‍পৌরনীতি ও সুশাসন ২য় পত্র • Cumilla Board • কুমিল্লা বোর্ড ২০২২

‍পৌরনীতি ও সুশাসন ২য় পত্র প্রশ্ন

তাপস লন্ডন থেকে ব্যারিস্টারি পাস করে দেশে ফিরে আসেন। দেশে এসে রাজনীতিতে জড়িয়ে পড়েন। তিনি জনগণের কল্যাণে বিশেষ করে গণতন্ত্র প্রতিষ্ঠায় অনেক অবদান রাখেন। তার কর্মময় জীবন মূল্যায়ন করে তাকে গণতন্ত্রের মানসপুত্র বলে অবহিত করা হয়।

  1. ক)

    বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান কবে বাংলাদেশে প্রত্যাবর্তন করেন?

    (1)
  2. খ)

    রাষ্ট্র পরিচালনার মূলনীতি বলতে কী বোঝায়?

    (2)
  3. গ)

    উদ্দীপকে উল্লিখিত রাজনৈতিক ব্যক্তিত্বের সাথে তোমার পাঠ্যপুস্তকের কোন রাজনৈতিক ব্যক্তিত্বের ইঙ্গিত রয়েছে? তাকে কেন গণতন্ত্রের মানসপুত্র বলা হয়? ব্যাখ্যা কর।

    (3)
  4. ঘ)

    পাকিস্তানের গণতন্ত্র প্রতিষ্ঠায় উল্লেখিত ব্যক্তিত্বের অবদান মূল্যায়ন কর।

    (4)

উত্তর ও ব্যাখ্যা

  1. ক)

    AI-তৈরি নমুনা উত্তর

    বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান ১৯৭২ সালের ১০ জানুয়ারি পাকিস্তানের বন্দিদশা থেকে মুক্ত হয়ে স্বাধীন বাংলাদেশে প্রত্যাবর্তন করেন।

  2. খ)

    AI-তৈরি নমুনা উত্তর

    রাষ্ট্র পরিচালনার মূলনীতি বলতে বোঝায় রাষ্ট্রের শাসনব্যবস্থা, আইন প্রণয়ন, বিচার ব্যবস্থা এবং নীতি নির্ধারণের জন্য সংবিধানে বর্ণিত মৌলিক ও আদর্শিক নির্দেশনাসমূহ। বাংলাদেশের সংবিধানের ৮ নম্বর অনুচ্ছেদে চারটি মূলনীতি নির্ধারণ করা হয়েছে, যথা: জাতীয়তাবাদ, সমাজতন্ত্র, গণতন্ত্র এবং ধর্মনিরপেক্ষতা। এ নীতিগুলোর আলোকে রাষ্ট্র তার সার্বিক কার্যক্রম পরিচালনা করে থাকে।

  3. গ)

    AI-তৈরি নমুনা উত্তর

    উদ্দীপকে উল্লিখিত রাজনৈতিক ব্যক্তিত্বের সাথে পাঠ্যপুস্তকের অবিসংবাদিত নেতা হোসেন শহীদ সোহ্‌রাওয়ার্দীর ইঙ্গিত রয়েছে।

    হোসেন শহীদ সোহ্‌রাওয়ার্দীকে 'গণতন্ত্রের মানসপুত্র' বলা হয় কারণ তিনি আজীবন সংসদীয় গণতন্ত্র, আইনের শাসন এবং জনগণের মৌলিক অধিকার প্রতিষ্ঠার জন্য আপসহীন সংগ্রাম করেছেন। ব্রিটিশ আমল থেকে শুরু করে পাকিস্তান আমলে সামরিক ও স্বৈরাচারী শাসনের বিরুদ্ধে তিনি ছিলেন গণতন্ত্রকামী মানুষের প্রধান কণ্ঠস্বর। তিনি নিয়মতান্ত্রিক রাজনীতির মাধ্যমে সাংবিধানিক উপায়ে জনগণের অধিকার আদায়ে বিশ্বাস করতেন। বিরোধী দলীয় রাজনীতির ভিত্তি রচনা ও গণতন্ত্রকে প্রাতিষ্ঠানিক রূপ দেওয়ার ক্ষেত্রে তাঁর অবদান চিরস্মরণীয় হওয়ায় তাঁকে এই উপাধিতে ভূষিত করা হয়।

  4. ঘ)

    AI-তৈরি নমুনা উত্তর

    পাকিস্তানের রাজনীতিতে গণতন্ত্র প্রতিষ্ঠায় হোসেন শহীদ সোহ্‌রাওয়ার্দীর অবদান ছিল অসামান্য ও পথপ্রদর্শক।

    পাকিস্তান প্রতিষ্ঠার পর থেকেই শাসকগোষ্ঠী ক্ষমতা কুক্ষিগত করে অগণতান্ত্রিক পথে রাষ্ট্র পরিচালনা করতে শুরু করে। সোহ্‌রাওয়ার্দী বুঝতে পেরেছিলেন যে শক্তিশালী বিরোধী দল ছাড়া গণতন্ত্র কার্যকর হতে পারে না। তাই তিনি ১৯৪৯ সালে আওয়ামী মুসলিম লীগ গঠনে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখেন। পরবর্তীতে ১৯৫৪ সালের যুক্তফ্রন্ট গঠনে তিনি মাওলানা ভাসানী এবং এ. কে. ফজলুল হকের সাথে অগ্রণী ভূমিকা পালন করেন এবং মুসলিম লীগের বিরুদ্ধে নির্বাচনে ঐতিহাসিক জয় ছিনিয়ে আনেন।

    ১৯৫৬ সালে পাকিস্তানের দ্বিতীয় গণপরিষদে বিরোধী দলের নেতা হিসেবে তিনি পাকিস্তানের প্রথম সংবিধান প্রণয়নে কার্যকর ভূমিকা রাখেন, যেখানে সংসদীয় গণতন্ত্রের স্বীকৃতি দেওয়া হয়। পরবর্তীতে তিনি পাকিস্তানের প্রধানমন্ত্রী হিসেবে দায়িত্ব পালনকালে পররাষ্ট্রনীতি ও অভ্যন্তরীণ রাজনীতিতে গণতান্ত্রিক ভারসাম্য বজায় রাখার চেষ্টা করেন। জেনারেল আইয়ুব খানের সামরিক শাসনের বিরুদ্ধে গণতন্ত্র পুনরুদ্ধারের লক্ষ্যে তিনি ১৯৬২ সালে 'ন্যাশনাল ডেমোক্রেটিক ফ্রন্ট' (এনডিএফ) গঠন করেন। জীবনের শেষ দিন পর্যন্ত তিনি স্বৈরশাসনের বিরুদ্ধে গণতন্ত্রের জন্য লড়াই করে গেছেন।

আরও প্রশ্ন অনুশীলন করতে অ্যাপে যাও

সম্পর্কিত প্রশ্ন