বাংলা ২য় পত্র • Jashore Board • যশোর বোর্ড ২০১৭
বাংলা ২য় পত্র প্রশ্ন
8.
(গ) “আন্তর্জাতিক মাতৃভাষা দিবস” বিষয়ে একটি রচনা লেখ
উত্তর ও ব্যাখ্যা
AI-তৈরি নমুনা উত্তর
আন্তর্জাতিক মাতৃভাষা দিবস
ভূমিকা:
মাতৃভাষা মানুষের জন্মগত অধিকার এবং মনের ভাব প্রকাশের সর্বোত্তম মাধ্যম। নিজের মাতৃভাষার মর্যাদা রক্ষায় বুকের তাজা রক্ত ঢেলে দেওয়ার ইতিহাস বিশ্বে একমাত্র বাঙালি জাতিরই রয়েছে। ১৯৫২ সালের ২১শে ফেব্রুয়ারির সেই রক্তস্নাত আত্মত্যাগ আজ কেবল বাংলাদেশের সীমানায় আবদ্ধ নয়; তা বিশ্বজুড়ে স্বীকৃত ও উদযাপিত হচ্ছে 'আন্তর্জাতিক মাতৃভাষা দিবস' হিসেবে।
ভাষা আন্দোলনের পটভূমি:
১৯৪৭ সালে দ্বিজাতিতত্ত্বের ভিত্তিতে ভারত ভাগের পর পাকিস্তান রাষ্ট্রের জন্ম হয়। কিন্তু সূচনালগ্ন থেকেই পশ্চিম পাকিস্তানি শাসকগোষ্ঠী সংখ্যাগরিষ্ঠ পূর্ব পাকিস্তানের মানুষের মাতৃভাষা বাংলাকে উপেক্ষা করে উর্দুকে রাষ্ট্রভাষা করার ষড়যন্ত্রে লিপ্ত হয়। এর প্রতিবাদে ছাত্র-জনতা তীব্র আন্দোলন গড়ে তোলে। ১৯৫২ সালের ২১শে ফেব্রুয়ারি (৮ই ফাল্গুন, ১৩৫৮) ১৪৪ ধারা ভেঙে রাজপথে মিছিল নামলে পুলিশ নির্বিচারে গুলি চালায়। শহীদ হন সালাম, বরকত, রফিক, জব্বার, শফিউরসহ নাম না-জানা অনেকে। তাঁদের রক্তের বিনিময়ে অর্জিত হয় বাংলা ভাষার স্বীকৃতি।
আন্তর্জাতিক স্বীকৃতি লাভ:
কানাডাপ্রবাসী কিছু মুক্তমনা বাঙালি এবং 'মাদার ল্যাঙ্গুয়েজ লাভার্স অব দ্য ওয়ার্ল্ড' সংগঠনের উদ্যোগে ২১শে ফেব্রুয়ারিকে আন্তর্জাতিক মাতৃভাষা দিবস হিসেবে স্বীকৃতির দাবি তোলা হয়। পরবর্তীকালে বাংলাদেশ সরকারের তৎকালীন কূটনৈতিক তৎপরতায় ১৯৯৯ সালের ১৭ই নভেম্বর জাতিসংঘের শিক্ষা, বিজ্ঞান ও সংস্কৃতি বিষয়ক সংস্থা ইউনেস্কো (UNESCO)-এর ৩০তম সাধারণ অধিবেশনে ২১শে ফেব্রুয়ারিকে 'আন্তর্জাতিক মাতৃভাষা দিবস' হিসেবে ঘোষণা করা হয়। ২০০০ সালের ২১শে ফেব্রুয়ারি থেকে বিশ্বব্যাপী সদস্য রাষ্ট্রসমূহ মর্যাদার সাথে দিবসটি পালন শুরু করে।
তাৎপর্য ও গুরুত্ব:
আন্তর্জাতিক মাতৃভাষা দিবসের মূল চেতনা হলো পৃথিবীর সকল মাতৃভাষার সংরক্ষণ, লালন এবং ভাষাগত বৈচিত্র্যকে সম্মান জানানো। এটি ক্ষুদ্র নৃগোষ্ঠীর বিলুপ্তপ্রায় ভাষাসমূহ রক্ষার তাগিদ দেয়। দিবসটি বিশ্ববাসীকে স্মরণ করিয়ে দেয় যে, মাতৃভাষার অধিকার কোনো ছাড় বা অনুগ্রহ নয়, এটি মৌলিক মানবাধিকার।
উপসংহার:
বাঙালির ভাষা আন্দোলন আজ বিশ্বমানবতার সম্পদে পরিণত হয়েছে। আন্তর্জাতিক মাতৃভাষা দিবসের মর্যাদা তখনই পূর্ণতা পাবে যখন আমরা নিজের ভাষাকে যথাযথ মর্যাদায় সর্বস্তরে চর্চা করব এবং বিশ্বের প্রতিটি ভাষাকে সমান শ্রদ্ধা প্রদর্শন করব।
আরও প্রশ্ন অনুশীলন করতে অ্যাপে যাও