জীববিজ্ঞান ২য় পত্র • Sylhet Board • সিলেট বোর্ড ২০২১
জীববিজ্ঞান ২য় পত্র প্রশ্ন
রুই মাছের হৃৎপিণ্ড দুই প্রকোষ্ঠবিশিষ্ট। তাকে ভেনাস হার্ট বলে। কিন্তু আমাদের হৃৎপিণ্ড উন্নত এবং চার প্রকোষ্ঠবিশিষ্ট।
- ক)(1)
হোমোসারকাল লেজ কী?
- খ)(2)
ফুলকা রেকার বলতে কী বোঝ?
- গ)(3)
উদ্দীপকের প্রথম প্রাণীটির উল্লিখিত অঙ্গের চিহ্নিত চিত্র অংকন করো।
- ঘ)(4)
উদ্দীপকের উল্লিখিত প্রাণী দুটির রক্ত সংবহনের তুলনামূলক বিশ্লেষণ করো।
উত্তর ও ব্যাখ্যা
- ক)
AI-তৈরি নমুনা উত্তর
যে পুচ্ছ পাখনা বা লেজ বাহ্যিক ও অভ্যন্তরীণভাবে সমান দুটি অংশে বা লোবে বিভক্ত থাকে, তাকে হোমোসারকাল লেজ বলে (যেমন: রুই মাছের লেজ)।
- খ)
AI-তৈরি নমুনা উত্তর
ফুলকা আর্কের ভেতরের বা অবতল কিনারা বরাবর ক্ষুদ্র, কাঁটার মতো বা দাঁতের মতো যে শক্ত প্রবর্ধকগুলো সারিবদ্ধভাবে সাজানো থাকে, সেগুলোকে ফুলকা রেকার (Gill rakers) বলে।
এগুলোর প্রধান কাজ হলো গলবিল থেকে খাদ্যবস্তু ফুলকার ভেতরে প্রবেশ করতে বাধা দেওয়া এবং ফুলকাকে বিভিন্ন ক্ষতিকর কণার আঘাত থেকে রক্ষা করা বা ছাঁকনযন্ত্র হিসেবে কাজ করা। - গ)
AI-তৈরি নমুনা উত্তর
উদ্দীপকের প্রথম প্রাণীটি হলো রুই মাছ এবং উল্লিখিত অঙ্গটি হলো তার হৃৎপিণ্ড। নিচে রুই মাছের হৃৎপিণ্ডের চিহ্নিত চিত্র অঙ্কনের বিবরণ প্রদান করা হলো:
[রুই মাছের হৃৎপিণ্ডের অনুদৈর্ঘ্যচ্ছেদের চিহ্নিত চিত্র]
চিত্রের আবশ্যক অংশসমূহ:
১. সাইনাস ভেনোসাস (উপ-প্রকোষ্ঠ)
২. অলিন্দ বা অ্যাট্রিয়াম (প্রথম মূল প্রকোষ্ঠ)
৩. নিলয় বা ভেন্ট্রিকল (দ্বিতীয় মূল প্রকোষ্ঠ)
৪. বাল্বাস আর্টারিওসাস (অঙ্কীয় মহাধমনির স্ফীত গোড়া)
৫. কপাটিকাসমূহ: সাইনো-অ্যাট্রিয়াল কপাটিকা, অ্যাট্রিও-ভেন্ট্রিকুলার কপাটিকা এবং ভেন্ট্রিকুলো-বাল্বার কপাটিকা।
(পরীক্ষার্থীকে সাইনাস ভেনোসাস থেকে বাল্বাস আর্টারিওসাস পর্যন্ত প্রকোষ্ঠ ও কপাটিকা সংবলিত রুই মাছের দ্বিপক্ষীয় হৃৎপিণ্ডের চিত্র যথাযথ লেবেলিংসহ অঙ্কন করতে হবে)। - ঘ)
AI-তৈরি নমুনা উত্তর
উদ্দীপকের প্রাণী দুটি হলো রুই মাছ এবং মানুষ। এদের রক্ত সংবহনতন্ত্রের তুলনামূলক বিশ্লেষণ নিচে দেওয়া হলো:
১. হৃৎপিণ্ডের গঠন: রুই মাছের হৃৎপিণ্ড দুটি মূল প্রকোষ্ঠ (একটি অলিন্দ ও একটি নিলয়) এবং একটি উপ-প্রকোষ্ঠ (সাইনাস ভেনোসাস) নিয়ে গঠিত। অন্যদিকে মানুষের হৃৎপিণ্ড সম্পূর্ণ চার প্রকোষ্ঠবিশিষ্ট (দুটি অলিন্দ ও দুটি নিলয়)।
২. সংবহনের প্রকৃতি: রুই মাছে একচক্রী সংবহন (Single circulation) ঘটে, অর্থাৎ প্রতি সংবহন চক্রে রক্ত একবারই হৃৎপিণ্ডে প্রবেশ করে। কিন্তু মানুষের ক্ষেত্রে দ্বিচক্রী সংবহন (Double circulation) ঘটে, যেখানে রক্ত একবার সিস্টেমিক চক্র এবং একবার পালমোনারি চক্রের মাধ্যমে দুইবার হৃৎপিণ্ডে আবর্তিত হয়।
৩. রক্তের প্রকৃতি: রুই মাছের হৃৎপিণ্ড দিয়ে কেবল কার্বন ডাই-অক্সাইডসমৃদ্ধ (ডিঅক্সিজেনেটেড) রক্ত প্রবাহিত হয়, তাই একে ভেনাস হার্ট বা শিরা হৃৎপিণ্ড বলে। মানুষের হৃৎপিণ্ডের ডান অংশে কার্বন ডাই-অক্সাইডযুক্ত রক্ত এবং বাম অংশে অক্সিজেনযুক্ত রক্ত পৃথকভাবে পরিবাহিত হয়; কোনো মিশ্রণ ঘটে না।
৪. অতিরিক্ত অংশ: রুই মাছের রক্ত সংবহনে একটি অতিরিক্ত স্ফীত অংশ 'বাল্বাস আর্টারিওসাস' উপস্থিত থাকে, মানুষের ক্ষেত্রে এর পরিবর্তে অ্যাওর্টিক আর্চ ও পালমোনারি ট্রাঙ্ক সরাসরি ভেন্ট্রিকল থেকে উৎপত্তি লাভ করে।
অতএব, তুলনামূলক বিশ্লেষণে দেখা যায় যে মানুষের রক্ত সংবহনতন্ত্র রুই মাছ অপেক্ষা অনেক বেশি উন্নত ও কার্যকর।
আরও প্রশ্ন অনুশীলন করতে অ্যাপে যাও