বিজ্ঞান • Rajshahi Board • রাজশাহী বোর্ড ২০১৯
বিজ্ঞান প্রশ্ন
দৃশ্যকল্প-১: সজল এমন একটি কারখানায় কাজ করে যেখানে কোনো নিকৃষ্ট ধাতুর উপর সোনা, রূপার মতো মূল্যবান ধাতুর প্রলেপ দেওয়া হয়।দৃশ্যকল্প-২: সুমাইয়া রাতে পড়তে বসলে লক্ষ করে তার এলাকায় প্রায়ই কিছু সময়ের জন্য বিদ্যুৎ সরবরাহ বন্ধ থাকে। তাছাড়া সে আরো লক্ষ করল, তাদের পাশের বাড়ির লোকেরা মেইন লাইন থেকে তার টেনে বিদ্যুৎ ব্যবহার করে, যার হিসাব মিটারে উঠে না।
- ক)(1)
তড়িৎ ক্ষমতা কাকে বলে?
- খ)(2)
বৈদ্যুতিক মিস্ত্রিরা পায়ে শুষ্ক জুতা পরিধান করে কেন? ব্যাখ্যা করো।
- গ)(3)
সজলের কারখানায় কীভাবে প্রলেপ দেওয়ার কাজটি করা হয়? ব্যাখ্যা করো।
- ঘ)(4)
সুমাইয়ার লক্ষ করা প্রক্রিয়া দুটি কি আমাদের সামাজিক জীবনকে প্রভাবিত করে? বিশ্লেষণ করো।
উত্তর ও ব্যাখ্যা
- ক)
কোনো বর্তনীতে তড়িৎ শক্তি ব্যয়ের হারকে (তড়িৎ কাজ করার হার) তড়িৎ ক্ষমতা বলে।
- খ)
শুষ্ক জুতার সোল সাধারণত রাবারের তৈরি, যা তড়িৎ অপরিবাহী এবং এর রোধ অনেক বেশি। মিস্ত্রির শরীর দিয়ে মাটিতে তড়িৎ প্রবাহের পথ না পেলে বিদ্যুৎ স্পৃষ্ট হওয়ার আশঙ্কা (শক) কমে যায়। ভেজা জুতা পানির কারণে পরিবাহী হয়ে যায়, তাই শুষ্ক জুতা পরা হয়।
- গ)
সজলের কারখানায় তড়িৎ প্রলেপন (Electroplating) করা হয়। তড়িৎ বিশ্লেষণের মাধ্যমে একটি ধাতুর ওপর অন্য ধাতুর প্রলেপ দেওয়াই এর কাজ।
প্রক্রিয়া:
১. যে নিকৃষ্ট ধাতুর জিনিসে প্রলেপ দেওয়া হবে, তাকে ক্যাথোড (ঋণাত্মক পাত) করা হয়।
২. সোনা বা রূপার মতো প্রলেপের ধাতুর পাতকে অ্যানোড (ধনাত্মক পাত) করা হয়।
৩. প্রলেপের ধাতুর লবণের দ্রবণ ইলেকট্রোলাইট হিসেবে নেওয়া হয়।
৪. তড়িৎ প্রবাহ চালালে ধাতব আয়ন ক্যাথোডে জমা হয়ে জিনিসটির ওপর পাতলা প্রলেপ তৈরি করে। - ঘ)
সুমাইয়ার লক্ষ করা প্রক্রিয়া দুটি হলো লোডশেডিং (বিদ্যুৎ সরবরাহ বন্ধ থাকা) এবং অবৈধ সংযোগে বিদ্যুৎ ব্যবহার (বিদ্যুৎ চুরি)। হ্যাঁ, দুটি প্রক্রিয়াই সামাজিক জীবনকে প্রভাবিত করে।
১. লোডশেডিং: চাহিদা উৎপাদনের চেয়ে বেশি হলে লোডশেডিং হয়। এতে শিক্ষার্থীদের পড়াশোনা, কলকারখানার উৎপাদন, ব্যবসা ও দৈনন্দিন কাজ ব্যাহত হয়। অনেকে আইপিএস, জেনারেটর ব্যবহার করতে গিয়ে বাড়তি খরচ করে।
২. বিদ্যুৎ চুরি: মিটারের হিসাব ছাড়া সংযোগ নিলে সরবরাহ ব্যবস্থায় ক্ষতি (সিস্টেম লস) বাড়ে। এতে বিদ্যুতের চাহিদা বাড়ে, লোডশেডিং বেশি হয়। অনিরাপদ তারের কারণে বৈদ্যুতিক শক ও অগ্নিকাণ্ডের ঝুঁকি থাকে। সৎ গ্রাহকের ওপর বিলের বাড়তি চাপ পড়ে।
৩. দুটি সমস্যা একে অপরকে বাড়ায় এবং জাতীয় অর্থনীতি ও সামাজিক শৃঙ্খলাকে ক্ষতিগ্রস্ত করে।সুতরাং, সচেতনতা, বৈধ সংযোগ ও বিদ্যুতের অপচয় রোধ করে এসব সামাজিক সমস্যা কমানো সম্ভব।
আরও প্রশ্ন অনুশীলন করতে অ্যাপে যাও