বাংলা ১ম পত্র • Mymensingh Board • ময়মনসিংহ বোর্ড ২০২২

বাংলা ১ম পত্র প্রশ্ন

ভেলরি টেইলর, বাংলাদেশের এক অকৃত্রিম বন্ধুর নাম। ৭২ বছর বয়সী এইমহান ব্যক্তি কর্মজীবনে লাভ করেছেন নানা স্বীকৃতিসহ সম্মানসূচক ডক্টরেট ডিগ্রি। স্বেচ্ছাসেবা এবং সম্পূর্ণ আপন প্রচেষ্টায় সিআরপি প্রতিষ্ঠা করে তিনি দুস্থ,নিঃসহায় মানুষের জন্য বিশ্বে এক বিরল দৃষ্টান্ত স্থাপন করেছেন। বাংলাদেশেসড়ক দুর্ঘটনাসহ বিভিন্ন কারণে পঙ্গুত্বের শিকার হাজার হাজার মানুষকেস্বাভাবিক কর্মজীবনে ফিরিয়ে আনতে তার গড়া সিআরপি নজিরবিহীন ভূমিকাপালন করছে।

  1. ক)

    সত্যিকার মানব-কল্যাণ কিসের ফসল?

    (1)
  2. খ)

    মানব-কল্যাণ কীভাবে মানব-মর্যাদার সহায়ক হয়ে উঠবে? ব্যাখ্যা কর।

    (2)
  3. গ)

    উদ্দীপকের সাথে ‘মানব-কল্যাণ’ প্রবন্ধের সাদৃশ্যপূর্ণ দিক তুলে ধর।

    (3)
  4. ঘ)

    “উদ্দীপকের ভেলরি টেইলরের কর্মকান্ড এবং ‘মানব-কল্যাণ’ প্রবন্ধের লেখকেরপ্রত্যাশা যেন একই সূত্রে গাঁথা।” মন্তব্যটির যথার্থতা নিরূপণ কর।

    (4)

উত্তর ও ব্যাখ্যা

  1. ক)

    AI-তৈরি নমুনা উত্তর

    সত্যিকার মানব-কল্যাণ মহৎ চিন্তা এবং উন্নত মানবিক অনুভূতির ফসল।

  2. খ)

    AI-তৈরি নমুনা উত্তর

    কাউকে করুণাবশত সাহায্য বা দান-খয়রাত না করে তাকে আত্মমর্যাদাসম্পন্ন ও স্বাবলম্বী মানুষ হিসেবে গড়ে তুলতে পারলেই মানব-কল্যাণ মানব-মর্যাদার সহায়ক হয়ে ওঠে।

    লেখক আবুল ফজলের মতে, ওপর থেকে নিচে হাত বাড়িয়ে দেওয়া দানশীলতায় মানুষের মর্যাদা ক্ষুণ্ণ হয়। কিন্তু মানুষকে সমাজের উপযুক্ত অঙ্গ হিসেবে বিবেচনা করে তার সার্বিক বিকাশ সাধনে এবং স্বাবলম্বী করে তোলার প্রক্রিয়ায় সহায়তা করলে তার মানব-মর্যাদা বৃদ্ধি পায়।

  3. গ)

    AI-তৈরি নমুনা উত্তর

    উদ্দীপকের সাথে ‘মানব-কল্যাণ’ প্রবন্ধের নিঃস্বার্থ সেবা, মানুষের সার্বিক কল্যাণ সাধন এবং তাকে সমাজে পুনর্বাসিত করার মানসিকতার সাদৃশ্য বিদ্যমান।

    ‘মানব-কল্যাণ’ প্রবন্ধে লেখক কেবল বৈষয়িক দান-খয়রাতকে মানব-কল্যাণ বলতে নারাজ; বরং মানুষের সামগ্রিক বিকাশ, স্বাবলম্বী করা এবং মানব-মর্যাদা প্রতিষ্ঠাকেই আসল কল্যাণ বলে চিহ্নিত করেছেন। উদ্দীপকের ভেলরি টেইলর পঙ্গু ও দুস্থ মানুষদের জন্য সিআরপি প্রতিষ্ঠার মাধ্যমে তাদের স্বাভাবিক কর্মজীবনে ফিরিয়ে আনতে নিঃস্বার্থভাবে কাজ করছেন। তিনি পঙ্গু মানুষদের শুধু অনুকম্পা না দেখিয়ে তাদের কর্মক্ষম ও স্বাবলম্বী করে তুলছেন। এভাবে মানুষের মর্যাদা রক্ষা ও স্বাবলম্বী করার ক্ষেত্রে উদ্দীপকটি ‘মানব-কল্যাণ’ প্রবন্ধের মূল দর্শনের সাথে সাদৃশ্যপূর্ণ।

  4. ঘ)

    AI-তৈরি নমুনা উত্তর

    “উদ্দীপকের ভেলরি টেইলরের কর্মকাণ্ড এবং ‘মানব-কল্যাণ’ প্রবন্ধের লেখকের প্রত্যাশা যেন একই সূত্রে গাঁথা।”— মন্তব্যটি যথার্থ।

    ‘মানব-কল্যাণ’ প্রবন্ধে লেখক আবুল ফজল প্রকৃত মানব-কল্যাণ বলতে মানুষকে অবমাননা ও করুণা থেকে মুক্ত করে আত্মনির্ভরশীল ও মর্যাদাসম্পন্ন করার ওপর গুরুত্ব দিয়েছেন। বিচ্ছিন্ন দয়া বা ভিক্ষাদানের মাধ্যমে সমাজকে এগিয়ে নেওয়া যায় না, বরং মানুষের অন্তর্নিহিত শক্তিকে বিকশিত করে তাকে সমাজ গঠনের উপযোগী করাই প্রকৃত মানব-কল্যাণ।

    উদ্দীপকের ভেলরি টেইলর সড়ক দুর্ঘটনাসহ নানা কারণে পঙ্গুত্বের শিকার মানুষকে সুস্থ ও কর্মক্ষম করে তোলার জন্য সিআরপি প্রতিষ্ঠা করেছেন। তিনি তাদের বোঝা না বানিয়ে সমাজে সম্মানের সাথে বাঁচার ব্যবস্থা করে দিয়েছেন। এর ফলে মানুষ তার আত্মমর্যাদা ফিরে পাচ্ছে এবং সমাজে ভূমিকা রাখতে পারছে।

    প্রাবন্ধিকও সমাজে এমন কল্যাণমূলক পরিবেশের প্রত্যাশা করেছেন যেখানে প্রতিটি মানুষ তার মানবিক মর্যাদা ও সম্ভাবনা নিয়ে বাঁচতে পারে। তাই দেখা যায়, ভেলরি টেইলরের বাস্তব কর্মকাণ্ডে লেখকের আদর্শিক ও মানবিক প্রত্যাশারই প্রতিফলন ঘটেছে। সুতরাং মন্তব্যটি পুরোপুরি সংগত ও যথার্থ।

আরও প্রশ্ন অনুশীলন করতে অ্যাপে যাও

সম্পর্কিত প্রশ্ন