যুক্তিবিদ্যা ২য় পত্র • Dinajpur Board • দিনাজপুর বোর্ড ২০২৫
যুক্তিবিদ্যা ২য় পত্র প্রশ্ন
পরীক্ষায় যুক্তিবিদ্যার একটি প্রশ্নে 'মানুষ' পদের সংজ্ঞা লিখতে বলা হয়। উত্তরপত্রে শ্যামল, কমল ও রনি নিম্নের উত্তরগুলো লিখল: শ্যামল: "মানুষ হয় জীব।" কমল: "মানুষ হয় বুদ্ধিবৃত্তিসম্পন্ন ফর্সা জীব।" রনি: "মানুষ হলো মনুষ্য জাতীয় জীব।"
- ক)(1)
যৌক্তিক সংজ্ঞার নিয়ম কয়টি?
- খ)(2)
রূপক সংজ্ঞা অনুপপত্তি কখন ঘটে?
- গ)(3)
উদ্দপকে রনির প্রদত্ত সংজ্ঞায় কোন ধরনের অনুপপত্তি ঘটেছে? ব্যাখ্যা করো।
- ঘ)(4)
শ্যামল ও কমলের প্রদত্ত সংজ্ঞা দুটির তুলনামূলকবিশ্লেষণ করো।
উত্তর ও ব্যাখ্যা
- ক)
AI-তৈরি নমুনা উত্তর
যৌক্তিক সংজ্ঞার মৌলিক নিয়ম পাঁচটি।
- খ)
AI-তৈরি নমুনা উত্তর
যৌক্তিক সংজ্ঞার দ্বিতীয় নিয়ম অনুযায়ী, সংজ্ঞায় সংজ্ঞেয় পদের চেয়ে কোনো দুর্বোধ্য, জটিল বা রূপক ভাষা ব্যবহার করা যাবে না। কিন্তু কোনো পদের অর্থ স্পষ্ট করতে গিয়ে যদি সহজ-সরল ভাষার পরিবর্তে রূপকধর্মী শব্দ বা অলংকার ব্যবহার করা হয়, তবে 'রূপক সংজ্ঞা' অনুপপত্তি ঘটে। যেমন—"উট হলো মরুভূমির জাহাজ"।
- গ)
AI-তৈরি নমুনা উত্তর
উদ্দীপকে রনির প্রদত্ত সংজ্ঞায় ("মানুষ হলো মনুষ্য জাতীয় জীব") 'চক্রক সংজ্ঞা' (Circulus in definiendo) অনুপপত্তি ঘটেছে।
যৌক্তিক সংজ্ঞার তৃতীয় নিয়ম অনুসারে, কোনো পদের সংজ্ঞায় সেই পদের সমার্থক শব্দ বা প্রতিশব্দ ব্যবহার করা যাবে না; সংজ্ঞাকে সহজ ও স্পষ্টভাবে ব্যক্ত করতে হবে। যদি কোনো পদের সংজ্ঞায় তার সমার্থক শব্দ বা বৃত্তাকার যুক্তি ব্যবহার করা হয়, তবে চক্রক সংজ্ঞা অনুপপত্তি ঘটে।
উদ্দীপকে রনি 'মানুষ' পদের সংজ্ঞা দিতে গিয়ে 'মনুষ্য জাতীয়' কথাটি ব্যবহার করেছে, যা মূলত 'মানুষ' পদেরই সমার্থক বা প্রকারান্তর রূপ। ফলে সংজ্ঞেয় পদের অর্থ নতুন বা স্পষ্টভাবে প্রকাশিত না হয়ে একটি বৃত্তাকার আবর্তনের সৃষ্টি হয়েছে। তাই রনির সংজ্ঞায় চক্রক সংজ্ঞা অনুপপত্তি ঘটেছে।
- ঘ)
AI-তৈরি নমুনা উত্তর
উদ্দীপকে শ্যামল ও কমল প্রদত্ত সংজ্ঞা দুটির তুলনামূলক বিশ্লেষণ নিম্নে দেওয়া হলো:
১. শ্যামলের প্রদত্ত সংজ্ঞা: শ্যামল বলেছে, "মানুষ হয় জীব"। যৌক্তিক সংজ্ঞার প্রথম নিয়ম হলো—কোনো পদের সংজ্ঞায় তার সম্পূর্ণ আসন্নতম জাতি ও লক্ষণ উল্লেখ করতে হবে। 'মানুষ' পদের পূর্ণ জাত্যর্থ হলো 'জীববৃত্তি' (আসন্নতম জাতি) এবং 'বুদ্ধিবৃত্তি' (লক্ষণ)। শ্যামল কেবল আসন্নতম জাতি (জীব) উল্লেখ করেছে, কিন্তু মূল বিভেদক লক্ষণ (বুদ্ধিবৃত্তি) উল্লেখ করেনি। ফলে ব্যক্ত্যর্থ বেড়ে গেছে এবং এতে 'অব্যাপক/অপূর্ণ সংজ্ঞা অনুপপত্তি' বা বিশেষ ক্ষেত্রে 'অতিনিয়ত সংজ্ঞা' জাতীয় ত্রুটি (লক্ষণ বাদ পড়ার কারণে পদের ধারণার অস্পষ্টতা) দেখা দিয়েছে।
২. কমলের প্রদত্ত সংজ্ঞা: কমল বলেছে, "মানুষ হয় বুদ্ধিবৃত্তিসম্পন্ন ফর্সা জীব"। যৌক্তিক সংজ্ঞার দ্বিতীয়/প্রথম নিয়মের অনুসিদ্ধান্ত হিসেবে জাত্যর্থের অতিরিক্ত কোনো অনাবশ্যক গুণ যোগ করা যায় না। কমল মানুষের প্রকৃত জাত্যর্থের (জীববৃত্তি ও বুদ্ধিবৃত্তি) সাথে 'ফর্সা' নামক একটি ব্যক্তিগত বা অবিচ্ছেদ্য নয় এমন অবান্তর লক্ষণ/উপলক্ষণ যুক্ত করেছে। এর ফলে সংজ্ঞাটি নির্দিষ্ট কিছু মানুষের মধ্যে সীমাবদ্ধ হয়ে পড়েছে এবং এতে 'অব্যাপক সংজ্ঞা অনুপপত্তি' (Too Narrow Definition) ঘটেছে, কারণ কালো বা শ্যামলা বর্ণের মানুষ এই সংজ্ঞার বাইরে থেকে যায়।
তুলনা: শ্যামল সংজ্ঞায় আবশ্যকীয় লক্ষণ বাদ দিয়ে জাত্যর্থ কমিয়ে ফেলেছে, যার ফলে সংজ্ঞাটি অসম্পূর্ণ থেকে গেছে। অন্যদিকে কমল অতিরিক্ত অবান্তর গুণ (ফর্সা) যোগ করে জাত্যর্থ বাড়িয়ে দিয়েছে এবং সংজ্ঞেয় পদটির ব্যক্ত্যর্থকে সংকুচিত করেছে। ফলে দুটি সংজ্ঞাই ত্রুটিপূর্ণ ও অনুপপত্তিগ্রস্ত।
আরও প্রশ্ন অনুশীলন করতে অ্যাপে যাও