সমাজবিজ্ঞান ২য় পত্র • Combined Board • ঢাকা, কুমিল্লা, যশোর বোর্ড ২০২২

সমাজবিজ্ঞান ২য় পত্র প্রশ্ন

  1. ক)

    বেকারত্ব কী?

    (1)
  2. খ)

    দারিদ্র্য কীভাবে নিরক্ষরতা সৃষ্টি করে? ব্যাখ্যা করো।

    (2)
  3. গ)

    ছক-১ কোন সামাজিক সমস্যাকে নির্দেশ করে? ব্যাখ্যা করো।

    (3)
  4. ঘ)

    ছক-২-এর সমস্যাটি ছক-১-এ নির্দেশিত সমস্যার প্রভাব- তোমার মতামত দাও।

    (4)

উত্তর ও ব্যাখ্যা

  1. ক)

    AI-তৈরি নমুনা উত্তর

    কর্মক্ষম ও কাজ করতে ইচ্ছুক ব্যক্তি যখন প্রচলিত বা বিদ্যমান মজুরিতে যোগ্যতা অনুযায়ী কাজ খুঁজে পায় না, তখন সেই অবস্থাকে বেকারত্ব বলে।

  2. খ)

    AI-তৈরি নমুনা উত্তর

    দারিদ্র্যের কারণে মানুষ মৌলিক চাহিদা পূরণ করতে হিমশিম খায়, যার ফলে শিক্ষা গ্রহণ ব্যাহত হয়ে নিরক্ষরতা সৃষ্টি হয়।

    দরিদ্র পরিবারের প্রধান লক্ষ্য থাকে দৈনন্দিন অন্নসংস্থান করা। আর্থিক অসচ্ছলতার কারণে তারা সন্তানদের পড়াশোনার খরচ (বই, খাতা, বেতন ইত্যাদি) বহন করতে পারে না। ফলে শিশুদের বিদ্যালয়ে পাঠানোর পরিবর্তে অল্প বয়সেই উপার্জনের কাজে বা শ্রমে নিযুক্ত করতে বাধ্য হয়। এভাবে শিক্ষার সুযোগ থেকে বঞ্চিত হওয়ার মাধ্যমে দারিদ্র্য সমাজে নিরক্ষরতার জন্ম দেয় ও তা টিকিয়ে রাখে।

  3. গ)

    AI-তৈরি নমুনা উত্তর

    ছক-১ বাংলাদেশের 'জনসংখ্যা সমস্যা' বা 'অতিরিক্ত জনসংখ্যাজনিত সমস্যা'-কে নির্দেশ করে।

    কোনো দেশের আয়তন এবং সম্পদের তুলনায় যদি জনসংখ্যার পরিমাণ অনেক বেশি হয়ে যায় এবং তা জনগণের মৌলিক চাহিদা পূরণে বিঘ্ন ঘটায়, তবে তাকে জনসংখ্যা সমস্যা বলা হয়।

    উদ্দীপকের ছক-১-এ উল্লেখিত লক্ষণগুলো হলো—বাস, ট্রেন ও লঞ্চে উপচে পড়া ভিড়, সড়কে যানবাহনের আধিক্য এবং বাসস্থান সমস্যা। এই লক্ষণগুলো সরাসরি জনসংখ্যার অতিরিক্ত চাপের বহিঃপ্রকাশ। দেশে ধারণক্ষমতার চেয়ে মানুষের সংখ্যা বেশি হওয়ায় গণপরিবহনে অতিরিক্ত ভিড় দেখা যায়, রাস্তায় যানজট তৈরি হয় এবং বিপুল জনগোষ্ঠীর জন্য উপযুক্ত ও স্বাস্থ্যসম্মত বাসস্থানের তীব্র সংকট সৃষ্টি হয়। সুতরাং, ছক-১-এর উপাদানগুলো প্রত্যক্ষভাবে অতিরিক্ত জনসংখ্যার সামাজিক সমস্যাকেই নির্দেশ করে।

  4. ঘ)

    AI-তৈরি নমুনা উত্তর

    ছক-২-এর সমস্যাটি (পরিবেশ দূষণ) মূলত ছক-১-এ নির্দেশিত সমস্যার (জনসংখ্যা সমস্যা) প্রত্যক্ষ প্রভাব—উক্তিটি সম্পূর্ণ যথার্থ।

    উদ্দীপকের ছক-১ অতিরিক্ত জনসংখ্যা বা জনসংখ্যা সমস্যাকে নির্দেশ করে এবং ছক-২ পরিবেশ দূষণকে (বায়ু দূষণ, শব্দ দূষণ, পানি দূষণ) নির্দেশ করে।

    একটি দেশে জনসংখ্যা বৃদ্ধি পেলে মানুষের নানাবিধ চাহিদা বৃদ্ধি পায়। এই অতিরিক্ত চাহিদা মেটানোর জন্য দ্রুত ও অপরিকল্পিত শিল্পায়ন ও নগরায়ণ ঘটে। অধিক মানুষের কর্মসংস্থান ও নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্য উৎপাদনের জন্য প্রচুর কলকারখানা স্থাপিত হয়, যা থেকে নির্গত কালো ধোঁয়া ও বিষাক্ত গ্যাস বায়ু দূষণ ঘটায়। যানবাহনের সংখ্যা বহুগুণ বেড়ে যাওয়ায় হাইড্রোলিক হর্ন ও বিভিন্ন ক্ষেত্রে মাইকের অযাচিত ব্যবহারের ফলে তীব্র শব্দ দূষণ সৃষ্টি হয়। এছাড়া বর্ধিত জনসংখ্যার গৃহস্থালি বর্জ্য এবং অপরিশোধিত শিল্পবর্জ্য নদী-নালা ও জলাশয়ে ফেলায় পানি দূষিত হচ্ছে।

    অতএব, দেখা যায় যে অতিরিক্ত জনসংখ্যার চাপই প্রাকৃতিক পরিবেশের ওপর বিরূপ প্রতিক্রিয়া সৃষ্টি করে পরিবেশের ভারসাম্য নষ্ট করছে। তাই বলা যায়, ছক-২-এ প্রদর্শিত পরিবেশ দূষণের সমস্যাটি মূলত ছক-১-এ নির্দেশিত জনসংখ্যা সমস্যারই নেতিবাচক প্রভাব ও ফলাফল।

আরও প্রশ্ন অনুশীলন করতে অ্যাপে যাও

সম্পর্কিত প্রশ্ন