জীববিজ্ঞান ১ম পত্র • Chattogram Board • চট্টগ্রাম বোর্ড ২০২২
জীববিজ্ঞান ১ম পত্র প্রশ্ন

- ক)(1)
ক্যাপসিড কী?
- খ)(2)
ব্যাকটেরিয়া আদিকোষী কেন ?
- গ)(3)
নমুনা 'A' জীব এবং জড়ের সেতুবন্ধন – ব্যাখ্যা করো।
- ঘ)(4)
নমুনা 'A' এর উত্তম পোষক নমুনা 'B'-উক্তিটি বিশ্লেষণ করো।
উত্তর ও ব্যাখ্যা
- ক)
AI-তৈরি নমুনা উত্তর
ভাইরাসের নিউক্লিক অ্যাসিডকে (DNA বা RNA) ঘিরে রাখা প্রোটিন নির্মিত আবরণকে ক্যাপসিড বলে।
- খ)
AI-তৈরি নমুনা উত্তর
ব্যাকটেরিয়ায় সুগঠিত নিউক্লিয়াস থাকে না অর্থাৎ নিউক্লিয়ার মেমব্রেন ও নিউক্লিওলাস অনুপস্থিত থাকে এবং এদের ক্রোমোজোমে কেবল একটি দ্বিসূত্রক বৃত্তাকার DNA অণু (নিউক্লিঅয়েড) হিস্টোন প্রোটিন ব্যতীত অবস্থান করে। তাছাড়া ঝিল্লিবেষ্টিত কোনো সাইটোপ্লাজমীয় অঙ্গাণু (যেমন- মাইটোকন্ড্রিয়া, গলগি বস্তু, এন্ডোপ্লাজমিক রেটিকুলাম ইত্যাদি) থাকে না, শুধু ৭০S রাইবোসোম উপস্থিত থাকে। তাই ব্যাকটেরিয়াকে আদিকোষী বা প্রোক্যারিওটিক জীব বলা হয়।
- গ)
AI-তৈরি নমুনা উত্তর
উদ্দীপকের নমুনা 'A' হলো ব্যাকটেরিওফায, যা একটি ভাইরাস। ভাইরাসকে জীব ও জড়ের সেতুবন্ধন বলা হয় কারণ এতে একই সাথে জড় ও জীবীয় উভয় বৈশিষ্ট্যই বিদ্যমান।
১. জড় বৈশিষ্ট্য: ভাইরাসের নিজস্ব কোনো সাইটোপ্লাজম, কোষঝিল্লি, বা বিপাকীয় এনজাইম থাকে না। জীবদেহের বাইরে ভাইরাস সম্পূর্ণ নিষ্ক্রিয় কণার মতো আচরণ করে এবং রাসায়নিক পদার্থের মতো এদের কেলাসিত (crystallized) করা যায়। এ অবস্থায় এদের কোনো পুষ্টি, শ্বসন বা বৃদ্ধি পরিলক্ষিত হয় না।
২. জীবীয় বৈশিষ্ট্য: উপযুক্ত পোষকদেহের অভ্যন্তরে প্রবেশ করলে ভাইরাসের জেনেটিক বস্তু (DNA বা RNA) সক্রিয় হয়ে ওঠে। এরা পোষক কোষের জৈব রাসায়নিক যন্ত্রপাতি ব্যবহার করে নিজের অনুরূপ অপত্য ভাইরাস সৃষ্টি (প্রতিলিপন) করতে পারে। এছাড়াও ভাইরাসে মিউটেশন ও বংশগতিয় প্রকরণ তৈরির ক্ষমতা রয়েছে।
যেহেতু নমুনা 'A'-এর নিজস্ব কোনো স্বাধীন জীবন নেই কিন্তু পোষকদেহে জীবের মতো সংখ্যাবৃদ্ধি করে, তাই এটি জড় ও জীবের অন্তর্বর্তী বা উভয়ের মধ্যে সেতুবন্ধন হিসেবে বিবেচিত হয়।
- ঘ)
AI-তৈরি নমুনা উত্তর
উদ্দীপকের নমুনা 'A' হলো ব্যাকটেরিওফায এবং নমুনা 'B' হলো একটি ব্যাকটেরিয়া (প্রধানত Escherichia coli বা ই. কোলাই)। নমুনা 'A' অর্থাৎ ফাযের বংশবৃদ্ধি ও জীবনচক্র সম্পন্ন করার জন্য নমুনা 'B' অর্থাৎ ব্যাকটেরিয়া একটি আদর্শ ও উত্তম পোষক। নিচে তা বিশ্লেষণ করা হলো:
১. আক্রমণ ও সংযুক্তি: ফাযের স্পর্শক তন্তু ব্যাকটেরিয়ার প্রাচীরের নির্দিষ্ট রিসেপ্টর সাইটকে শনাক্ত করে আবদ্ধ হয়।
২. জেনেটিক বস্তুর প্রবেশ: ফাযের লেজের সংকোচনশীল আবরণী সংকুচিত হয়ে এবং লাইসোজাইম এনজাইমের সাহায্যে ব্যাকটেরিয়ার কোষপ্রাচীর বিগলিত করে ফাযের DNA ব্যাকটেরিয়ার সাইটোপ্লাজমে প্রবেশ করিয়ে দেয়, কিন্তু প্রোটিন খোলস বাইরে পড়ে থাকে।
৩. পোষকের বিপাক নিয়ন্ত্রণ: ব্যাকটেরিয়ার অভ্যন্তরে প্রবেশ করার পর ফায DNA ব্যাকটেরিয়ার নিজস্ব জিনোমকে অকার্যকর করে দেয় এবং ব্যাকটেরিয়ার এনজাইম, রাইবোসোম ও শক্তি ব্যবহার করে নিজের DNA ও প্রোটিন তৈরি করতে বাধ্য করে।
৪. অপত্য ফায গঠন: ব্যাকটেরিয়ার অভ্যন্তরে প্রায় ৩০০টি নতুন ফায গঠিত হয়।
৫. লাইটিক চক্রের সমাপ্তি: পরিশেষে ব্যাকটেরিয়ার কোষপ্রাচীর ফেটে গিয়ে (লাইসিস ঘটিয়ে) নতুন গঠিত ফাযগুলো মুক্ত হয়।
এভাবে নমুনা 'A' তার সম্পূর্ণ জীবনচক্র (লাইটিক চক্র) নমুনা 'B'-এর অভ্যন্তরে অত্যন্ত সফলভাবে সম্পন্ন করে। তাই বলা যায়, নমুনা 'A' এর উত্তম পোষক নমুনা 'B'- উক্তিটি যথার্থ।
আরও প্রশ্ন অনুশীলন করতে অ্যাপে যাও