পৌরনীতি ও সুশাসন ২য় পত্র • Mymensingh Board • ময়মনসিংহ বোর্ড ২০২১
পৌরনীতি ও সুশাসন ২য় পত্র প্রশ্ন
উন্নত রাষ্ট্রও কিছু ভোগবিলাসী মানুষের কারণে বায়ুমণ্ডল উত্তপ্ত হচ্ছে। ফলে পৃথিবীর মানব গোষ্ঠীর জীবন ও জীব ব্যবস্থার ওপর মারাত্মক নেতিবাচক প্রভাব পড়ছে। কিন্তু এই পরিবর্তন নিছক প্রাকৃতিক নয় বরং এর বেশিরভাগই মানব সৃষ্ট।
- ক)(1)
AIDS - এর পূর্ণরূপ কী?
- খ)(2)
খাদ্য ভেজাল বলতে কী বোঝায়?
- গ)(3)
উদ্দীপকে উল্লিখিত পরিবর্তন বাংলাদেশের ওপর কোন ধরনের প্রভাব ফেলছে? ব্যাখ্যা কর।
- ঘ)(4)
"উক্ত পরিবর্তন হ্রাসে নাগরিকের ভূমিকা অপরিসীম" তুমি কি একমত? উত্তরের স্বপক্ষে যুক্তি দাও।
উত্তর ও ব্যাখ্যা
- ক)
AI-তৈরি নমুনা উত্তর
AIDS-এর পূর্ণরূপ হলো Acquired Immune Deficiency Syndrome।
- খ)
AI-তৈরি নমুনা উত্তর
খাদ্য ভেজাল বলতে কোনো খাদ্যদ্রব্যের গুণগত মান বা পুষ্টিমান হ্রাস করে তাতে ক্ষতিকর, নিম্নমানের, বিষাক্ত বা অপ্রয়োজনীয় রাসায়নিক পদার্থ মিশ্রিত করাকে বোঝায়। অধিক মুনাফা অর্জন বা খাদ্যকে দীর্ঘদিন পচন থেকে রক্ষা করার অসদুপায় হিসেবে খাদ্যে ফরমালিন, কৃত্রিম রঙ ও কার্বাইডসহ বিভিন্ন বিষাক্ত উপাদান মেশানো হয়, যা মানবদেহের জন্য অত্যন্ত ক্ষতিকর।
- গ)
AI-তৈরি নমুনা উত্তর
উদ্দীপকে উল্লিখিত পরিবর্তনটি হলো বৈশ্বিক উষ্ণায়ন বা জলবায়ু পরিবর্তন। জলবায়ু পরিবর্তনের ফলে বাংলাদেশের সামগ্রিক পরিবেশ, অর্থনীতি ও মানবজীবনে মারাত্মক নেতিবাচক প্রভাব পড়ছে।
বায়ুমণ্ডল উত্তপ্ত হওয়ার ফলে মেরু অঞ্চলের বরফ গলে সমুদ্রপৃষ্ঠের উচ্চতা বৃদ্ধি পাচ্ছে। বাংলাদেশ একটি নিচু ব-দ্বীপ অঞ্চল হওয়ায় সমুদ্রপৃষ্ঠের উচ্চতা বৃদ্ধির ফলে উপকূলীয় নিম্নাঞ্চল প্লাবিত হওয়ার ঝুঁকিতে রয়েছে। এছাড়া ঘনঘন ঘূর্ণিঝড়, জলোচ্ছ্বাস, অনাবৃষ্টি ও অতিবৃষ্টির মতো প্রাকৃতিক দুর্যোগের তীব্রতা ও সংখ্যা বৃদ্ধি পেয়েছে। উপকূলীয় এলাকার আবাদি জমিতে লবণাক্ততা বৃদ্ধি পাওয়ায় কৃষি উৎপাদন ব্যাহত হচ্ছে এবং নিরাপদ খাবার পানির তীব্র সংকট সৃষ্টি হচ্ছে। নদীভাঙন ও প্রাকৃতিক দুর্যোগের কারণে বিপুল সংখ্যক মানুষ বাস্তুচ্যুত হয়ে 'জলবায়ু উদ্বাস্তু' হিসেবে শহরে আশ্রয় নিতে বাধ্য হচ্ছে, যা জীবন ও জীবিকার ওপর বিপর্যয়কর প্রভাব ফেলছে।
- ঘ)
AI-তৈরি নমুনা উত্তর
হ্যাঁ, আমি উদ্দীপকে উল্লিখিত "উক্ত পরিবর্তন (জলবায়ু পরিবর্তন বা বৈশ্বিক উষ্ণায়ন) হ্রাসে নাগরিকের ভূমিকা অপরিসীম"- এই বক্তব্যের সাথে সম্পূর্ণ একমত।
জলবায়ু পরিবর্তন মোকাবিলার দায়িত্ব কেবল সরকারের একার নয়, বরং দেশের সচেতন নাগরিকদের ইতিবাচক ভূমিকাই পারে এর ক্ষতিকর প্রভাব কমাতে। নাগরিকরা নিম্নলিখিত উপায়ে ভূমিকা রাখতে পারে:
১. বৃক্ষরোপণ ও বন রক্ষা: ব্যাপক হারে গাছ লাগানো এবং বন উজাড় রোধে সচেতন হওয়া, যা কার্বন শোষণে বড় ভূমিকা রাখে।
২. শক্তির সাশ্রয়ী ব্যবহার: বিদ্যুৎ ও জীবাশ্ম জ্বালানির অপচয় রোধ করা এবং নবায়নযোগ্য শক্তির (যেমন সৌরশক্তি) ব্যবহার বাড়ানো।
৩. দূষণ নিয়ন্ত্রণ ও বর্জ্য ব্যবস্থাপনা: পরিবেশ দূষণকারী প্লাস্টিক বা পলিথিনের ব্যবহার বর্জন করা এবং বর্জ্য যথাস্থানে ফেলে পরিবেশ পরিচ্ছন্ন রাখা।
৪. সচেতনতা বৃদ্ধি: পরিবার, সমাজ ও শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে জলবায়ু পরিবর্তনের ক্ষতিকর প্রভাব সম্পর্কে সচেতনতা গড়ে তোলা।অতএব, প্রত্যেক নাগরিক যদি পরিবেশবান্ধব জীবনযাত্রায় অভ্যস্ত হয় এবং পরিবেশ সংরক্ষণে সক্রিয় ভূমিকা পালন করে, তবে বৈশ্বিক উষ্ণায়ন ও এর ক্ষতিকর প্রভাব বহুলাংশে হ্রাস করা সম্ভব।
আরও প্রশ্ন অনুশীলন করতে অ্যাপে যাও