হিন্দু ধর্ম • Dinajpur Board • দিনাজপুর বোর্ড ২০২৩

হিন্দু ধর্ম প্রশ্ন

সলিলের মায়ের মৃত্যুর পর নিয়মানুযায়ী তাকে শ্মশানে নিয়ে গিয়ে স্নান করিয়ে নতুন কাপড় ও মালা পরিয়ে কপালে চন্দন দেওয়া হয়। শাস্ত্রানুযায়ী এর পরবর্তী কাজ করা হয়। দাহকার্য সম্পন্ন হলে শ্মশান বন্ধুগণ আগুন নিভিয়ে চিতা পরিষ্কার করেন। এরপর তারা স্নান করে পরিচ্ছন্ন হন। অন্যদিকে রাহুলের বাবার মৃত্যুর পর রাহুল ব্রাহ্মণ পণ্ডিতের পরামর্শ অনুযায়ী পনের দিন অশৌচ পালন করে। এরপর শ্রাদ্ধানুষ্ঠানের কাজ সম্পাদন করে।

  1. ক)

    আগমশাস্ত্রের প্রবক্তা বলা হয় কাকে?

    (1)
  2. খ)

    একজন হিন্দু নারীর জীবনে সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ ঘটনা সম্পর্কে বুঝিয়ে লেখো।

    (2)
  3. গ)

    শাস্ত্রানুযায়ী রাহুল কোন বর্ণের লোক? ব্যাখ্যা করো।.

    (3)
  4. ঘ)

    সলিলের মায়ের মৃত্যুর পর যে কাজটি সম্পন্ন করা হয়েছে তার গুরুত্ব বিশ্লেষণ করো।

    (4)

উত্তর ও ব্যাখ্যা

  1. ক)

    শিবকে আগমশাস্ত্রের প্রবক্তা বা বক্তা বলা হয়।

  2. খ)

    একজন হিন্দু নারীর জীবনে সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ ঘটনা হলো সিঁথিতে সিঁদুর পরানো বা বিবাহ চিহ্ন ধারণ। সম্প্রদান ও যজ্ঞানুষ্ঠান শেষে বর কনের সিঁথিতে সিঁদুর পরিয়ে দেয়। এই বিবাহ চিহ্ন পরানোর পর থেকেই কন্যা বা স্ত্রী স্বামীর জীবিতাবস্থায় সিঁথিতে সিঁদুর পরতে পারেন। এটি তাঁর বিবাহিত জীবনের প্রতীক। আমাদের দেশের অনেক স্থানে বাসি বিয়ের দিন, অর্থাৎ বিয়ের পরদিন, এ অনুষ্ঠান হয়ে থাকে।

  3. গ)

    শাস্ত্রানুযায়ী রাহুল বৈশ্য বর্ণের লোক।

    পাঠ্যের ধারণা: হিন্দুধর্মে মৃত্যুর পর আত্মীয়দের অশৌচ পালন করতে হয়। প্রিয়জনের মৃত্যুতে মন শোকাচ্ছন্ন থাকে বলে সাধন-ভজনের উপযোগী থাকে না, তাই এই সময় সংযম পালন করে শ্রাদ্ধের যোগ্যতা অর্জন করতে হয়। অশৌচ পালনে বর্ণপ্রথার প্রভাব দেখা যায়। শাস্ত্র অনুসারে ব্রাহ্মণের দশ দিন, ক্ষত্রিয়ের বার দিন, বৈশ্যের পনের দিন এবং শূদ্রের ত্রিশ দিন অশৌচ পালনের বিধান আছে।

    উদ্দীপকের সঙ্গে সম্পর্ক: উদ্দীপকে রাহুল বাবার মৃত্যুর পর ব্রাহ্মণ পণ্ডিতের পরামর্শ অনুযায়ী পনের দিন অশৌচ পালন করে এবং এরপর শ্রাদ্ধানুষ্ঠান সম্পন্ন করে। শাস্ত্রের বিধান অনুযায়ী পনের দিন অশৌচ পালনের নিয়ম বৈশ্য বর্ণের জন্য প্রযোজ্য।

    অতএব, শাস্ত্রীয় বিধান অনুযায়ী রাহুল বৈশ্য বর্ণের লোক। তবে পাঠ্যবইয়ে বলা হয়েছে, বর্ণবিভাগ গুণ ও কর্মভিত্তিক, জন্মগত নয়।

  4. ঘ)

    সলিলের মায়ের মৃত্যুর পর যে কাজটি সম্পন্ন করা হয়েছে তা হলো অন্ত্যেষ্টিক্রিয়া। উদ্দীপকে মৃতদেহকে শ্মশানে এনে স্নান করানো, নতুন কাপড় ও মালা পরানো, কপালে চন্দন দেওয়া, দাহকার্য সম্পন্ন করা, আগুন নিভিয়ে চিতা পরিষ্কার করা ও শ্মশানবন্ধুদের স্নান করার কথা আছে। এটি অন্ত্যেষ্টিক্রিয়ার বিধানেরই প্রতিফলন। এই ক্রিয়ার গুরুত্ব নিম্নরূপ।

    'অন্ত্য' অর্থ শেষ এবং 'ইষ্টি' অর্থ যজ্ঞ। অর্থাৎ অন্ত্যেষ্টি মানে শেষযজ্ঞ বা অগ্নিতে মৃতদেহকে আহুতি দেওয়া।

    ১. ধর্মীয় গুরুত্ব: মৃত্যু মানে দেহ থেকে আত্মার বহির্গমন। আত্মা চলে গেলে দেহ প্রাণহীন জড়বস্তু হয়ে পচতে শুরু করে। তাই শাস্ত্রে মৃতদেহের সৎকারের বিধান দেওয়া হয়েছে। এটি একটি ধর্মীয় বিধি। অগ্নিদানের সময় পাঠ করা মন্ত্রে মৃতের দুষ্কর্ম থেকে মুক্তি ও দিব্যলোকে গমনের প্রার্থনা করা হয়, যা আত্মাকে পবিত্র করে।
    ২. স্বাস্থ্য ও পরিবেশগত গুরুত্ব: মৃতদেহ ভূপৃষ্ঠে পড়ে থাকলে ভীতি সঞ্চারিত হয় এবং পরিবেশ নষ্ট হয়। দাহের মাধ্যমে তা নিরাপদে অপসারিত হয়। দাহকার্য শেষে চিতা পরিষ্কার করা ও সবার স্নান করে পরিচ্ছন্ন হওয়া স্বাস্থ্যসম্মত রীতিরই অংশ।
    ৩. সামাজিক গুরুত্ব: কেউ মারা গেলে পাড়া-প্রতিবেশী ও আত্মীয়স্বজন এসে শোকাহত পরিবারের পাশে দাঁড়ান। এতে সামাজিক বন্ধন দৃঢ় হয়, সকলের মধ্যে সৌহার্দ্যপূর্ণ মন ও সামাজিক মূল্যবোধ তৈরি হয়।
    ৪. শ্রদ্ধা প্রদর্শন: মৃত ব্যক্তির প্রতি শ্রদ্ধা জানানো এবং তাঁর আত্মার শান্তি কামনা করাও এর মাধ্যমে সম্ভব হয়।

    সুতরাং, অন্ত্যেষ্টিক্রিয়া ধর্মীয়, স্বাস্থ্যগত ও সামাজিক—সব দিক থেকেই অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ একটি কাজ।

আরও প্রশ্ন অনুশীলন করতে অ্যাপে যাও

সম্পর্কিত প্রশ্ন