‍পৌরনীতি ও সুশাসন ২য় পত্র • Jashore Board • যশোর বোর্ড ২০২১

‍পৌরনীতি ও সুশাসন ২য় পত্র প্রশ্ন

সুজলা সুফলা, শস্য শ্যামলা এক দেশে জন্মেছিলেন এক অবিসংবাদিত নেতা। ছেলেবেলা থেকেই তিনি ছিলেন প্রতিবাদী এবং অন্যায়ের সাথে আপোষহীন। জীবনের এক-চতুর্থাংশ সময় তিনি কারাগারে কাটিয়েছেন একটি স্বাধীন দেশের জন্ম দেওয়ার জন্য। তার নির্দেশে আপামর জনতা ঝাঁপিয়ে পড়ে মুক্তিযুদ্ধে। নয় মাসের যুদ্ধে ছিনিয়ে আনে কাঙ্ক্ষিত স্বাধীনতা। লাল সবুজের পতাকা।

  1. ক)

    অবিভক্ত বাংলার শেষ মুখ্যমন্ত্রী কে ছিলেন?

    (1)
  2. খ)

    মওলানা আব্দুল হামিদ খান ভাসানীকে মজলুম জননেতা বলা হয় কেন?

    (2)
  3. গ)

    উদ্দীপকে কোন মহান নেতার রাজনৈতিক জীবনের প্রতি ইঙ্গিত করা হয়েছে? ব্যাখ্যা করো।

    (3)
  4. ঘ)

    "উক্ত মহান নেতা ও বাংলাদেশের স্বাধীনতা এক সূত্রে গাঁথা"- ব্যাখ্যা করো।

    (4)

উত্তর ও ব্যাখ্যা

  1. ক)

    AI-তৈরি নমুনা উত্তর

    অবিভক্ত বাংলার শেষ মুখ্যমন্ত্রী ছিলেন হোসেন শহীদ সোহ্‌রাওয়ার্দী।

  2. খ)

    AI-তৈরি নমুনা উত্তর

    মওলানা আব্দুল হামিদ খান ভাসানী আজীবন শোষিত, বঞ্চিত, নিপীড়িত কৃষক-শ্রমিক তথা সাধারণ মেহনতি মানুষের অধিকার আদায়ের সংগ্রামে নিবেদিতপ্রাণ ছিলেন। তিনি সবসময় অত্যাচারী শাসক ও শোষক শ্রেণির বিরুদ্ধে আপসহীন ভূমিকা পালন করে নির্যাতিত বা 'মজলুম' জনগণের পক্ষে অবস্থান নিয়েছিলেন বলেই তাঁকে 'মজলুম জননেতা' বলা হয়।

  3. গ)

    AI-তৈরি নমুনা উত্তর

    উদ্দীপকে বাংলাদেশের স্বাধীনতার স্থপতি, জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের রাজনৈতিক জীবনের প্রতি ইঙ্গিত করা হয়েছে।

    বঙ্গবন্ধু বাল্যকাল থেকেই অন্যায়ের বিরুদ্ধে প্রতিবাদী এবং মানবদরদি চরিত্রের অধিকারী ছিলেন। বায়ান্নর ভাষা আন্দোলন, চুয়ান্নর যুক্তফ্রন্ট নির্বাচন, ছেষট্টির ঐতিহাসিক ৬ দফা দাবি পেশ এবং উনসত্তরের গণঅভ্যুত্থানের মধ্য দিয়ে তিনি বাঙালি জাতির প্রধান নেতায় পরিণত হন। বাঙালি জাতিকে শোষণ-বঞ্চনার হাত থেকে মুক্ত করতে তিনি জীবনের দীর্ঘ সময় কারাগারে অতিবাহিত করেন। ১৯৭১ সালে তাঁরই আহ্বানে সমগ্র জাতি মহান মুক্তিযুদ্ধে ঝাঁপিয়ে পড়ে দেশকে স্বাধীন করে। উদ্দীপকের বর্ণনার সাথে বঙ্গবন্ধুর এই আপসহীন সংগ্রামী রাজনৈতিক জীবনের অবিকল মিল রয়েছে।

  4. ঘ)

    AI-তৈরি নমুনা উত্তর

    "বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান এবং বাংলাদেশের স্বাধীনতা এক সূত্রে গাঁথা"—উক্তিটি যথার্থ ও অনস্বীকার্য।

    ১৯৪৭ সালে দেশভাগের পর থেকেই বাঙালি জাতির উপর পাকিস্তানি শাসকদের সামাজিক, রাজনৈতিক ও অর্থনৈতিক শোষণের বিরুদ্ধে বঙ্গবন্ধু রুখে দাঁড়িয়েছিলেন। ১৯৫২-এর ভাষা আন্দোলন থেকে শুরু করে ১৯৬৬ সালের বাঙালির মুক্তিসনদ ৬ দফা আন্দোলনের মাধ্যমে তিনি স্বাধিকারের চেতনা জনগণের মাঝে সঞ্চারিত করেন। তাঁর রাজনৈতিক দূরদর্শিতা ও বজ্রকণ্ঠের নেতৃত্বেই পুরো জাতি ঐক্যবদ্ধ হয়।

    ১৯৭১ সালের ৭ই মার্চ তিনি রেসকোর্স ময়দানে ঐতিহাসিক ভাষণে ঘোষণা করেন, "এবারের সংগ্রাম আমাদের মুক্তির সংগ্রাম, এবারের সংগ্রাম স্বাধীনতার সংগ্রাম"। ২৫শে মার্চ কালরাতে পাকিস্তানি বাহিনীর আক্রমণের মুখে ২৬শে মার্চের প্রথম প্রহরে তিনি বাংলাদেশের আনুষ্ঠানিক স্বাধীনতা ঘোষণা করেন। তাঁর নামেই পরিচালিত হয় নয় মাসের রক্তক্ষয়ী মুক্তিযুদ্ধ। তাই বাংলাদেশের অস্তিত্ব, ইতিহাস এবং স্বাধীনতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের সাথে অবিচ্ছেদ্য এক সূত্রে গাঁথা।

আরও প্রশ্ন অনুশীলন করতে অ্যাপে যাও

সম্পর্কিত প্রশ্ন