লিখিত কৌশলগুলো একদিকে রপ্তানি আয় বাড়িয়ে এবং অন্যদিকে আমদানি ব্যয় কমিয়ে বাণিজ্যের ব্যবধান দূর করে এবং বাণিজ্য ঘাটতি মেটাতে সাহায্য করে।
- ঘ)
AI-তৈরি নমুনা উত্তর
উদ্দীপকে যেসব পণ্য বর্তমানে আমদানি করতে হয় তা দেশে উৎপাদনের পরামর্শ দেওয়া হয়েছে, যাকে অর্থনীতিতে 'আমদানি বিকল্প শিল্প' বলা হয়। বাংলাদেশের মতো উন্নয়নশীল দেশের জন্য আমদানি বিকল্প শিল্পের গুরুত্ব অপরিসীম। নিম্নে এর গুরুত্ব আলোচনা করা হলো:
১. বৈদেশিক মুদ্রা সাশ্রয়: নিত্যপ্রয়োজনীয় ও শিল্পজাত দ্রব্যসমূহ দেশে উৎপাদনের মাধ্যমে বিপুল পরিমাণ বৈদেশিক মুদ্রা সাশ্রয় হয়, যা দেশের উন্নয়নমূলক কাজে বিনিয়োগ করা সম্ভব হয়।
২. স্বনির্ভরতা অর্জন: বিদেশি পণ্যের ওপর অতিনির্ভরশীলতা অর্থনৈতিক সার্বভৌমত্বকে ঝুঁকিপূর্ণ করে। আমদানি বিকল্প শিল্প স্থাপনের মাধ্যমে দেশীয় অর্থনীতির স্বনির্ভরতা বৃদ্ধি পায়।
৩. কর্মসংস্থান সৃষ্টি: দেশে নতুন শিল্পকারখানা গড়ে উঠলে প্রচুর বেকার জনগোষ্ঠীর জন্য কর্মসংস্থানের সুযোগ সৃষ্টি হয়, যা দারিদ্র্য বিমোচনে সহায়ক।
৪. দেশীয় সম্পদের সদ্ব্যবহার: দেশের অভ্যন্তরীণ প্রাকৃতিক ও কৃষিজ কাঁচামাল সঠিকভাবে প্রক্রিয়াজাতকরণের মাধ্যমে সম্পদের সর্বোত্তম ব্যবহার নিশ্চিত করা যায়।
৫. বাণিজ্য ঘাটতি হ্রাস ও অর্থনৈতিক স্থিতিশীলতা: বাংলাদেশের একটি অন্যতম প্রধান সমস্যা হলো দীর্ঘমেয়াদি বাণিজ্য ঘাটতি। আমদানি বিকল্প পণ্য উৎপাদনের মাধ্যমে আমদানি বিল কমিয়ে বাণিজ্য ঘাটতি নিয়ন্ত্রণ ও মুদ্রার মান স্থিতিশীল রাখা যায়।
পরিশেষে বলা যায়, স্বনির্ভর ও টেকসই অর্থনীতি গঠনে বাংলাদেশে আমদানি বিকল্প শিল্পের বিকাশ অত্যন্ত সময়োপযোগী ও গুরুত্বপূর্ণ।
আরও প্রশ্ন অনুশীলন করতে অ্যাপে যাও