ভূগোল ১ম পত্র • পৃথিবীর গঠন • Combined Board • ঢাকা, কুমিল্লা, যশোর, দিনাজপুর, ময়মনসিংহ বোর্ড ২০২৪
ভূগোল ১ম পত্র প্রশ্ন
- ক)(1)
পর্বত কাকে বলে
- খ)(2)
পর্বত মধ্যবর্তী মালভূমি বলতে কী বোঝায়? ব্যাখ্যা কর।
- গ)(3)
উদ্দীপকে উল্লিখিত 'ক' পর্বতের বর্ণনা দাও।
- ঘ)(4)
উদ্দীপকে উল্লিখিত 'খ' ও 'গ' পর্বতের পার্থক্য বিশ্লেষণ কর।
উত্তর ও ব্যাখ্যা
- ক)
AI-তৈরি নমুনা উত্তর
সমুদ্রপৃষ্ঠ থেকে অন্তত ১০০০ মিটারের বেশি উঁচু, খাড়া ঢালবিশিষ্ট এবং সুবিস্তৃত শিলাময় ভূভাগকে পর্বত বলে।
- খ)
AI-তৈরি নমুনা উত্তর
যেসব মালভূমি চারদিকে পর্বত দ্বারা বেষ্টিত থাকে, সেগুলোকে পর্বত মধ্যবর্তী মালভূমি বলে।
ভূ-আলোড়নের সময় ভঙ্গিল পর্বত গঠনের সাথে সাথে এদের মধ্যবর্তী নিচু অঞ্চলগুলোও অনেক সময় পার্শ্ববর্তী স্থান থেকে প্রচণ্ড চাপে উপরে উঠে মালভূমিতে পরিণত হয়। যেমন— তিব্বত মালভূমি হিমালয় ও কুনলুন পর্বতের মাঝে অবস্থিত এবং বলিভিয়া মালভূমি আন্দিজ পর্বতমালা দ্বারা পরিবেষ্টিত।
- গ)
AI-তৈরি নমুনা উত্তর
উদ্দীপকে উল্লিখিত 'ক' পর্বতটি হলো গম্বুজ পর্বত বা ল্যাকোলিথ পর্বত (Laccolith Mountain), যার আকৃতি গম্বুজের মতো।
বর্ণনা:
১. গঠন প্রক্রিয়া: ভূ-অভ্যন্তরে উত্তপ্ত ও গলিত ম্যাগমা প্রচণ্ড চাপে ভূপৃষ্ঠে উঠে আসার চেষ্টা করে, কিন্তু কঠিন ভূতাত্ত্বিক শিলাস্তরের বাধার কারণে বাইরে বের হতে না পেরে ভূতকের নিচেই গম্বুজের আকারে জমাট বাঁধে। পরবর্তীকালে এর ওপরের নরম শিলাস্তর প্রাকৃতিক শক্তির দ্বারা ক্ষয়প্রাপ্ত হয়ে অপসারিত হলে ভেতরের শক্ত শিলাটি গম্বুজের মতো দৃশ্যমান হয়।
২. বৈশিষ্ট্য: এ ধরনের পর্বতের ঢাল সাধারণত খুব খাড়া হয় না এবং চূড়াটি গম্বুজ বা উত্তল আকারের হয়। এতে সাধারণত কোনো উল্লেখযোগ্য চূড়া বা শৃঙ্গ থাকে না।
৩. উদাহরণ: মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের হেনরি পর্বত এবং ব্ল্যাক হিলস ল্যাকোলিথ বা গম্বুজ পর্বতের উল্লেখযোগ্য উদাহরণ। - ঘ)
AI-তৈরি নমুনা উত্তর
উদ্দীপকে উল্লিখিত 'খ' পর্বতটি হলো ভঙ্গিল পর্বত (যেহেতু এতে জীবাশ্ম পাওয়া যায়) এবং 'গ' পর্বতটি হলো আগ্নেয় বা সঞ্চয়জাত পর্বত (যা অগ্ন্যুৎপাতের মাধ্যমে গঠিত হয়)।
'খ' (ভঙ্গিল পর্বত) ও 'গ' (আগ্নেয় পর্বত)-এর মধ্যে পার্থক্যসমূহ নিচে বিশ্লেষণ করা হলো:
১. গঠন প্রক্রিয়া: সমুদ্রের তলদেশে জমে থাকা পলিস্তরে ভূ-আলোড়নের ফলে সৃষ্ট প্রবল পার্শ্বচাপে ভাঁজ পড়ে ভঙ্গিল পর্বতের সৃষ্টি হয়। অন্যদিকে, আগ্নেয়গিরির অগ্ন্যুৎপাতের মাধ্যমে ভূ-অভ্যন্তর থেকে নির্গত লাভা, ছাই ও ভস্ম ভূপৃষ্ঠে জমাট বেঁধে ক্রমান্বয়ে আগ্নেয় পর্বত গড়ে ওঠে।
২. শিলার প্রকৃতি: ভঙ্গিল পর্বত প্রধানত পাললিক শিলা দ্বারা গঠিত। অপরপক্ষে, আগ্নেয় পর্বত গঠিত হয় আগ্নেয় শিলা (যেমন- ব্যাসাল্ট, অ্যান্ডেসাইট) দ্বারা।
৩. জীবাশ্মের উপস্থিতি: ভঙ্গিল পর্বতে পাললিক শিলার স্তর থাকার কারণে প্রচুর জীবাশ্ম পাওয়া যায়। কিন্তু আগ্নেয় পর্বতে অত্যধিক উত্তপ্ত গলিত লাভা জমাট বাঁধার কারণে কোনো জীবাশ্ম টিকে থাকতে পারে না।
৪. আকৃতি ও শৃঙ্গ: ভঙ্গিল পর্বতমালা অত্যন্ত দীর্ঘ, সুবিস্তৃত এবং এতে একাধিক শৈলশিরা ও সুউচ্চ শৃঙ্গ থাকে। বিপরীতে, আগ্নেয় পর্বত সাধারণত একক শঙ্কু বা মোচাকৃতির হয় এবং এর শীর্ষে একটি জ্বালামুখ থাকে।
৫. উদাহরণ: এশিয়ার হিমালয় পর্বত, ইউরোপের আল্পস পর্বত ভঙ্গিল পর্বতের উদাহরণ। অন্যদিকে, জাপানের ফুজিয়ামা এবং ইতালির ভিসুভিয়াস আগ্নেয় পর্বতের উদাহরণ।
আরও প্রশ্ন অনুশীলন করতে অ্যাপে যাও