পৌরনীতি ও সুশাসন ২য় পত্র • Chattogram Board • চট্টগ্রাম বোর্ড ২০১৯
পৌরনীতি ও সুশাসন ২য় পত্র প্রশ্ন

- ক)(1)
বাংলাদেশের সংবিধানের এ পর্যন্ত কয়টি সংশোধনী হয়েছে?
- খ)(2)
মৌলিক অধিকার বলতে কী বোঝায়?
- গ)(3)
উদ্দীপকে প্রশ্নচিহ্নিত (?) বর্ণনা কর। স্থানের বিষয়টির তিনটি বৈশিষ্ট্য
- ঘ)(4)
উক্ত বিষয়টির দ্বাদশ সংশোধনীর বৈশিষ্ট্য বর্ণনা কর।
উত্তর ও ব্যাখ্যা
- ক)
AI-তৈরি নমুনা উত্তর
বাংলাদেশের সংবিধানে এ পর্যন্ত ১৭টি সংশোধনী আনা হয়েছে।
- খ)
AI-তৈরি নমুনা উত্তর
মৌলিক অধিকার বলতে রাষ্ট্রের সংবিধান কর্তৃক স্বীকৃত ও সংরক্ষিত সেসব অধিকারকে বোঝায়, যা মানুষের ব্যক্তিত্বের বিকাশ ও মর্যাদাপূর্ণ জীবনের জন্য অপরিহার্য।
এসব অধিকার রাষ্ট্র কর্তৃক বলবৎযোগ্য এবং কোনো নাগরিকের মৌলিক অধিকার ক্ষুণ্ন হলে তিনি তা প্রতিকারের জন্য আদালতের শরণাপন্ন হতে পারেন। বাংলাদেশের সংবিধানের তৃতীয় ভাগে নাগরিকদের মৌলিক অধিকারগুলো সন্নিবেশিত রয়েছে।
- গ)
AI-তৈরি নমুনা উত্তর
উদ্দীপকে প্রশ্নচিহ্নিত (?) স্থানে নির্দেশিত বিষয়টি হলো 'গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশের সংবিধান'। কারণ এটি ১৯৭২ সালের ১৬ই ডিসেম্বর কার্যকর হয়, এটি একটি লিখিত দলিল এবং এতে চারটি মূলনীতি রয়েছে।
বাংলাদেশের সংবিধানের তিনটি বৈশিষ্ট্য নিচে বর্ণনা করা হলো:
১. লিখিত সংবিধান: বাংলাদেশের সংবিধান একটি লিখিত দলিল। এতে একটি প্রস্তাবনা, ১১টি ভাগ, ১৫৩টি অনুচ্ছেদ এবং ৭টি তফসিল রয়েছে।
২. দুষ্পরিবর্তনীয় সংবিধান: এই সংবিধান সহজে পরিবর্তনযোগ্য নয়। সংবিধানের কোনো বিধান সংশোধন করতে হলে জাতীয় সংসদের মোট সদস্য-সংখ্যার অন্তত দুই-তৃতীয়াংশ সদস্যের ভোটের প্রয়োজন হয়।
৩. মৌলিক অধিকারের সন্নিবেশ: সংবিধানের তৃতীয় ভাগে নাগরিকদের ব্যক্তিত্বের বিকাশ ও সুরক্ষার জন্য মৌলিক অধিকারসমূহ লিপিবদ্ধ করা হয়েছে এবং সুপ্রিম কোর্টের মাধ্যমে এগুলোর বলবৎযোগ্যতার নিশ্চয়তা প্রদান করা হয়েছে। - ঘ)
AI-তৈরি নমুনা উত্তর
উদ্দীপকে নির্দেশিত বিষয়টি হলো বাংলাদেশের সংবিধান। ১৯৯১ সালের ১৮ই সেপ্টেম্বর পঞ্চম জাতীয় সংসদে সংবিধানের দ্বাদশ সংশোধনী আইন পাস হয়, যার মাধ্যমে দেশে দীর্ঘ ১৬ বছর পর পুনরায় সংসদীয় পদ্ধতির সরকার ব্যবস্থা পুনঃপ্রবর্তন করা হয়।
দ্বাদশ সংশোধনীর প্রধান বৈশিষ্ট্যসমূহ নিচে বর্ণনা করা হলো:
১. সংসদীয় সরকার ব্যবস্থার পুনঃপ্রবর্তন: এই সংশোধনীর মাধ্যমে রাষ্ট্রপতি শাসিত সরকার ব্যবস্থার অবসান ঘটিয়ে ১৯৭২ সালের সংবিধানের অনুরূপ সংসদীয় বা মন্ত্রিসভা শাসিত সরকার পদ্ধতি ফিরিয়ে আনা হয়।
২. প্রধানমন্ত্রীর প্রাধান্য: সংসদীয় ব্যবস্থার প্রধান নির্বাহী হিসেবে প্রধানমন্ত্রীকে প্রকৃত শাসন ক্ষমতার অধিকারী করা হয়। প্রধানমন্ত্রীর পরামর্শ অনুযায়ী মন্ত্রিসভা গঠিত হয় এবং নির্বাহী ক্ষমতা পরিচালিত হয়।
৩. রাষ্ট্রপতির পদমর্যাদা: রাষ্ট্রপতিকে রাষ্ট্রের নিয়মতান্ত্রিক প্রধান করা হয়। তিনি কেবল প্রধানমন্ত্রী ও প্রধান বিচারপতি নিয়োগের ক্ষেত্র ব্যতীত অন্যান্য সকল দায়িত্ব পালনে প্রধানমন্ত্রীর পরামর্শ অনুযায়ী কাজ করতে বাধ্য থাকেন। এছাড়া রাষ্ট্রপতি নির্বাচনের ক্ষমতা জাতীয় সংসদের সদস্যদের ওপর ন্যস্ত করা হয়।
৪. সংসদের নিকট মন্ত্রিসভার দায়বদ্ধতা: প্রধানমন্ত্রী ও তাঁর মন্ত্রিসভার সদস্যরা তাদের সার্বিক কাজের জন্য যৌথভাবে জাতীয় সংসদের নিকট দায়ী থাকবেন বলে বিধান করা হয়। সংসদ অনাস্থা জ্ঞাপন করলে সরকারের পতন ঘটে।
৫. উপ-রাষ্ট্রপতির পদ বিলুপ্তি: দ্বাদশ সংশোধনীর মাধ্যমে তৎকালীন সংবিধানে থাকা উপ-রাষ্ট্রপতির পদটি বিলুপ্ত করা হয়।সুতরাং, দ্বাদশ সংশোধনী বাংলাদেশের সাংবিধানিক ইতিহাসে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ, কারণ এর মাধ্যমে দেশে পুনরায় গণতান্ত্রিক সংসদীয় ব্যবস্থার যাত্রা শুরু হয়।
আরও প্রশ্ন অনুশীলন করতে অ্যাপে যাও