অর্থনীতি ২য় পত্র • Combined Board • ঢাকা, যশোর, সিলেট, দিনাজপুর বোর্ড ২০১৮

অর্থনীতি ২য় পত্র প্রশ্ন

বাংলাদেশ একটি ক্ষুদ্র আয়তনের দেশ কিন্তু জনসংখ্যা প্রায় ১৬ কোটি। এই বিরাট জনগোষ্ঠীর খাদ্য নিরাপত্তা নিশ্চিত করা দেশটির জন্য বড় চ্যালেঞ্জ। সরকার অভ্যন্তরীণভাবে খাদ্যোৎপাদন বাড়ানোর জন্য কৃষি ও পল্লি উন্নয়নে অগ্রাধিকার দিচ্ছে। বিশেষ করে কৃষি উৎপাদনে ভর্তুকি প্রদান, কৃষি ঋণ সহজলভ্যকরণ, কৃষিতে বায়োটেকনোলজির ব্যবহার, কাবিখা, ভিজিএফসহ নানাবিধ কর্মসূচি গ্রহণ করেছে। সময় সময় বিদেশ থেকে খাদ্য আমদানিরও ব্যবস্থা করছে।

  1. ক)

    ভেজাল খাদ্য কী?

    (1)
  2. খ)

    ভেজাল খাদ্য কীভাবে খাদ্য নিরাপত্তাকে বিঘ্নিত করে ব্যাখ্যা করো।

    (2)
  3. গ)

    উদ্দীপকে খাদ্য নিরাপত্তা নিশ্চিতকরণে যে বিষয়গুলোর কথা বলা হয়েছে তা চিহ্নিত করে ব্যাখ্যা করো।

    (3)
  4. ঘ)

    খাদ্য নিরাপত্তা নিশ্চিতকরণে উদ্দীপকে উল্লিখিত সরকারি পদক্ষেপসমূহের সাথে বেসরকারি সংস্থার ভূমিকা থাকা জরুরি কিনা ব্যাখ্যা করো।

    (4)

উত্তর ও ব্যাখ্যা

  1. ক)

    AI-তৈরি নমুনা উত্তর

    যে খাদ্যদ্রব্যে মানুষের স্বাস্থ্যের জন্য ক্ষতিকর কোনো কৃত্রিম উপাদান, রাসায়নিক পদার্থ বা নিম্নমানের দ্রব্য মেশানো থাকে কিংবা যার স্বাভাবিক পুষ্টিগুণ নষ্ট করা হয়, তাকে ভেজাল খাদ্য বলে।

  2. খ)

    AI-তৈরি নমুনা উত্তর

    খাদ্য নিরাপত্তার অন্যতম মৌলিক শর্ত হলো নিরাপদ ও পুষ্টিকর খাদ্যের পর্যাপ্ত ব্যবহার ও শারীরিক উপযোগিতা নিশ্চিত করা। ভেজাল খাদ্য গ্রহণের ফলে মানবদেহে ক্যান্সার, কিডনি বিকল ও হৃদরোগসহ নানাবিধ জটিল রোগের সৃষ্টি হয়, যা মানুষের কর্মক্ষমতা ও পুষ্টি শোষণ ক্ষমতা বিনষ্ট করে। ফলে নিরাপদ ও পুষ্টিকর খাদ্যের অভাব দেখা দেয় এবং খাদ্য নিরাপত্তা মারাত্মকভাবে বিঘ্নিত হয়।

  3. গ)

    AI-তৈরি নমুনা উত্তর

    উদ্দীপকে খাদ্য নিরাপত্তা নিশ্চিতকরণে খাদ্যের পর্যাপ্ত প্রাপ্যতা (Food Availability) এবং খাদ্যে প্রবেশাধিকার বা সামর্থ্য (Food Access)-এর কথা বলা হয়েছে।

    খাদ্য নিরাপত্তার প্রধান দিক হলো দেশের সকল নাগরিকের জন্য সার্বক্ষণিক পর্যাপ্ত খাদ্যের প্রাপ্যতা ও তা সংগ্রহের সামর্থ্য নিশ্চিত করা। উদ্দীপকে অভ্যন্তরীণ খাদ্যোৎপাদন বাড়াতে কৃষি ও পল্লি উন্নয়ন, কৃষি ভর্তুকি, সহজলভ্য কৃষি ঋণ এবং বায়োটেকনোলজির ব্যবহারের উল্লেখ রয়েছে, যা দেশে খাদ্যের মোট জোগান ও প্রাপ্যতা বৃদ্ধি করে। এছাড়া জরুরি পরিস্থিতিতে বিদেশ থেকে খাদ্য আমদানিও এই প্রাপ্যতার অংশ। অন্যদিকে, কাবিখা (কাজের বিনিময়ে খাদ্য) ও ভিজিএফ (ভালনারেবল গ্রুপ ফিডিং)-এর মতো সামাজিক নিরাপত্তা বেষ্টনী কর্মসূচির মাধ্যমে দরিদ্র ও অনগ্রসর জনগোষ্ঠীর খাদ্যে প্রবেশাধিকার ও সামর্থ্য নিশ্চিত করার দিকটি ফুটে উঠেছে।

  4. ঘ)

    AI-তৈরি নমুনা উত্তর

    খাদ্য নিরাপত্তা নিশ্চিতকরণে উদ্দীপকে উল্লিখিত সরকারি পদক্ষেপসমূহের পাশাপাশি বেসরকারি সংস্থার (এনজিও) ভূমিকা থাকা অত্যন্ত জরুরি।

    বাংলাদেশ একটি জনবহুল দেশ হওয়ায় কেবল সরকারি উদ্যোগের মাধ্যমে এককভাবে খাদ্য নিরাপত্তার তিনটি মাত্রা—প্রাপ্যতা, প্রবেশাধিকার এবং ব্যবহার নিশ্চিত করা অত্যন্ত দুরূহ। উদ্দীপকে সরকার কর্তৃক কৃষি ভর্তুকি, সহজ ঋণ, আধুনিক প্রযুক্তি প্রয়োগ, কাবিখা, ভিজিএফ এবং খাদ্য আমদানির মতো উদ্যোগের কথা বলা হয়েছে। তবে এসব কার্যক্রমের সুফল প্রত্যন্ত অঞ্চলের প্রান্তিক কৃষকদের দোরগোড়ায় পৌঁছাতে বেসরকারি সংস্থাগুলো পরিপূরক ভূমিকা পালন করে থাকে।

    বেসরকারি সংস্থাগুলো প্রান্তিক কৃষকদের সহজ শর্তে ক্ষুদ্রঋণ প্রদান, উন্নত জাতের বীজ ও কৃষি প্রযুক্তি সংক্রান্ত প্রশিক্ষণ, জৈব সার ব্যবহারে উদ্বুদ্ধকরণ এবং পুষ্টি সচেতনতা বৃদ্ধিতে গুরুত্বপূর্ণ অবদান রাখে। এছাড়া প্রাকৃতিক দুর্যোগকালীন সময়ে দ্রুত খাদ্য ও ত্রাণ পৌঁছানো এবং কর্মসংস্থান সৃষ্টিতে বেসরকারি উদ্যোগ সরকারের কার্যক্রমকে আরও কার্যকর করে তোলে। সুতরাং, খাদ্য নিরাপত্তা পুরোপুরি নিশ্চিত করতে সরকারি ও বেসরকারি সমন্বিত প্রচেষ্টা অপরিহার্য।

আরও প্রশ্ন অনুশীলন করতে অ্যাপে যাও

সম্পর্কিত প্রশ্ন