কৃষি শিক্ষা ১ম পত্র • Combined Board • ঢাকা, যশোর, সিলেট, দিনাজপুর বোর্ড ২০১৮

কৃষি শিক্ষা ১ম পত্র প্রশ্ন

আমাদের দেশে বিশেষত বরিশাল বিভাগে প্রচুর পরিমাণ পেয়ারার চাষ হয়। বর্তমানে থাই পেয়ারার চাষ বৃদ্ধি পাওয়ায় দেশি জাতের পেয়ারার চাহিদা কমে যাচ্ছে। এ পেয়ারা ক্ষতির হাত থেকে রক্ষার জন্য “প্রাণ কোম্পানি” এগুলোকে প্রক্রিয়াজাত করে খাদ্যোপযোগী করার ব্যবস্থা করে। এতে করে অনেক লোকের কর্মসংস্থানের সুযোগসহ ফল চাষিরা আর্থিকভাবে লাভবান হচ্ছেন ।

  1. ক)

    ফল সংরক্ষণ কী?

    (1)
  2. খ)

    সবজিতে কিউরিং করা হয় কেন?

    (2)
  3. গ)

    উদ্দীপকে উল্লিখিত ফলটির প্রক্রিয়াজাতকরণ পদ্ধতি বর্ণনা করো ।

    (3)
  4. ঘ)

    “প্রাণ কোম্পানির” কর্মকাণ্ডটি বাস্তবসম্মত কিনা তোমার উত্তরের সপক্ষে যুক্তি দাও ৷

    (4)

উত্তর ও ব্যাখ্যা

  1. ক)

    AI-তৈরি নমুনা উত্তর

    ফলকে বিভিন্ন ক্ষতিকর অণুজীব, রোগবালাই ও পরিবেশগত প্রভাব থেকে রক্ষা করে এর গুণাগুণ, স্বাদ ও পুষ্টিমান দীর্ঘদিন অক্ষুণ্ন রাখাকে ফল সংরক্ষণ বলে।

  2. খ)

    AI-তৈরি নমুনা উত্তর

    ফসল তোলার পর শাকসবজির ত্বক বা বাইরের খোসার ক্ষত নিরাময় এবং ত্বক শক্ত করার উদ্দেশ্যে একটি নির্দিষ্ট আর্দ্রতা ও তাপমাত্রায় নির্দিষ্ট সময় পর্যন্ত রেখে দেওয়ার প্রক্রিয়াকে কিউরিং বলে। পেঁয়াজ, রসুন ও গোলআলুর ক্ষেত্রে কিউরিংয়ের মাধ্যমে এদের গায়ের বাড়তি আর্দ্রতা শুকিয়ে ফেলা হয় এবং রোগজীবাণুর আক্রমণ থেকে রক্ষা করে এদের সংরক্ষণকাল বাড়ানো হয়।

  3. গ)

    AI-তৈরি নমুনা উত্তর

    উদ্দীপকে উল্লিখিত ফলটি হলো পেয়ারা। পেয়ারা সাধারণত জেলি তৈরি করে প্রক্রিয়াজাত করা হয়। এর প্রস্তুতপ্রণালি নিচে উল্লেখ করা হলো:
    ১. ফল নির্বাচন ও ধোয়া: কিছুটা কাঁচা বা আধা পাকা ও শক্ত তাজা পেয়ারা নির্বাচন করে পরিষ্কার পানিতে ভালো করে ধুয়ে নিতে হয়।
    ২. কাটা ও সেদ্ধ করা: পেয়ারাগুলোকে পাতলা টুকরা করে কেটে পাত্রে সমপরিমাণ বা ডুবো পানিসহ মৃদু আঁচে সেদ্ধ করতে হয় যাতে পেয়ারার ভেতরের পেকটিন গলে পানিতে মিশে যায়।
    ৩. নির্যাস সংগ্রহ: সেদ্ধ করা পেয়ারাগুলো একটি পরিষ্কার পাতলা কাপড়ে ঝুলিয়ে রস ছেঁকে নেওয়া হয়।
    ৪. চিনি ও সাইট্রিক অ্যাসিড মিশ্রণ: প্রাপ্ত নির্যাসের পরিমাণের ওপর ভিত্তি করে পরিমিত চিনি এবং প্রতি কেজি ফলের রসের জন্য সামান্য পরিমাণ সাইট্রিক অ্যাসিড যোগ করা হয়।
    ৫. জ্বাল দেওয়া ও জেলি পরীক্ষা: মিশ্রণটিকে ঘন না হওয়া পর্যন্ত জ্বাল দেওয়া হয়। ঠান্ডা পানিতে এক ফোঁটা ফেলে জেলি জমে যাওয়া বা চামচ পরীক্ষার মাধ্যমে জেলি প্রস্তুত হয়েছে কি না তা নিশ্চিত করা হয়।
    ৬. বোতলজাতকরণ: প্রস্তুতকৃত জেলি গরমাবস্থায় পরিষ্কার, জীবাণুমুক্ত কাচের জারে ঢেলে বায়ুরোধী করে সংরক্ষণ করা হয়।

  4. ঘ)

    AI-তৈরি নমুনা উত্তর

    উদ্দীপকে 'প্রাণ কোম্পানি' কর্তৃক পেয়ারা প্রক্রিয়াজাত করে খাদ্যোপযোগী করার কর্মকাণ্ডটি অত্যন্ত বাস্তবসম্মত ও দূরদর্শী। এর সপক্ষে যুক্তি নিচে তুলে ধরা হলো:
    ১. ফল অপচয় রোধ: পেয়ারা একটি পচনশীল ফল। ফল তোলার মৌসুমে সরবরাহ বেশি হওয়ায় এবং আধুনিক চাষের প্রভাবে দেশি জাতের পেয়ারার বাজারমূল্য কমে যায় এবং প্রচুর ফল পচে নষ্ট হয়। প্রক্রিয়াজাতকরণের মাধ্যমে অপচয় শতভাগ রোধ করা যায়।
    ২. সারা বছর সহজলভ্যতা: প্রক্রিয়াজাতকরণের মাধ্যমে পেয়ারার জেলি, জ্যাম বা জুস তৈরি করে সারা বছর এর স্বাদ ও পুষ্টি সাধারণ মানুষের কাছে পৌঁছে দেওয়া সম্ভব হয়।
    ৩. চাষিদের অর্থনৈতিক নিরাপত্তা: স্থানীয় চাষিরা তাদের উৎপাদিত পেয়ারার একটি নিশ্চিত বাজার পায়, যা তাদের ন্যায্যমূল্য পেতে সাহায্য করে এবং ফল চাষে উৎসাহিত করে।
    ৪. কর্মসংস্থান সৃষ্টি: শিল্পকারখানা ও প্রক্রিয়াজাতকরণ ইউনিটে প্রচুর শ্রমিকের প্রয়োজন হয়, যার ফলে অনেক মানুষের কর্মসংস্থানের সুযোগ সৃষ্টি হয় এবং গ্রামীণ অর্থনীতি গতিশীল হয়।
    অতএব, উদ্বৃত্ত ও চাহিদা কমে যাওয়া দেশি পেয়ারা প্রক্রিয়াজাতকরণের উদ্যোগটি দেশের কৃষি ও অর্থনৈতিক উন্নয়নের প্রেক্ষাপটে নিঃসন্দেহে অত্যন্ত বাস্তবসম্মত ও প্রশংসনীয়।

আরও প্রশ্ন অনুশীলন করতে অ্যাপে যাও

সম্পর্কিত প্রশ্ন