অর্থনীতি ২য় পত্র • Rajshahi Board • রাজশাহী বোর্ড ২০১৬
অর্থনীতি ২য় পত্র প্রশ্ন
সালাম আমেরিকা প্রবাসী। তার বাংলাদেশি বন্ধু জাহিদ আমেরিকা বেড়াতে গেছেন। সালাম তার বন্ধুকে বলল, আমেরিকা কত সুন্দর ও সমৃদ্ধশালী। তোমরা অনুন্নতই রয়ে গেলে। জাহিদ জবাবে বলল, বাংলাদেশের অবস্থা এখন আগের মতো নেই। বিশ্ব মন্দার পরও কৃষিক্ষেত্রে প্রবৃদ্ধি, কারিগরি জ্ঞানের প্রসার, শিক্ষার হার বৃদ্ধি হয়েছে। বৈদেশিক বাণিজ্যে ঘাটতি হ্রাস পাচ্ছে। দেশের দারিদ্র্য বিমোচনের মাধ্যমে সমৃদ্ধিশালী বাংলাদেশ গড়ার জন্য বর্তমান সরকার বিভিন্ন উন্নয়নমূলক কার্যক্রম বাস্তবায়ন করছে।
- ক)(1)
প্রাকৃতিক পরিবেশ কাকে বলে?
- খ)(2)
মূলধনের স্বল্পতাই কি অর্থনৈতিক পশ্চাৎপদতার প্রধান কারণ? ব্যাখ্যা করো।
- গ)(3)
তুমি কি মনে কর বাংলাদেশ একটি উন্নয়নশীল দেশ? উদ্দীপকের আলোকে যুক্তি দেখাও।
- ঘ)(4)
দারিদ্র্য বিমোচনে উদ্দীপকে গৃহীত সরকারি পদক্ষেপ কি যথেষ্ট বলে মনে কর? ব্যাখ্যা করো।
উত্তর ও ব্যাখ্যা
- ক)
AI-তৈরি নমুনা উত্তর
প্রকৃতির দ্বারা সৃষ্ট যেসব উপাদান যেমন— ভূ-প্রকৃতি, জলবায়ু, নদ-নদী, মাটি, খনিজ সম্পদ, বনভূমি ইত্যাদি নিয়ে যে পরিবেশ গঠিত হয়, তাকে প্রাকৃতিক পরিবেশ বলে।
- খ)
AI-তৈরি নমুনা উত্তর
হ্যাঁ, মূলধনের স্বল্পতা অর্থনৈতিক পশ্চাৎপদতার অন্যতম প্রধান কারণ।
একটি অনুন্নত বা উন্নয়নশীল দেশে জনগণের মাথাপিছু আয় কম থাকায় সঞ্চয়ের ক্ষমতা কম থাকে। কম সঞ্চয়ের ফলে মূলধন গঠনের হারও অত্যন্ত নিম্ন হয়। পর্যাপ্ত মূলধনের অভাবে উৎপাদনশীল খাতে নতুন বিনিয়োগ সম্ভব হয় না, যার কারণে উৎপাদন ও কর্মসংস্থান ব্যাহত হয়। অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধির গতি ধীর থাকায় দেশ দরিদ্রতার দুষ্টচক্রে আবদ্ধ হয়ে অর্থনৈতিকভাবে পশ্চাৎপদ থাকে। তাই মূলধনের স্বল্পতা অর্থনৈতিক পশ্চাৎপদতার মূল বা প্রধান চালিকাশক্তি হিসেবে কাজ করে।
- গ)
AI-তৈরি নমুনা উত্তর
হ্যাঁ, আমি মনে করি বাংলাদেশ একটি উন্নয়নশীল দেশ।
যেসব দেশ তাদের অনুন্নত অবস্থা কাটিয়ে অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধি অর্জন করছে এবং ক্রমেই উন্নত দেশের বৈশিষ্ট্যের দিকে ধাবিত হচ্ছে, সেগুলোকে উন্নয়নশীল দেশ বলা হয়। উন্নয়নশীল দেশের অন্যতম বৈশিষ্ট্য হলো কৃষির আধুনিকায়ন, শিক্ষার হার বৃদ্ধি, কাঠামোগত রূপান্তর এবং মাথাপিছু আয় বৃদ্ধি।
