বাংলা ১ম পত্র • Dhaka Board • ঢাকা বোর্ড ২০১৭

বাংলা ১ম পত্র প্রশ্ন

কেউ ছালটা ছাড়িয়ে নিয়ে সিদ্ধ করছে। পাতাগুলো ছিড়ে শিলে পিষছে কেউ। কচি ডালগুলো ভেঙে চিবোয় কত লোক..... দাঁত ভাল থাকে। কবিরাজরা প্রশংসায় পঞ্চমুখ। কাটে না, কিন্তু যত্নও করে না। হঠাৎ একদিন একটা নতুন ধরনের লোক এল। মুগ্ধ দৃষ্টিতে চেয়ে রইল নিমগাছের দিকে। ছাল তুললে না, পাতা ছিঁড়লে না, ডাল ভাঙলো না, মুগ্ধ দৃষ্টিতে চেয়ে রইলে শুধু।

  1. ক)

    বৃক্ষের গান শুনতে হবে কীভাবে?

    (1)
  2. খ)

    "মানুষের বৃদ্ধি কেবল দৈহিক নয়, আত্মিক"- ব্যাখ্যা করো।

    (2)
  3. গ)

    উদ্দীপকের নিমগাছটি 'জীবন ও বৃক্ষ' প্রবন্ধের ক্ষেত্রে কতটা প্রাসঙ্গিক আলোচনা করো।

    (3)
  4. ঘ)

    উদ্দীপকের মূলবক্তব্য 'জীবন ও বৃক্ষ' প্রবন্ধের আলোকে বিশ্লেষণ করো।

    (4)

উত্তর ও ব্যাখ্যা

  1. ক)

    AI-তৈরি নমুনা উত্তর

    বৃক্ষের গান শুনতে হবে কান দিয়ে নয়, প্রাণ দিয়ে।

  2. খ)

    AI-তৈরি নমুনা উত্তর

    মানুষের বৃদ্ধি কেবল দৈহিক নয়, আত্মিক— বলতে লেখক মানুষের ভেতরের অন্তর্নিহিত মনুষ্যত্ব, অনুভূতি এবং আত্মিক শক্তির বিকাশকে বুঝিয়েছেন।

    দৈহিক বৃদ্ধি কেবল জৈবিক নিয়মে ঘটে থাকে, কিন্তু প্রকৃত মানুষ হয়ে ওঠার জন্য প্রয়োজন আত্মিক বা মানসিক স্ফূর্তি। বৃক্ষ যেমন কেবল শাখাপ্রশাখায় বাড়ে না, ফল ও ছায়ার মাধ্যমে নিজেকে নিঃস্বার্থভাবে বিকশিত ও সার্থক করে, তেমনি মানুষেরও অহংকারমুক্ত হয়ে পরার্থপরতা, সেবা ও অনুভূতির বিকাশের মাধ্যমে আত্মিক পূর্ণতা অর্জন করা আবশ্যক।

  3. গ)

    AI-তৈরি নমুনা উত্তর

    উদ্দীপকের নিমগাছটি স্বার্থপর সমাজের বিপরীতে নিঃস্বার্থ দান এবং সৌন্দর্যবোধের প্রতীক হিসেবে 'জীবন ও বৃক্ষ' প্রবন্ধের মূল ভাবনার সঙ্গে অত্যন্ত প্রাসঙ্গিক।

    'জীবন ও বৃক্ষ' প্রবন্ধে প্রাবন্ধিক মোতাহের হোসেন চৌধুরী দেখিয়েছেন যে, বৃক্ষ নিঃশব্দে সমাজের মানুষের নানা উপকার ও সেবা করে যায়। কিন্তু অধিকাংশ মানুষ বৃক্ষের এই আত্মত্যাগকে কেবল নিজের স্থূল প্রয়োজনে ব্যবহার করে, তার ভেতরের নীরব সাধনা ও সৌন্দর্যকে উপলব্ধি করতে পারে না।

    উদ্দীপকে দেখা যায়, নিমগাছটির ছাল, পাতা, ডাল মানুষ নানা কাজে ব্যবহার করে উপকার পায়, কিন্তু তার প্রকৃত যত্ন নেয় না। কেবল একজন নতুন ধরনের লোক এসে তার রূপ ও সৌন্দর্যে মুগ্ধ হয়ে দাঁড়িয়ে থাকে। একইভাবে 'জীবন ও বৃক্ষ' প্রবন্ধেও বলা হয়েছে, স্থূল প্রয়োজনের দৃষ্টি অতিক্রম করে বৃক্ষের দান ও রূপের মাহাত্ম্য অনুধাবন করাই হলো মানবজীবনের আত্মিক সার্থকতা। নিমগাছের এই নিঃস্বার্থ পরোপকার ও এক দর্শকের অনুভূতির দৃষ্টি প্রবন্ধের বৃক্ষের জীবনাদর্শের সঙ্গে গভীরভাবে প্রাসঙ্গিক।

  4. ঘ)

    AI-তৈরি নমুনা উত্তর

    উদ্দীপকের মূলবক্তব্য হলো স্বার্থের ঊর্ধ্বে উঠে নিঃস্বার্থ ত্যাগকে উপলব্ধি করা ও বৃক্ষের আত্মনিবেদনকে সৌন্দর্যচেতনার দৃষ্টিতে দেখা, যা 'জীবন ও বৃক্ষ' প্রবন্ধের প্রধান শিক্ষার সঙ্গে একাত্ম।

    'জীবন ও বৃক্ষ' প্রবন্ধে লেখক বৃক্ষকে ত্যাগের ও মানবকল্যাণের নীরব প্রতীক হিসেবে উপস্থাপন করেছেন। মানুষ স্থূল স্বার্থপরতার কারণে বৃক্ষের কেবল ব্যবহারিক দিকটি খোঁজে, কিন্তু প্রকৃত মহৎ মানুষ বৃক্ষের আত্মদান ও সৌন্দর্যের গভীরতাকে হৃদয়ে উপলব্ধি করে এবং সেখান থেকে পরোপকার ও প্রশান্তির শিক্ষা গ্রহণ করে।

    উদ্দীপকের সাধারণ মানুষ নিমগাছটিকে কেবল ওষুধ ও ব্যবহার্য উপাদান হিসেবে গ্রহণ করে, কোনো যত্ন বা মর্যাদা দেয় না। কিন্তু একজন ব্যতিক্রমী মানুষ কোনো ক্ষতি না করে মুগ্ধ দৃষ্টিতে কেবল চেয়ে থাকে, যা তার সূক্ষ্ম সৌন্দর্যবোধ ও শ্রদ্ধাবোধের প্রকাশ।

    'জীবন ও বৃক্ষ' প্রবন্ধেও লেখক মানবসমাজকে স্থূল প্রয়োজন ও ভোগের বাইরে গিয়ে বৃক্ষের মতো সার্থক ও আত্মত্যাগী হতে আহ্বান জানিয়েছেন। বৃক্ষের এই নীরব সৌন্দর্য ও স্বার্থহীন দানের উপলব্ধির মধ্যেই মানবজীবনের প্রকৃত সার্থকতা নিহিত। সুতরাং, উদ্দীপকের মূলবক্তব্য 'জীবন ও বৃক্ষ' প্রবন্ধের জীবনদর্শন ও সৌন্দর্যচেতনার আলোকবর্তিকা হিসেবে সার্থকভাবে প্রতিফলিত হয়েছে।

আরও প্রশ্ন অনুশীলন করতে অ্যাপে যাও

সম্পর্কিত প্রশ্ন