‍পৌরনীতি ও সুশাসন ১ম পত্র • রাজনৈতিক দল, নেতৃত্ব ও সুশাসন • রাজউক উত্তরা মডেল কলেজ, ঢাকা • রাজউক উত্তরা মডেল কলেজ, ঢাকা টেস্ট পরীক্ষা ২০২৪

‍পৌরনীতি ও সুশাসন ১ম পত্র প্রশ্ন

মিজান রহমান এমন একটি দলের সদস্য যাদের নির্দিষ্ট লক্ষ্য আছে। যারা জনগণের আস্থা অর্জনে নির্বাচনের মাধ্যমে ক্ষমতা গ্রহণ করতে চায়। জনগণের হয়েও কাজ করতে চায়। যারা হেরে গেলেও জয়ী দলের প্রতি সম্মান প্রদর্শন করে।

  1. ক)

    আধুনিক গণতন্ত্র কী ধরনের গণতন্ত্র?

    (1)
  2. খ)

    শাসন বিভাগ বলতে কী বোঝায়?

    (2)
  3. গ)

    উদ্দীপকে আলোচিত বিষয়টির সংজ্ঞায়ন করো।

    (3)
  4. ঘ)

    উদ্দীপকের শেষোক্ত লাইন থেকে তোমার মতামত বিশ্লেষণ করো।

    (4)

উত্তর ও ব্যাখ্যা

  1. ক)

    AI-তৈরি নমুনা উত্তর

    আধুনিক গণতন্ত্র হলো পরোক্ষ বা প্রতিনিধিত্বমূলক গণতন্ত্র।

  2. খ)

    AI-তৈরি নমুনা উত্তর

    রাষ্ট্রের তিনটি প্রধান অঙ্গের একটি হলো শাসন বিভাগ। সরকারের যে বিভাগ সংবিধান ও আইনসভা কর্তৃক প্রণীত আইন কার্যকর করে এবং দেশের দৈনন্দিন শাসনকার্য পরিচালনা ও শৃঙ্খলা রক্ষা করে, তাকে শাসন বিভাগ বলে। রাষ্ট্রপ্রধান, সরকারপ্রধান, মন্ত্রিপরিষদ এবং বেসামরিক ও সামরিক কর্মকর্তা-কর্মচারীদের সমন্বয়ে শাসন বিভাগ গঠিত হয়।

  3. গ)

    AI-তৈরি নমুনা উত্তর

    উদ্দীপকে আলোচিত বিষয়টি হলো 'রাজনৈতিক দল' (Political Party)।
    সংজ্ঞা: রাজনৈতিক দল হলো রাজনৈতিক আদর্শ ও নীতিতে বিশ্বাসী এমন একটি সুসংগঠিত জনসমষ্টি, যারা সাংবিধানিক ও নিয়মতান্ত্রিক উপায়ে সরকার গঠন এবং জাতীয় স্বার্থ সংরক্ষণে রাষ্ট্রক্ষমতা অর্জন করতে চায়।
    রাষ্ট্রবিজ্ঞানী অ্যাডমন্ড বার্কের মতে, "রাজনৈতিক দল এমন এক জনসমষ্টিকে বোঝায় যা কোনো নির্দিষ্ট নীতি বা আদর্শের ভিত্তিতে ঐক্যবদ্ধ হয়ে জাতীয় স্বার্থ রক্ষার জন্য সমবেত প্রচেষ্টায় লিপ্ত হয়।" অধ্যাপক গেটেল বলেছেন, "রাজনৈতিক দল বলতে কম-বেশি এমন এক সংগঠিত নাগরিক সম্প্রদায়কে বোঝায় যারা একটি রাজনৈতিক একক হিসেবে কাজ করে এবং তাদের ভোটাধিকার প্রয়োগের মাধ্যমে সরকার নিয়ন্ত্রণ করতে চায়।" উদ্দীপকে মিজান রহমানের দল সুনির্দিষ্ট লক্ষ্যের ভিত্তিতে নির্বাচনে অংশ নিয়ে জনকল্যাণ ও সাংবিধানিক উপায়ে ক্ষমতা লাভের যে চেষ্টা করে, তা রাজনৈতিক দলেরই বাস্তব প্রতিচ্ছবি।

  4. ঘ)

    AI-তৈরি নমুনা উত্তর

    উদ্দীপকের শেষোক্ত লাইনটি হলো—"যারা হেরে গেলেও জয়ী দলের প্রতি সম্মান প্রদর্শন করে।" এই বক্তব্যটি একটি সুস্থ গণতান্ত্রিক সংস্কৃতির অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ উপাদান, যা বিরোধী দলের দায়িত্বশীল ভূমিকা এবং গণতান্ত্রিক সহনশীলতাকে নির্দেশ করে। নিচে এ বিষয়ে আমার মতামত বিশ্লেষণ করা হলো:
    ১. পরাজয় মেনে নেওয়ার মানসিকতা: গণতন্ত্রে নির্বাচন একটি ধারাবাহিক প্রক্রিয়া, যেখানে বিজয় ও পরাজয় উভয়ই স্বাভাবিক। নির্বাচনে পরাজয়কে মেনে নিয়ে জনগণের রায়কে সম্মান জানানোই প্রকৃত গণতান্ত্রিক মূল্যবোধ।
    ২. গঠনমূলক বিরোধী দলের ভূমিকা: নির্বাচনে পরাজিত দল বিরোধী দলের ভূমিকা গ্রহণ করে। একটি কার্যকর বিরোধী দল সরকারের ভুলত্রুটি ধরিয়ে দেয় এবং স্বৈরাচারী মনোভাব রোধে সজাগ থাকে, কিন্তু জয়ী দলের প্রতি অযথা হিংসাত্মক আচরণ করে না।
    ৩. রাজনৈতিক স্থিতিশীলতা: নির্বাচনে পরাজিত দল যদি বিজয়ী দলকে সম্মান না জানিয়ে হিংসা ও অরাজকতা সৃষ্টি করে, তবে দেশে রাজনৈতিক অস্থিতিশীলতা নেমে আসে। জয়ী দলের প্রতি সম্মান প্রদর্শন রাজনৈতিক শান্তি ও স্থিতিশীলতা বজায় রাখে।
    ৪. গণতান্ত্রিক প্রতিষ্ঠানসমূহের সুরক্ষা: সহনশীলতা ও পরমতসহিষ্ণুতার মাধ্যমেই নির্বাচন কমিশন, বিচার বিভাগ ও সংসদ কার্যকর থাকে।
    সুতরাং, উদ্দীপকের শেষোক্ত লাইনটি গণতান্ত্রিক শাসনব্যবস্থার মূল চালিকাশক্তি অর্থাৎ পারস্পরিক শ্রদ্ধা ও সহনশীলতার আদর্শকে যথার্থভাবে প্রতিফলিত করেছে।

আরও প্রশ্ন অনুশীলন করতে অ্যাপে যাও

সম্পর্কিত প্রশ্ন