উদ্দীপকে দেখা যায়, জাহিদ তার প্রবাসী বন্ধুকে জানায় যে বাংলাদেশের অবস্থা আগের মতো অনুন্নত নেই। বিশ্ব অর্থনৈতিক মন্দার মধ্যেও কৃষিক্ষেত্রে উৎপাদন বৃদ্ধি পেয়েছে, আধুনিক কারিগরি জ্ঞানের প্রসার ঘটেছে, স্বাক্ষরতার হার বাড়ছে এবং বৈদেশিক বাণিজ্যে ঘাটতি কমে আসছে। এসব নির্দেশক স্পষ্টভাবে প্রমাণ করে যে বাংলাদেশ স্থির অনুন্নত অর্থনীতি থেকে রূপান্তর ঘটিয়ে ধারাবাহিকভাবে অর্থনৈতিক অগ্রগতি অর্জন করছে। অতএব, উদ্দীপকের তথ্যের আলোকে নিঃসন্দেহে বলা যায় যে বাংলাদেশ একটি উন্নয়নশীল দেশ।
- ঘ)
AI-তৈরি নমুনা উত্তর
দারিদ্র্য বিমোচনে উদ্দীপকে উল্লেখিত সরকারি পদক্ষেপগুলো প্রশংসনীয় ও ইতিবাচক হলেও তা দারিদ্র্য সম্পূর্ণ নির্মূলের জন্য এককভাবে যথেষ্ট নয় বলে আমি মনে করি।
উদ্দীপকে দারিদ্র্য দূরীকরণে কৃষির প্রবৃদ্ধি, কারিগরি জ্ঞান বিস্তার, শিক্ষার হার বৃদ্ধি এবং বাণিজ্যের ঘাটতি হ্রাসের মতো সরকারি উন্নয়নমূলক কর্মকাণ্ডের কথা উল্লেখ করা হয়েছে। এগুলো দারিদ্র্য হ্রাসে সহায়ক ভূমিকা পালন করে ঠিকই, কিন্তু বাংলাদেশের মতো বিপুল জনসংখ্যার দেশে কার্যকরভাবে দারিদ্র্য বিমোচন করতে হলে আরও বহুমুখী ও সমন্বিত পদক্ষেপ প্রয়োজন।
দারিদ্র্য সম্পূর্ণ নির্মূল করতে হলে উদ্দীপকে উল্লেখিত উদ্যোগের পাশাপাশি ব্যাপক কর্মসংস্থান সৃষ্টি, সুষম আয় বণ্টন নিশ্চিত করা এবং অর্থনৈতিক বৈষম্য দূর করা আবশ্যক। এছাড়া দুর্নীতি দমন, সামাজিক নিরাপত্তা বেষ্টনী কর্মসূচির পরিধি বৃদ্ধি ও স্বচ্ছতা, ক্ষুদ্র ও মাঝারি শিল্পের (SME) দ্রুত বিকাশ এবং রাজনৈতিক স্থিতিশীলতা নিশ্চিত করা প্রয়োজন। একই সাথে প্রাকৃতিক দুর্যোগের ঝুঁকি মোকাবেলা ও স্বাস্থ্যসেবার সার্বজনীন সুযোগ না থাকলে অর্জিত সুফল ধরে রাখা কঠিন হয়।
সুতরাং, উদ্দীপকে উল্লেখিত পদক্ষেপগুলো দারিদ্র্য বিমোচনে গুরুত্বপূর্ণ ভিত্তি গড়ে তুললেও সার্বিক দারিদ্র্য বিমোচনে তা এককভাবে যথেষ্ট নয়; এজন্য আরো সুদূরপ্রসারী ও সার্বিক অর্থনৈতিক সংস্কার প্রয়োজন।
আরও প্রশ্ন অনুশীলন করতে অ্যাপে যাও