বাংলা ১ম পত্র • Dinajpur Board • দিনাজপুর বোর্ড ২০২৫

বাংলা ১ম পত্র প্রশ্ন

"নীল নবঘনে আষাঢ় গগনে তিন ঠাঁই আর নাহিরেওগো, আজ তোরা যাসনে ঘরের বাহিরে।বাদলের ধারা ঝরে ঝরঝরআউশের খেত জলে ভরভরকালি-মাখা মেঘে ওপারে আঁধার ঘনিয়েছে দেখ চাহিরে।"

  1. ক)

    রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের প্রথম কাব্যগ্রন্থের নাম কী?

    (1)
  2. খ)

    আমারি সোনার ধানে গিয়েছে ভরি।' বলতে কী বোঝানো হয়েছে?

    (2)
  3. গ)

    উদ্দীপক ও 'সোনার তরী' কবিতার বর্ষা প্রকৃতির তুলনামূলক চিত্র অঙ্কন কর।

    (3)
  4. ঘ)

    উদ্দীপকটি 'সোনার তরী' কবিতার মূলভাবের প্রতিনিধিত্ব করে না।"-মন্তব্যটি বিচার কর।

    (4)

উত্তর ও ব্যাখ্যা

  1. ক)

    AI-তৈরি নমুনা উত্তর

    রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের প্রথম প্রকাশিত কাব্যগ্রন্থের নাম 'কবিকাহিনী' (১৮৭৮)।

  2. খ)

    AI-তৈরি নমুনা উত্তর

    'আমারি সোনার ধানে গিয়েছে ভরি।' বলতে কবির সারাজীবনের সৃষ্টিশীল কর্ম বা শিল্পসম্ভার পরিপূর্ণতা পাওয়ার দিকটি বোঝানো হয়েছে।

    'সোনার তরী' কবিতায় রূপক অর্থে কৃষক হলেন স্বয়ং কবি এবং সোনার ধান হলো তাঁর সারা জীবনের সৃষ্টি বা সাহিত্যকর্ম। কবি নদীঘেরা ছোট ক্ষেতে একা বসে তাঁর সমস্ত সৃজনকর্ম পরম যত্নে সোনার তরীতে তুলে দেন। কর্মগুলো যে সার্থক ও পরিপূর্ণ হয়েছে, তা বোঝাতেই কবি উক্ত চরণের অবতারণা করেছেন।

  3. গ)

    AI-তৈরি নমুনা উত্তর

    উদ্দীপক এবং 'সোনার তরী' কবিতায় বর্ষা প্রকৃতির মেঘলা আকাশ ও একটানা বর্ষণের রূপ চমৎকারভাবে ফুটে উঠেছে।

    উদ্দীপকে আষাঢ়ের মেঘলা আকাশ, অবিরাম ধারাবর্ষণ, আউশ ধানের ক্ষেত পানিতে ভেসে যাওয়া এবং দূর প্রান্তরে আঁধার ঘনিয়ে আসার চিত্র বর্ণিত হয়েছে। সেখানে দুর্যোগপূর্ণ আবহাওয়ায় ঘরের বাইরে না যাওয়ার আবহ তৈরি হয়েছে।

    'সোনার তরী' কবিতার শুরুতেই বর্ষার একটি ভয়াল ও গম্ভীর রূপ ফুটে ওঠে: 'গগনে গরজে মেঘ, ঘন বরষা। / কূলে একা বসে আছি, নাহি ভরসা।' কবিতায় নদীর ক্ষুরধারা স্রোত, মেঘের ঘনঘটা এবং চারপাশের জলরাশির বৃদ্ধির মাধ্যমে বর্ষার নিঃসঙ্গ ও অনিশ্চিত রূপ ধরা পড়েছে। উদ্দীপক ও কবিতা উভয়েই মেঘাচ্ছন্ন আকাশ এবং বৃষ্টির অপরূপ কিন্তু ভয়াল রূপ চিত্রায়িত হয়েছে; তবে উদ্দীপকে গৃহকোণে অবস্থানের সাধারণ চিত্র প্রকাশিত হলেও কবিতায় প্রকৃতির নির্জনতার মাঝে একাকীত্ব ও গভীর দার্শনিক চেতনার পটভূমি হিসেবে বর্ষা প্রকৃতিকে ব্যবহার করা হয়েছে।

  4. ঘ)

    AI-তৈরি নমুনা উত্তর

    "উদ্দীপকটি 'সোনার তরী' কবিতার মূলভাবের প্রতিনিধিত্ব করে না।"—মন্তব্যটি সম্পূর্ণ সত্য ও সুসংগত।

    উদ্দীপকে কেবল আষাঢ় মাসের অবিরাম বর্ষণ, মেঘলা আকাশ ও দুর্যোগের কারণে ঘরের বাইরে না যাওয়ার উপদেশমূলক একটি প্রাকৃতিক বর্ণনা দেওয়া হয়েছে, যা শুধুই বর্ষার বাহ্যিক রূপ।

    অন্যদিকে, রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের 'সোনার তরী' কবিতাটি বর্ষা প্রকৃতির রূপকে রচিত হলেও এর মূলভাব অত্যন্ত গভীর ও দার্শনিক। কবিতাটিতে মহাকালের নিষ্ঠুর সত্য ও মানুষের সৃষ্টিশীলতার দ্বান্দ্বিক রূপ ফুটে উঠেছে। কৃষক তার সারাজীবনের অর্জিত সোনার ধান নৌকায় তুলে দেয় এবং সেই ধান মহাকালের তরী সাদরে গ্রহণ করে। কিন্তু ক্ষণভঙ্গুর মানবসত্তার সেই তরীতে ঠাঁই হয় না। ব্যক্তিমানুষের নশ্বর শরীরকে মহাকালের শূন্যতায় বিলীন হতে হয়, কেবল বেঁচে থাকে তার মহৎ সৃষ্টি।

    উদ্দীপকে কেবল বর্ষার রূপবৈচিত্র্য এসেছে, মহাকালের নির্মমতা, ব্যক্তির নশ্বরতা কিংবা সৃষ্টির অবিনশ্বরতার কোনো দার্শনিক সংকেত নেই। অতএব, উদ্দীপকটি বাহ্যিক প্রকৃতির সাদৃশ্য প্রকাশ করলেও 'সোনার তরী' কবিতার মূল দার্শনিক ভাবকে কোনোভাবেই প্রতিনিধিত্ব করে না।

আরও প্রশ্ন অনুশীলন করতে অ্যাপে যাও

সম্পর্কিত প্রশ্ন