ব্যবসায় সংগঠন ও ব্যবস্থাপনা ২য় পত্র • Dinajpur Board • দিনাজপুর বোর্ড ২০২১
ব্যবসায় সংগঠন ও ব্যবস্থাপনা ২য় পত্র প্রশ্ন
চিত্রটি পর্যবেক্ষণ কর :

- ক)(1)
ব্যবস্থাপনা চক্র কী?
- খ)(2)
“ব্যবস্থাপনা সার্বজনীন” বলতে কী বোঝায়?
- গ)(3)
চিত্রিত উদ্দীপকে 'খ' স্থানে ব্যবস্থাপনাকে কোন কাজটি করতে হয়? ব্যাখ্যা কর।
- ঘ)(4)
'ক' স্থানের কাজটি নিয়ন্ত্রণের ক্ষেত্রে কী ভূমিকা রাখে? তোমার মতামত বিশ্লেষণ কর।
উত্তর ও ব্যাখ্যা
- ক)
AI-তৈরি নমুনা উত্তর
ব্যবস্থাপনার কার্যাবলি চক্রাকারে ধারাবাহিকভাবে এবং আবর্তিত হয়ে সম্পন্ন হওয়ার প্রক্রিয়াকে ব্যবস্থাপনা চক্র বলে।
- খ)
AI-তৈরি নমুনা উত্তর
“ব্যবস্থাপনা সার্বজনীন” বলতে বোঝায় ব্যবস্থাপনার নিয়ম, নীতি ও কৌশলগুলো পরিবার, সমাজ, রাষ্ট্র এবং যে কোনো ধরনের প্রতিষ্ঠানে একইভাবে প্রযোজ্য।
গ্রিক দার্শনিক সক্রেটিসের মতে, ব্যবস্থাপনা একটি সর্বজনীন বিষয়। ব্যবসায় প্রতিষ্ঠান ছাড়াও অ-ব্যবসায়িক প্রতিষ্ঠান, সামাজিক সংগঠন, শিক্ষা প্রতিষ্ঠান কিংবা রাজনৈতিক দল—যেখানেই কিছু মানুষ একত্রিত হয়ে কোনো সাধারণ লক্ষ্য অর্জনে কাজ করে, সেখানেই পরিকল্পনা, সংগঠন, নির্দেশনা ও নিয়ন্ত্রণের মতো ব্যবস্থাপনা কার্যক্রমের প্রয়োজন হয়। তাই ব্যবস্থাপনাকে সার্বজনীন বলা হয়।
- গ)
AI-তৈরি নমুনা উত্তর
চিত্রিত উদ্দীপকে 'খ' স্থানে ব্যবস্থাপনাকে 'সমন্বয়সাধন' (Coordination) কাজটি করতে হয়।
প্রতিষ্ঠানের লক্ষ্য অর্জনের জন্য বিভিন্ন ব্যক্তি, বিভাগ ও উপ-বিভাগের কার্যাবলিকে একই সূত্রে বা একটি সাধারণ উদ্দেশ্যের সাথে সংযুক্ত ও ঐক্যবদ্ধ করার প্রক্রিয়াকে সমন্বয়সাধন বলে।
উদ্দীপকের চক্রটিতে ব্যবস্থাপনার মৌলিক কার্যাবলি ধারাবাহিকভাবে উপস্থাপন করা হয়েছে। ব্যবস্থাপনা প্রক্রিয়ার ধারাবাহিক ধাপগুলো হলো: পরিকল্পনা, সংগঠন, কর্মীসংস্থান, নির্দেশনা, প্রেষণা, সমন্বয়সাধন এবং নিয়ন্ত্রণ। চিত্রে দেখা যাচ্ছে, 'প্রেষণা'র পরবর্তী এবং 'নিয়ন্ত্রণ'-এর পূর্ববর্তী স্থানটি খালি রেখে 'খ' চিহ্নিত করা হয়েছে। ব্যবস্থাপনা চক্রের এই ক্রম অনুসারে প্রেষণার পরে ও নিয়ন্ত্রণের পূর্বে যে কাজটি আসে তা হলো সমন্বয়সাধন। তাই উদ্দীপকের 'খ' স্থানে সমন্বয়সাধন কাজটি সম্পন্ন করতে হয়।
- ঘ)
AI-তৈরি নমুনা উত্তর
চিত্রের 'ক' স্থানে নির্দেশিত কাজটি হলো 'পরিকল্পনা' (Planning)। নিয়ন্ত্রণের ক্ষেত্রে পরিকল্পনা ভিত্তি হিসেবে অপরিহার্য ভূমিকা পালন করে। নিচে এ বিষয়ে মতামত বিশ্লেষণ করা হলো:
পরিকল্পনা হলো ভবিষ্যতে কী করা হবে, কীভাবে করা হবে, কে করবে ইত্যাদি বিষয়ে অগ্রিম সিদ্ধান্ত গ্রহণ। অন্যদিকে, নিয়ন্ত্রণ হলো পূর্বনির্ধারিত মান বা পরিকল্পনার সাথে অর্জিত কাজের ফলাফলের তুলনা করে বিচ্যুতি নির্ণয় ও তা সংশোধনের ব্যবস্থা গ্রহণ।
নিয়ন্ত্রণের ক্ষেত্রে পরিকল্পনার ভূমিকা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ, কারণ পরিকল্পনা ছাড়া নিয়ন্ত্রণ কার্যক্রম কোনোভাবেই পরিচালনা করা সম্ভব নয়। নিয়ন্ত্রণের মূল কাজই হলো কাজের বাস্তব ফলাফলকে একটি নির্দিষ্ট মানের সাথে তুলনা করা। আর এই আদর্শ মান সরবরাহ করে পরিকল্পনা। যদি কোনো পূর্বপরিকল্পনা বা লক্ষ্য না থাকে, তবে কাজের অগ্রগতি বা সাফল্য পরিমাপের কোনো মানদণ্ড থাকে না। ফলে বিচ্যুতি নির্ধারণ করা বা সংশোধনমূলক ব্যবস্থা গ্রহণ করা অসম্ভব হয়ে পড়ে। এ কারণেই বলা হয়, "পরিকল্পনা হলো নিয়ন্ত্রণের ভিত্তি" (Planning is the basis of control)।
অতএব, ব্যবস্থাপনা চক্রে 'ক' স্থানে থাকা পরিকল্পনা ছাড়া নিয়ন্ত্রণের কোনো কার্যকারিতা থাকে না; পরিকল্পনা নিয়ন্ত্রণের দিকনির্দেশক ও মানদণ্ড হিসেবে কাজ করে নিয়ন্ত্রণকে অর্থবহ ও সফল করে তোলে।
আরও প্রশ্ন অনুশীলন করতে অ্যাপে যাও