হিন্দু ধর্ম • Rajshahi Board • রাজশাহী বোর্ড ২০২৪
হিন্দু ধর্ম প্রশ্ন
শুভ্রা বর্ষাকালের পূর্ণিমা তিথিতে একটি ধর্মাচারের আয়োজন করে। এ অনুষ্ঠানটিতে সে ভাইয়ের হাতে ভাই-বোনের মধ্যকার ভালোবাসার প্রতীক বেঁধে দেয়। অন্যদিকে সুমনাদের বাড়িতে একটি ধর্মানুষ্ঠানের আয়োজন করা হয়। অনুষ্ঠানটিতে একে অপরকে আবির দিয়ে রাঙিয়ে দেয়। এ উপলক্ষ্যে বাড়িতে অনেক আত্মীয়-স্বজনের আগমন ঘটে।
- ক)(1)
বাংলার বাইরে 'দোলযাত্রা' কী নামে পরিচিত?
- খ)(2)
দেহ ও আত্মার মধ্যে ঘনিষ্ঠ সম্পর্ক বিদ্যমান'- বুঝিয়ে লেখো।
- গ)(3)
শুভ্রা কোন ধর্মাচার পালন করেন? ব্যাখ্যা করো।
- ঘ)(4)
পারিবারিক ও সামাজিক জীবনে সুমনার পালনকৃত অনুষ্ঠানটির প্রভাব বিশ্লেষণ করো।
উত্তর ও ব্যাখ্যা
- ক)
বাংলার বাইরে দোলযাত্রা 'হোলি' উৎসব নামে পরিচিত।
- খ)
দেহ ও আত্মা পরস্পর অবিচ্ছেদ্যভাবে সম্পর্কিত। দেহকে আশ্রয় করেই আত্মার অভিযাত্রা চলে, আবার আত্মাকে লাভ করে দেহ সজীব থাকে।
দেহহীন আত্মা নিষ্ক্রিয় আর আত্মাহীন দেহ জড়, প্রাণহীন ও ক্রিয়াহীন। তবে দেহের বিনাশ আছে, আত্মার বিনাশ নেই; আত্মা পুরাতন দেহ ত্যাগ করে নতুন দেহ ধারণ করে। এ কারণে বলা হয়, দেহ ও আত্মার মধ্যে ঘনিষ্ঠ সম্পর্ক বিদ্যমান। - গ)
উদ্দীপকে শুভ্রা রাখীবন্ধন ধর্মাচারটি পালন করেন।
ধর্মাচারের ধারণা: যেসব আচার-আচরণ আমাদের জীবনকে সুন্দর ও মঙ্গলময় করে, তাকে ধর্মাচার বা লোকাচার বলে। রাখীবন্ধন তেমন একটি ধর্মাচার। 'রাখী' শব্দটি 'রক্ষা' শব্দ থেকে এসেছে। এদিন বোনেরা ভাইদের হাতে রাখী নামে পবিত্র সুতো বেঁধে দেয়। শ্রাবণ মাসের পূর্ণিমা তিথিতে এটি পালিত হয় বলে এর আরেক নাম রাখী পূর্ণিমা। এটি ভাই-বোনের আজীবন ভালোবাসার প্রতীক। নিজের ভাই ছাড়াও আত্মীয় ও অনাত্মীয় ভাইদের হাতেও রাখী পরানো হয়।
উদ্দীপকের সাথে সম্পর্ক: শুভ্রা বর্ষাকালের পূর্ণিমা তিথিতে ভাইয়ের হাতে ভালোবাসার প্রতীক বেঁধে দিয়েছে। এ সময় (শ্রাবণ পূর্ণিমা) ও কাজ রাখীবন্ধনের সাথে হুবহু মিলে যায়।
অতএব, শুভ্রার পালিত ধর্মাচারটি রাখীবন্ধন।
- ঘ)
সুমনার পালিত অনুষ্ঠানটি হলো দোলযাত্রা, কারণ সেখানে একে অপরকে আবির দিয়ে রাঙিয়ে দেওয়া হয়। পারিবারিক ও সামাজিক জীবনে এর প্রভাব অনেক।
ফাল্গুনী পূর্ণিমায় রাধা-কৃষ্ণকে দোলায় রেখে আবীর-কুঙ্কুমে রাঙিয়ে পূজা করা হয় এবং সকলে একে অপরকে রং মাখিয়ে আনন্দ করে। এটি মূলত বৈষ্ণবীয় উৎসব এবং বসন্ত-উৎসব।
১. পারিবারিক বন্ধন দৃঢ়করণ: উৎসব উপলক্ষে সুমনাদের বাড়িতে অনেক আত্মীয়-স্বজন এসেছে। এতে পরিবারের সদস্য ও আত্মীয়দের মধ্যে সম্পর্ক ঘনিষ্ঠ হয়।
২. ভেদাভেদ দূর করা: দোলযাত্রার দিন শত্রু-মিত্র, নারী-পুরুষ নির্বিশেষে সবাই রং খেলায় মেতে বিভেদ ভুলে একাত্ম হয়ে যায়। এটিই এর সর্বজনীনতা।
৩. অমঙ্গল দূর করার প্রতীক: আগের দিন 'নেড়া পোড়া' বা 'বুড়ির ঘর' পুড়িয়ে অমঙ্গল ধ্বংসের প্রতীকী অনুষ্ঠান করা হয়, যা মনে ইতিবাচক ভাবনা জাগায়।
৪. সামাজিক আনন্দ ও মিলন: দোলযাত্রা উপলক্ষে গান, মেলা ইত্যাদি আয়োজন হয়। ফলে সমাজে আনন্দ ও মিলনের পরিবেশ তৈরি হয়।সুতরাং, সুমনার পালিত দোলযাত্রা পরিবারে ঘনিষ্ঠতা এবং সমাজে সম্প্রীতি, সাম্য ও আনন্দ সৃষ্টিতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে।
আরও প্রশ্ন অনুশীলন করতে অ্যাপে যাও