বাংলা ২য় পত্র • Sylhet Board • সিলেট বোর্ড ২০১৬
বাংলা ২য় পত্র প্রশ্ন
9.
(ক)সারমর্ম লেখ:ক্ষমা যেথা ক্ষীণ দুর্বলতা,হে রুদ্র, নিষ্ঠুর যেন হতে পারি তথাতোমার আদেশে। যেন রসনায় মমসত্যবাক্য ঝলি ওঠে খরখড়গ সমতোমার ইঙ্গিতে। যেন রাখি তব মানতোমার বিচারাসনে লয়ে নিজ স্থান।অন্যায় যে করে আর অন্যায় যে সহেতব ঘৃণা তারে যেন তৃণসম দহে।অথবা, (খ) ভাব-সম্প্রসারণ কর:-সাহিত্য জাতির দর্পর্ণ স্বরূপ।
উত্তর ও ব্যাখ্যা
AI-তৈরি নমুনা উত্তর
(ক) সারমর্ম:
অন্যায়কারী ও অন্যায় সহ্যকারী উভয়েই সমান অপরাধী। দুর্বলতাবশত অন্যায়কে ক্ষমা প্রদর্শন করা অনুচিত। সত্য ও ন্যায়ের প্রতিষ্ঠা এবং সমাজ থেকে অনাচার দূর করতে প্রয়োজনে অন্যায়ের বিরুদ্ধে কঠোর অবস্থান নিয়ে রুখে দাঁড়ানোই ধর্মের প্রকৃত বিধান।
অথবা,
(খ) ভাব-সম্প্রসারণ:
সাহিত্য জাতির দর্পণ স্বরূপ।
মূলভাব: আয়নায় যেমন মানুষের প্রতিচ্ছবি স্পষ্ট হয়ে ওঠে, তেমনি সাহিত্যের মাধ্যমে প্রতিফলিত হয় একটি জাতির সামগ্রিক রূপ, সংস্কৃতি, ইতিহাস ও জীবনচেতনা। সাহিত্য কেবল ব্যক্তিগত অনুভূতির প্রকাশ নয়, বরং জাতির আত্মিক স্বরূপের স্বচ্ছ প্রতিচ্ছবি।
সম্প্রসারিত ভাব: মানবসভ্যতার বিকাশ ও পরিবর্তনের প্রতিটি ধাপ সাহিত্যে বিশ্বস্তভাবে রূপায়িত হয়। অতীত ও বর্তমানের যোগসূত্র রচিত হয় সাহিত্যের মাধ্যমে। একটি জাতির সামাজিক কাঠামো, রাজনৈতিক প্রেক্ষাপট, অর্থনৈতিক বাস্তবতা, বিশ্বাস, সংস্কার এবং মানুষের আনন্দ-বেদনা সাহিত্যের পাতায় জীবন্ত থাকে। মহাকবিদের রচনা পাঠ করে আমরা অতীতের প্রাচীন সভ্যতা সম্পর্কে যেমন জানতে পারি, তেমনি আধুনিক সাহিত্যও আমাদের বর্তমান সমাজের দোষ-ত্রুটি, আশা-আকাঙ্ক্ষা এবং সংকটগুলোকে নিখুঁতভাবে তুলে ধরে। যে জাতি শিক্ষা ও সংস্কৃতিতে যত উন্নত, তাদের সাহিত্যের ভাণ্ডারও তত সমৃদ্ধ। সাহিত্যে প্রতিফলিত মানবজীবনের রূপ দেখে জাতি তার নিজের ভুলত্রুটি সংশোধন করে সামনের দিকে এগিয়ে চলার প্রেরণা লাভ করে।
মন্তব্য: সাহিত্য ছাড়া কোনো জাতির মানসিক উন্নতি ও যথার্থ বিকাশ সম্ভব নয়। তাই সাহিত্য কেবল জীবনের রূপকারই নয়, তা একটি জাতির সংস্কৃতি ও আদর্শের প্রকৃত দর্পণ।
আরও প্রশ্ন অনুশীলন করতে অ্যাপে যাও