যুক্তিবিদ্যা ২য় পত্র • Chattogram Board • চট্টগ্রাম বোর্ড ২০১৭
যুক্তিবিদ্যা ২য় পত্র প্রশ্ন
মাসুমা তার খালার বাড়িতে পিয়েছে। রাতে খাবার খেতে বসে সে দেখে টেবিলের উপরে প্রথম পাত্রে ভাত, মাছ, মাংস ও কলা: দ্বিতীয় পাত্রে মাংস ও মাহ, তৃতীয় পাত্রে রুটি, মাংস ও ডাল রয়েছে। মাসুমা পর্যায়ক্রমে প্রত্যেকটি পাত্র থেকে খাদ্য গ্রহণ করেছে। মধ্যরাতে তার পেটের পীড়া শুরু হয়েছে। পরে জানা গেল যে, মাংস খাওয়ার কারণে পেটে পীড়া হয়েছে।
- ক)(1)
সহপরিবর্তন কাকে বলে?
- খ)(2)
ব্যতিরেকী পদ্ধতিকে পরীক্ষণের পদ্ধতি বলা হয় কেন?
- গ)(3)
উদ্দীপকে কোন প্রমাণ পদ্ধতির ইজিত রয়েছে? ব্যাখ্যা করো।
- ঘ)(4)
যে প্রমাণ পদ্ধতির আলোকে পেটে পীড়ার কারণ নির্ণীত হয়েছে উদ্দীপকের আলোকে তার সুবিধাগুলো নির্ণয় করো।
উত্তর ও ব্যাখ্যা
- ক)
AI-তৈরি নমুনা উত্তর
কোনো একটি ঘটনা যে অনুপাতে পরিবর্তিত হয়, অপর একটি ঘটনাও যদি সেই একই অনুপাতে পরিবর্তিত হয়, তবে তাকে সহপরিবর্তন বলে।
- খ)
AI-তৈরি নমুনা উত্তর
ব্যতিরেকী পদ্ধতি মূলত পরীক্ষণের ওপর সম্পূর্ণ নির্ভরশীল, তাই একে পরীক্ষণের পদ্ধতি বলা হয়। এই পদ্ধতিতে কেবলমাত্র একটি অবস্থাকে পরিবর্তন বা অপসারণ করে তার ফলাফল কৃত্রিম ও সুনিয়ন্ত্রিত পরিবেশে পর্যবেক্ষণ করতে হয়, যা নিরীক্ষণের মাধ্যমে প্রাকৃতিকভাবে অর্জন করা প্রায় অসম্ভব। পরীক্ষণের বৈশিষ্ট্যগুলো শতভাগ ধারণ করে বলেই একে 'পরীক্ষণের পদ্ধতি' বলা হয়।
- গ)
AI-তৈরি নমুনা উত্তর
উদ্দীপকে যুক্তিবিদ মিল নির্দেশিত পরীক্ষণাত্মক পদ্ধতির 'অন্বয়ী পদ্ধতি'র (Method of Agreement) ইঙ্গিত রয়েছে।
অন্বয়ী পদ্ধতির সূত্রানুযায়ী, যদি কোনো আলোচ্য ঘটনার দুই বা ততোধিক দৃষ্টান্তের মধ্যে কেবল একটি সাধারণ বিষয়ে মিল বা অন্বয় থাকে, তবে সেই সাধারণ বিষয়টিই হবে আলোচ্য ঘটনার কারণ বা কার্য।
উদ্দীপকে মাসুমা খালার বাসায় তিনটি ভিন্ন পাত্র থেকে খাবার গ্রহণ করে: প্রথম পাত্রে (ভাত, মাছ, মাংস ও কলা), দ্বিতীয় পাত্রে (মাংস ও মাছ) এবং তৃতীয় পাত্রে (রুটি, মাংস ও ডাল)। এই তিনটি ভিন্ন পাত্রের খাবারের দৃষ্টান্তের মধ্যে অন্যান্য উপাদানের অমিল থাকলেও কেবল 'মাংস' উপাদানটি তিনটি পাত্রেই সাধারণভাবে বিদ্যমান (অন্বিত)। এর ফলে পরবর্তীতে তার পেটের পীড়া হয় এবং সিদ্ধান্তে আসা হয় যে মাংস খাওয়ার কারণেই পেটের পীড়া হয়েছে। এটি পুরোপুরি অন্বয়ী পদ্ধতিরই প্রতিফলন।
- ঘ)
AI-তৈরি নমুনা উত্তর
উদ্দীপকে পেটের পীড়ার কারণ নির্ণয়ে যে পদ্ধতিটি প্রয়োগ করা হয়েছে তা হলো 'অন্বয়ী পদ্ধতি'। যুক্তিবিদ্যায় এই পদ্ধতির সুবিধাসমূহ নিম্নরূপ:
১. সহজ ও স্বাভাবিক প্রয়োগ: অন্বয়ী পদ্ধতি মূলত নিরীক্ষণের পদ্ধতি। এটি প্রয়োগ করার জন্য গবেষণাগার বা কৃত্রিম নিয়ন্ত্রণের প্রয়োজন হয় না; স্বাভাবিক ও প্রাত্যহিক জীবনের ঘটনা থেকেই সহজেই কার্যকারণ সম্পর্ক অনুসন্ধান করা যায়, যেমনটি উদ্দীপকে মাসুমার খাবারের ক্ষেত্রে দেখা গেছে।
২. ব্যাপক কার্যক্ষেত্র: যেসব ক্ষেত্রে কৃত্রিমভাবে কোনো কিছু পরিবর্তন বা পরীক্ষণ সম্ভব নয় (যেমন- আবহাওয়া, জ্যোতির্বিদ্যা, কিংবা জটিল বাস্তব জীবন), সেখানে অন্বয়ী পদ্ধতি কার্যকরভাবে প্রয়োগ করা যায়।
৩. প্রকল্প গঠনে সহায়ক: এই পদ্ধতির মাধ্যমে কার্যকারণ সম্পর্ক সম্পর্কে প্রাথমিক ধারণা বা অনুকল্প (hypothesis) গঠন করা যায়, যা পরবর্তীতে ব্যতিরেকী বা অন্যান্য পদ্ধতি দ্বারা নিশ্চিতভাবে প্রমাণ করা সম্ভব হয়।
৪. বহু দৃষ্টান্ত পর্যবেক্ষণের সুযোগ: অন্বয়ী পদ্ধতিতে একাধিক ভিন্ন ভিন্ন পারিপার্শ্বিক অবস্থার দৃষ্টান্ত পর্যবেক্ষণ করে তাদের মধ্যে সাধারণ যোগসূত্রটি সহজে চিহ্নিত করা যায়।পরিশেষে বলা যায়, অন্বয়ী পদ্ধতি বৈজ্ঞানিক অনুসন্ধানের প্রাথমিক ধাপে নতুন কারণ আবিষ্কারে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ সুবিধা প্রদান করে।
আরও প্রশ্ন অনুশীলন করতে অ্যাপে যাও