বাংলা ১ম পত্র • Chattogram Board • চট্টগ্রাম বোর্ড ২০১৭

বাংলা ১ম পত্র প্রশ্ন

হউক সে মহাজ্ঞানী মহাধনবান,অসীম ক্ষমতা তার অতুল সম্মান।…………………………….হউক বীরেন্দ্র সে যেন রোস্তমশত শত দাস তার সেবুক চরণকরুক স্তাবকদল স্তব সংকীর্তন। কিন্তু যে সাধেনি কভু জন্মভূমি হিত,স্বজাতির সেবা যে করেনি কিঞ্চিৎজানাও সে নরাধমে জানাও সত্বরঅতীব ঘৃণিত সে পাষণ্ড বর্বর।

  1. ক)

    রাইসুল জুহালার প্রকৃত নাম কী?

    (1)
  2. খ)

    ঘরের লোক অবিশ্বাসী হলে বাইরের লোকের পক্ষে সবই সম্ভব” বলতে কী বোঝানো হয়েছে?

    (2)
  3. গ)

    "উদ্দীপকের মূলভাব 'সিরাজউদ্দৌলা' নাটকের নবাবের জন্য প্রযোজ্য নয়"- ব্যাখ্যা করো।

    (3)
  4. ঘ)

    উদ্দীপকের শেষ চরণ 'সিরাজউদ্দৌলা' নাটকের প্রধান সেনাপতিকে নির্দেশ করে কি? তোমার উত্তরের সপক্ষে যুক্তি দেখাও।

    (4)

উত্তর ও ব্যাখ্যা

  1. ক)

    AI-তৈরি নমুনা উত্তর

    রাইসুল জুহালার প্রকৃত নাম মীর মদন নয়, বরং উমর বেগ (বা নাটকের গুপ্তচর নারায়ণ সিংহ/উমর বেগ, সিকান্দার আবু জাফরের 'সিরাজউদ্দৌলা' নাটকে রাইসুল জুহালা হলো উমর বেগের ছদ্মনাম)।

  2. খ)

    AI-তৈরি নমুনা উত্তর

    "ঘরের লোক অবিশ্বাসী হলে বাইরের লোকের পক্ষে সবই সম্ভব" বলতে বোঝানো হয়েছে যে, অভ্যন্তরীণ বিশ্বাসঘাতকতার কারণেই বাইরের শত্রুরা আধিপত্য বিস্তারের সুযোগ পায়।

    'সিরাজউদ্দৌলা' নাটকে নবাবের নিজের দরবারের সভাসদ, সেনাপতি মীরজাফর ও পরিবারের ঘনিষ্ঠজন (ঘসেটি বেগম) নবাবের সঙ্গে চরম বিশ্বাসঘাতকতা করেছিল। ঘরের লোকের এই বিশ্বাসঘাতকতা ও সহায়তার কারণেই দূরবর্তী বিদেশি শক্তি ইংরেজরা বাংলার স্বাধীনতা হরণ করার সাহস ও সুযোগ পেয়েছিল।

  3. গ)

    AI-তৈরি নমুনা উত্তর

    উদ্দীপকের মূলভাবটি দেশপ্রেমহীন, স্বার্থপর ও স্বজাতির প্রতি দায়িত্বহীন মানুষকে ধিক্কার দেওয়ার কথা বলে, যা 'সিরাজউদ্দৌলা' নাটকের দেশপ্রেমিক নবাবের ক্ষেত্রে কোনোভাবেই প্রযোজ্য নয়।

    উদ্দীপকে বলা হয়েছে, কোনো ব্যক্তি যতই জ্ঞানী, ক্ষমতাধর বা বিত্তবান হোক না কেন, সে যদি জন্মভূমির কল্যাণ না করে বা স্বজাতির সেবা না করে, তবে সে ঘৃণিত, পাষণ্ড ও নরাধম হিসেবে পরিগণিত হবে। অর্থাৎ, জন্মভূমির প্রতি অকৃতজ্ঞতা উদ্দীপকের মূল সমালোচ্য বিষয়।

    অন্যদিকে, 'সিরাজউদ্দৌলা' নাটকে নবাব সিরাজউদ্দৌলা ছিলেন একজন প্রকৃত দেশপ্রেমিক শাসক। তিনি শেষ পর্যন্ত জন্মভূমি বাংলার স্বাধীনতা রক্ষার জন্য ইংরেজ এবং দেশীয় ষড়যন্ত্রকারীদের বিরুদ্ধে লড়াই করেছেন। সিংহাসন বা নিজের জীবনের চেয়ে দেশের মান-মর্যাদা ও প্রজাদের সুরক্ষাই ছিল তাঁর কাছে প্রধান। তিনি জন্মভূমির সেবা ও স্বার্থরক্ষায় নিজের জীবন উৎসর্গ করেছেন। তাই দেশপ্রেমহীন নরাধমের বর্ণনা সিরাজউদ্দৌলার মতো বীর দেশপ্রেমিকের চরিত্রের সাথে সম্পূর্ণ বিপরীত এবং তাঁর ক্ষেত্রে প্রযোজ্য নয়।

  4. ঘ)

    AI-তৈরি নমুনা উত্তর

    হ্যাঁ, উদ্দীপকের শেষ চরণ—"জানাও সে নরাধমে জানাও সত্বর / অতীব ঘৃণিত সে পাষণ্ড বর্বর"—'সিরাজউদ্দৌলা' নাটকের প্রধান সেনাপতি মীরজাফরকে নির্দেশ করে। নিচে এর সপক্ষে যুক্তি উপস্থাপন করা হলো:

    উদ্দীপকে যিনি স্বজাতির সেবা করেননি এবং জন্মভূমির কোনো হিতসাধন না করে বিশ্বাসঘাতকতা করেছেন, তাঁকে চরম ঘৃণিত, নরাধম ও পাষণ্ড বর্বর বলে আখ্যা দেওয়া হয়েছে।

    'সিরাজউদ্দৌলা' নাটকে প্রধান সেনাপতি মীরজাফর ছিলেন সর্বোচ্চ সম্মান, ক্ষমতা ও প্রতিপত্তির অধিকারী। নবাবের প্রধান সেনাপতি হওয়া সত্ত্বেও তিনি জন্মভূমির স্বাধীনতা ও স্বার্থ বিসর্জন দিয়ে ক্ষমতা ও অর্থের লোভে ইংরেজদের সাথে হাত মেলান। পলাশীর যুদ্ধে তিনি সসৈন্যে পুতুলের মতো দাঁড়িয়ে থেকে নবাব তথা পুরো বাংলার পতন নিশ্চিত করেন। স্বজাতি ও জন্মভূমির সাথে এমন জঘন্য বিশ্বাসঘাতকতার ফলে বাংলার স্বাধীনতা অস্তমিত হয়।

    ইতিহাস ও নাটকে মীরজাফরের মতো দেশদ্রোহী চরিত্র চিরকাল 'অতীব ঘৃণিত' ও 'বিশ্বাসঘাতক' হিসেবে চিহ্নিত হয়ে আসছে। তাই জন্মভূমির হিতসাধন না করা এবং জাতির চরম ক্ষতিসাধনকারী হিসেবে উদ্দীপকের শেষ চরণের ধিক্কার নাটকের প্রধান সেনাপতি মীরজাফরের চরিত্রকেই যথাযথভাবে নির্দেশ করে।

আরও প্রশ্ন অনুশীলন করতে অ্যাপে যাও

সম্পর্কিত প্রশ্ন