ইসলামের ইতিহাস ও সংস্কৃতি ১ম পত্র • Dhaka Board • ঢাকা বোর্ড ২০১৭

ইসলামের ইতিহাস ও সংস্কৃতি ১ম পত্র প্রশ্ন

আশরাফ সাহেবের বাসায় সবসময় দুই ধরনের রান্না হয়। ভালোমানের রান্না হয় তার পরিবারের জন্য, আর নিম্নমানের খাবার 'তৈরি হয় ড্রাইভার, বাবুর্চি আর পরিচারিকাদের জন্য। তাদের চিকিৎসা, বাসস্থান ও ভালো পোশাকেরও সুব্যবস্থা নেই। আশরাফ সাহেব তার স্ত্রীর সাথেও সবসময় দুর্ব্যবহার করেন। পারিবারিক কোনো সিদ্ধান্তে তিনি স্ত্রীর মতামত গ্রহণ করেন না। এসব নিয়ে সংসারে অশান্তি লেগেই থাকে।

  1. ক)

    মহানবি (স) কত খ্রিষ্টাব্দে ইন্তেকাল করেন?

    (1)
  2. খ)

    মুহাম্মাদ (স)-কে 'আল-আমিন' বলা হয় কেন? ব্যাখ্যা করো।

    (2)
  3. গ)

    উদ্দীপকের আশরাফ সাহেব মহানবি (স)-এর কোন উপদেশ মেনে চললে অধীনদের সাথে বিরূপ আচরণ করতে পারতেন না? ব্যাখ্যা করো।

    (3)
  4. ঘ)

    উদ্দীপকে নারীর প্রতি যে অবহেলা প্রকাশ পেয়েছে তা মহানবি (স)-এর বিদায় হজের ভাষণের এ সংক্রান্ত নির্দেশাবলির পরিপন্থি- উক্তিটি বিশ্লেষণ করো।

    (4)

উত্তর ও ব্যাখ্যা

  1. ক)

    AI-তৈরি নমুনা উত্তর

    মহানবি হযরত মুহাম্মাদ (স) ৬৩২ খ্রিষ্টাব্দে (১১ হিজরির ১২ রবিউল আউয়াল) ইন্তেকাল করেন।

  2. খ)

    AI-তৈরি নমুনা উত্তর

    মহানবি (স) বাল্যকাল থেকেই ছিলেন অত্যন্ত সত্যবাদী, বিশ্বস্ত, আমানতদার এবং ন্যায়পরায়ণ। তাঁর সততা, কর্তব্যনিষ্ঠা ও চারিত্রিক পবিত্রতায় মুগ্ধ হয়ে মক্কার কুরাইশসহ সাধারণ জনগণ তাঁকে 'আল-আমিন' বা 'বিশ্বস্ত' উপাধিতে ভূষিত করে। কোনো ধরনের অসততা বা মিথ্যার আশ্রয় না নিয়ে সবার আস্থা অর্জন করার ফলেই তিনি এই খেতাবে ভূষিত হন।

  3. গ)

    AI-তৈরি নমুনা উত্তর

    উদ্দীপকের আশরাফ সাহেব মহানবি (স)-এর বিদায় হজের ভাষণে দাস-দাসী ও অধীনস্থদের অধিকার সংক্রান্ত উপদেশ মেনে চললে অধীনদের সাথে এরূপ বিরূপ আচরণ করতে পারতেন না।

    বিদায় হজের ঐতিহাসিক ভাষণে মহানবি (স) অধীনস্থ কর্মচারী ও দাস-দাসীদের প্রতি মানবিক আচরণ নিশ্চিত করার কঠোর নির্দেশ দিয়েছিলেন। তিনি বলেছিলেন—"অধীনদের প্রতি যত্নবান হবে। তোমরা যা খাবে, তাদেরও তা খেতে দেবে; তোমরা যা পরিধান করবে, তাদেরও তা পরতে দেবে। তাদের কোনো ত্রুটি হলে ক্ষমা করবে এবং তাদের ওপর সাধ্যাতীত কাজের বোঝা চাপিয়ে দেবে না।"

    উদ্দীপকের আশরাফ সাহেব পরিবারের সদস্যদের জন্য ভালো মানের এবং গৃহভৃত্যদের জন্য নিম্নমানের খাবারের ব্যবস্থা করেন, তাদের চিকিৎসা ও বাসস্থানের কোনো সুব্যবস্থা রাখেননি। তিনি যদি মহানবি (স)-এর অধীনস্থদের নিজের মতো খাবার ও পোশাক প্রদানের এই মানবিক ও সমতাপূর্ণ নির্দেশনা মেনে চলতেন, তবে তিনি তাদের সাথে এই বৈষম্যমূলক ও অন্যায় আচরণ করতেন না।

  4. ঘ)

    AI-তৈরি নমুনা উত্তর

    উদ্দীপকে স্ত্রীর প্রতি আশরাফ সাহেবের দুর্ব্যবহার ও অবহেলা প্রদর্শন মহানবি (স)-এর বিদায় হজের ভাষণে ঘোষিত নারীর অধিকার ও মর্যাদা বিষয়ক নির্দেশনাবলির স্পষ্ট পরিপন্থি—উক্তিটি সম্পূর্ণ যথার্থ।

    বিদায় হজের ভাষণে মহানবি (স) নারীদের অধিকার ও সুরক্ষার বিষয়ে বিশেষ গুরুত্ব আরোপ করে বলেছিলেন, "নারীদের বিষয়ে আল্লাহকে ভয় করো। তাদের ওপর তোমাদের যেমন অধিকার রয়েছে, তোমাদের ওপরও তাদের তেমনি অধিকার রয়েছে। তোমরা তাদের সাথে সদয় ও সম্মানজনক আচরণ করবে।"

    উদ্দীপকে দেখা যায়, আশরাফ সাহেব তাঁর স্ত্রীর সাথে সর্বদা দুর্ব্যবহার করেন এবং পারিবারিক কোনো সিদ্ধান্তে স্ত্রীর মতামত গ্রহণ করেন না। এটি পরিষ্কারভাবে স্ত্রীর মানবিক মর্যাদা ও মতামতের অধিকার ক্ষুণ্ণ করার শামিল। ইসলাম ও রাসুলুল্লাহ (স)-এর নির্দেশনা অনুযায়ী পরিবার পরিচালনায় স্ত্রীর সাথে সদ্ব্যবহার করা, পরামর্শ করা ও পারস্পরিক সম্মান বজায় রাখা পুরুষের আবশ্যিক দায়িত্ব। আশরাফ সাহেবের আচরণে ইসলামের এই নির্দেশনার সম্পূর্ণ লঙ্ঘন ঘটেছে।

    সুতরাং, উদ্দীপকে নারীর প্রতি যে মানসিক ও পারিবারিক অবহেলা ফুটে উঠেছে, তা বিদায় হজের ঐতিহাসিক ভাষণে মহানবি (স) কর্তৃক প্রদত্ত নারীর মর্যাদা ও সুরক্ষার সুস্পষ্ট নির্দেশনার সম্পূর্ণ পরিপন্থি।

আরও প্রশ্ন অনুশীলন করতে অ্যাপে যাও

সম্পর্কিত প্রশ্ন