বাংলা ১ম পত্র • Mymensingh Board • ময়মনসিংহ বোর্ড ২০২২
বাংলা ১ম পত্র প্রশ্ন
সেই শৈশবের সুরবালা তোমার যত কাছেই থাকুক, তাহার চুড়ির শব্দ শুনিতে পাও, তাহার মাথা ঘষার গন্ধ অনুভব করো, কিন্তু মাঝখান বরাবর একখানি করিয়া দেয়াল থাকিবে। আমি বলিলাম থাক-না, সুরবালা আমার কে? উত্তর শুনিলাম; সুরবালা আজ তোমার কেহই নয়; কিন্তু সুরবালা তোমার কী না হইতে পারিত। সে কথা সত্য। সুরবালা আমার কী না হইতে পারিত। আমার সবচেয়ে অন্তরঙ্গ, আমার সবচেয়ে নিকটবর্তী, আমার জীবনের সমস্ত সুখ-দুঃখভাগিনী হইতে পারিত' সে আজ এত দূর এত পর, আজ তাহারে দেখা নিষেধ, তাহার সঙ্গে কথা কওয়া দোষ, তাহার বিষয়ে চিন্তা করা পাপ।
- ক)(1)
কল্যাণী কোন স্টেশনে নেমেছিল?
- খ)(2)
'বাহিরে' তো সে ধরা দিলই না, তাহাকে মনেও আনিতে পারিলাম না।'— ব্যাখ্যা করো।
- গ)(3)
উদ্দীপকের সাথে 'অপরিচিতা' গল্পের সাদৃশ্য তুলে ধরো।
- ঘ)(4)
'প্রিয়জনকে না পাওয়ার হাহাকারই উদ্দীপকের কথক ও ‘অপরিচিতা' গল্পের অনুপমকে একই সূত্রে গেঁথেছে।'— বিশ্লেষণ করো।
উত্তর ও ব্যাখ্যা
- ক)
AI-তৈরি নমুনা উত্তর
কল্যাণী কানপুর স্টেশনে নেমেছিল।
- খ)
AI-তৈরি নমুনা উত্তর
উক্তিটি দ্বারা অনুপমের চোখে বিয়ের আসরে না-দেখা বা মুখোমুখি না-হওয়া কল্যাণীর রূপকল্প ও স্মৃতিহীনতার অপ্রাপ্তি বোঝানো হয়েছে।
বিয়ে ভেঙে যাওয়ার কারণে অনুপমের সঙ্গে কল্যাণীর কোনো প্রত্যক্ষ পরিচয় বা দেখা হয়নি। অনুপমের মনে কল্যাণীর কোনো নির্দিষ্ট চেহারা বা স্মৃতির স্পষ্ট রূপ ধরা পড়েনি। ফলে তার হৃদয়ে কল্যাণীর শারীরিক রূপ কল্পনায় আসেনি, অথচ অন্তরের গভীরে কল্যাণীর প্রতি এক দুর্নিবার আকর্ষণ ও বিরহের অনুভূতি সদা জাগ্রত ছিল। এই আক্ষেপ থেকেই অনুপম কথাটি বলেছে।
- গ)
AI-তৈরি নমুনা উত্তর
উদ্দীপকের সাথে 'অপরিচিতা' গল্পের বিরহ ও হারানো ভালোবাসার অপ্রাপ্তিজনিত বেদনার দিক থেকে গভীর সাদৃশ্য রয়েছে।
রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের 'অপরিচিতা' গল্পে অনুপম তার নিজের কাপুরুষতা ও মামার অনড় পণপ্রথার কারণে কল্যাণীকে স্ত্রীরূপে লাভ করতে ব্যর্থ হয়। সারা জীবন কল্যাণীকে একপলক দেখার এবং তার নৈকট্য পাওয়ার তীব্র আকাঙ্ক্ষা অনুপমের অন্তরে হাহাকার হয়ে রয়ে যায়। কল্যাণী অতি কাছে থেকেও যেন অনুপমের ধরাছোঁয়ার বাইরে এক দুর্ভেদ্য দেয়ালের ওপারে অবস্থান করে।
উদ্দীপকেও দেখা যায়, শৈশবের সুরবালা কথকের অত্যন্ত কাছে থাকা সত্ত্বেও দুজনের মাঝখানে যেন অদৃশ্য দুর্ভেদ্য প্রাচীর রয়েছে। সে কথকের জীবনের সব সুখ-দুঃখের সঙ্গিনী হতে পারত, কিন্তু নিয়তির ফেরে আজ সে সম্পূর্ণ পর। ঠিক একইভাবে কল্যাণী অনুপমের স্ত্রী হতে পারত, কিন্তু ভাগ্যের নির্মম পরিহাসে সে আজ দূরের মানুষ। এই অপ্রাপ্তি ও অনুশোচনার দিক থেকেই উদ্দীপকের সঙ্গে গল্পের সাদৃশ্য পরিস্ফুট।
- ঘ)
AI-তৈরি নমুনা উত্তর
'প্রিয়জনকে না পাওয়ার হাহাকারই উদ্দীপকের কথক ও ‘অপরিচিতা’ গল্পের অনুপমকে একই সূত্রে গেঁথেছে।'— মন্তব্যটি যথার্থ ও যৌক্তিক।
'অপরিচিতা' গল্পে অনুপম কল্যাণীকে জীবনসঙ্গিনী হিসেবে পাওয়ার খুব কাছাকাছি গিয়েও ব্যক্তিত্বহীনতার কারণে তাকে চিরদিনের মতো হারিয়ে ফেলে। পরবর্তীতে কানপুর স্টেশনে কল্যাণীর ব্যক্তিত্বময় কণ্ঠস্বর শুনে ও পরে তাকে সেবাধর্মী ব্রতে নিয়োজিত দেখে অনুপমের ভালোবাসা নতুন রূপ নেয়। কল্যাণী বিয়ে না করার সংকল্পে অটল থাকায় অনুপম তাকে আর নিজের করতে পারেনি। তাই অনুতাপ ও বিরহের অন্তর্দাহে অনুপম জীবন কাটিয়ে দেয় এবং কল্যাণীর স্মৃতি ও সান্নিধ্যটুকুই তার জীবনের একমাত্র অবলম্বন হয়।
উদ্দীপকের কথকের ক্ষেত্রেও একই অনুভূতির প্রকাশ ঘটেছে। সুরবালা তার জীবনে সবচেয়ে নিকটবর্তী ও সুখ-দুঃখের চিরন্তন সঙ্গিনী হতে পারত। কিন্তু ভাগ্যের নির্মম পরিহাসে সুরবালা আজ অন্য কারও ঘরনী, যার কথা ভাবাও যেন সমাজের চোখে পাপ। অথচ সুরবালা কাছেই থাকে, কিন্তু মাঝখানে দুর্ভেদ্য দেয়াল। এই যা হতে পারত কিন্তু হলো না—সেই অপূর্ণতা ও অপ্রাপ্তির দীর্ঘশ্বাস উদ্দীপকের কথকের মনকে আচ্ছন্ন করে রেখেছে।
সুতরাং উদ্দীপকের কথক এবং 'অপরিচিতা' গল্পের অনুপম—উভয়েই ভালোবাসার মানুষটিকে নিজের করে না পাওয়ার সীমাহীন হাহাকার, একাকিত্ব ও চিরন্তন বেদনায় দগ্ধ। এই অভিন্ন মানসিক সংকট ও হাহাকারই তাদের একসূত্রে গেঁথে দিয়েছে।
আরও প্রশ্ন অনুশীলন করতে অ্যাপে যাও