উৎপাদন ব্যাবস্থাপনা ও বিপণন ১ম পত্র • Rajshahi Board • রাজশাহী বোর্ড ২০২১
উৎপাদন ব্যাবস্থাপনা ও বিপণন ১ম পত্র প্রশ্ন
সূর্যমুখী এন্টারপ্রাইজ-এর উৎপাদন সম্পর্কে তথ্য নিম্নরূপ—

- ক)(1)
পরিবর্তনশীল ব্যয় কী?
- খ)(2)
"অমিতব্যয়ী উৎপাদন মাত্রা কোম্পানির জন্য ক্ষতিকর"- ব্যাখ্যা করো।
- গ)(3)
সূর্যমুখী এন্টারপ্রাইজ এর কাম্য উৎপাদন মাত্রা কত? উদ্দীপকের আলোকে ব্যাখ্যা করো।
- ঘ)(4)
"মাত্রাজনিত ব্যয়সংকোচ স্তর অতিক্রম করে উৎপাদন বাড়লে গড় ব্যয় বাড়ে" উদ্দীপকের আলোকে বিশ্লেষণ করো।
উত্তর ও ব্যাখ্যা
- ক)
AI-তৈরি নমুনা উত্তর
উৎপাদনের পরিমাণ পরিবর্তনের সাথে সাথে যে ব্যয় পরিবর্তিত হয়, তাকে পরিবর্তনশীল ব্যয় (Variable Cost) বলে।
- খ)
AI-তৈরি নমুনা উত্তর
অমিতব্যয়ী উৎপাদন মাত্রায় উৎপাদনের মাত্রা অতিরিক্ত বৃদ্ধির কারণে একক প্রতি গড় ব্যয় বৃদ্ধি পায়, যা কোম্পানির জন্য অত্যন্ত ক্ষতিকর।
কোনো প্রতিষ্ঠান তার কাম্য বা মিতব্যয়ী উৎপাদন মাত্রা অতিক্রম করে অতিরিক্ত উৎপাদন পরিচালনা করলে ব্যবস্থাপনাগত জটিলতা, সমন্বয়ের অভাব, কাঁচামালের অপচয় ও পরিবহন খরচ বৃদ্ধির মতো নানা ধরনের মাত্রাজনিত ব্যয়বৃদ্ধির (Diseconomies of Scale) সম্মুখীন হয়। এর ফলে একক প্রতি উৎপাদন খরচ বেড়ে যায়, পণ্যের মূল্য প্রতিদ্বন্দ্বী প্রতিষ্ঠানের চেয়ে বেশি রাখতে হয় এবং বাজারে প্রতিযোগিতায় পিছিয়ে পড়ে কোম্পানির মুনাফা হ্রাস পায়। তাই অমিতব্যয়ী উৎপাদন মাত্রা কোম্পানির জন্য ক্ষতিকর।
- গ)
AI-তৈরি নমুনা উত্তর
উদ্দীপকের চিত্রে সূর্যমুখী এন্টারপ্রাইজ-এর কাম্য উৎপাদন মাত্রা হলো ১৫,০০০ একক।
যে পরিমাণ উৎপাদনে একক প্রতি গড় ব্যয় সর্বনিম্ন হয়, উৎপাদনের সেই পরিমাণকে কাম্য উৎপাদন মাত্রা (Optimum Scale of Production) বা মিতব্যয়ী উৎপাদন মাত্রা বলে। এই স্তরে প্রতিষ্ঠানের দক্ষতা সর্বোচ্চ পর্যায়ে থাকে।
উদ্দীপকের চিত্রে দেখা যায়, সূর্যমুখী এন্টারপ্রাইজ যখন ৫,০০০ একক উৎপাদন করে তখন একক প্রতি গড় ব্যয় ১০ টাকা। উৎপাদন বাড়িয়ে ১০,০০০ একক করলে গড় ব্যয় হ্রাস পেয়ে হয় ৬ টাকা। সর্বশেষ উৎপাদন ১৫,০০০ একক হলে দীর্ঘমেয়াদি গড় ব্যয় সর্বনিম্ন ৪ টাকায় নেমে আসে। যেহেতু ১৫,০০০ এককে একক প্রতি গড় উৎপাদন ব্যয় সর্বনিম্ন (৪ টাকা), তাই উদ্দীপকের আলোকে প্রতিষ্ঠানটির কাম্য উৎপাদন মাত্রা হলো ১৫,০০০ একক।
- ঘ)
AI-তৈরি নমুনা উত্তর
"মাত্রাজনিত ব্যয়সংকোচ স্তর অতিক্রম করে উৎপাদন বাড়লে গড় ব্যয় বাড়ে"— উক্তিটি অর্থনৈতিক ও উৎপাদন ব্যবস্থাপনার তত্ত্ব অনুযায়ী সম্পূর্ণ যথার্থ।
উৎপাদনের পরিমাণ বৃদ্ধির সাথে সাথে যখন একক প্রতি গড় উৎপাদন ব্যয় হ্রাস পায়, তাকে মাত্রাজনিত ব্যয়সংকোচ বা মিতব্যয়ী উৎপাদন মাত্রা বলে। উদ্দীপকের চিত্রে দেখা যাচ্ছে, সূর্যমুখী এন্টারপ্রাইজের উৎপাদন ৫,০০০ একক থেকে বৃদ্ধি পেয়ে ১০,০০০ একক এবং পরবর্তীতে ১৫,০০০ একক হওয়া পর্যন্ত একক প্রতি গড় ব্যয় যথাক্রমে ১০ টাকা থেকে কমে ৬ টাকা ও ৪ টাকায় নেমে এসেছে। ১৫,০০০ এককে প্রতিষ্ঠানটি তার কাম্য উৎপাদন মাত্রা বা সর্বনিম্ন গড় ব্যয় স্তরে পৌঁছায়। এটিই প্রতিষ্ঠানটির মিতব্যয়ী বা ব্যয়সংকোচ স্তর।
তবে এই কাম্য উৎপাদন মাত্রা (১৫,০০০ একক) অতিক্রম করে যদি প্রতিষ্ঠান উৎপাদন আরো বৃদ্ধি করতে চায়, তখন ব্যবস্থাপনার ওপর মাত্রাতিরিক্ত চাপ সৃষ্টি হয়, নিয়ন্ত্রণ ও তদারকি দুর্বল হয়ে পড়ে এবং সম্পদের অপব্যবহার ঘটে। ফলে মাত্রাজনিত ব্যয়বৃদ্ধি বা অমিতব্যয়িতার (Diseconomies of Scale) উদ্ভব হয়। দীর্ঘমেয়াদি গড় ব্যয় (LRAC) রেখাটি সাধারণত 'U' আকৃতির হয়ে থাকে। চিত্রে কাম্য স্তর পর্যন্ত রেখাটি নিম্নগামী দেখানো হয়েছে, কিন্তু এই স্তর অতিক্রম করলে গড় ব্যয় রেখা ঊর্ধ্বগামী হয়, অর্থাৎ একক প্রতি গড় ব্যয় পুনরায় বাড়তে থাকে।
অতএব, উদ্দীপকের মিতব্যয়ী উৎপাদন মাত্রা (১৫,০০০ একক) অতিক্রম করে উৎপাদন বাড়ালে অমিতব্যয়িতার কারণে একক প্রতি গড় ব্যয় বৃদ্ধি পায়। সুতরাং বক্তব্যটি পুরোপুরি সঠিক ও যুক্তিযুক্ত।
আরও প্রশ্ন অনুশীলন করতে অ্যাপে যাও