অর্থনীতি ২য় পত্র • Sylhet Board • সিলেট বোর্ড ২০২৫

অর্থনীতি ২য় পত্র প্রশ্ন

বাংলাদেশে ২০২০-২১ অর্থবছরে কয়েকটি পণ্যের রপ্তানি আয় নিম্নরূপ:বিভিন্ন প্রতিবন্ধকতার কারণে আমাদের রপ্তানি বাণিজ্য আশানুরূপ নয়।

ক্রমিক নং | পণ্যের নাম | পরিমাণ (মিলিয়ন ডলারে)
১ | হিমায়িত খাদ্য | ৪৭৭
২ | কাঁচাপাট | ১৩৮
৩ | চা | ০.৪
৪ | কৃষিজাত পণ্য | ৫৩২
৫ | তৈরি পোশাক | ১৪৪৯৭
৬ | চামড়া | ১১৯

  1. ক)

    মূলধনী দ্রব্য কাকে বলে?

    (1)
  2. খ)

    বাংলাদেশ কৃষিপ্রধান দেশ হওয়া সত্ত্বেও খাদ্যসামগ্রী আমদানি করতে হয় কেন?

    (2)
  3. গ)

    উদ্দীপক থেকে বাংলাদেশের প্রচলিত ও অপ্রচলিত পণ্যের রপ্তানি আয় পৃথকভাবে নিরূপণপূর্বক ব্যাখ্যা করো।

    (3)
  4. ঘ)

    বাংলাদেশের রপ্তানি আয় বৃদ্ধিতে কী কী পদক্ষেপ গ্রহণ করা যায় বলে তুমি মনে করো? আলোচনা করো।

    (4)

উত্তর ও ব্যাখ্যা

  1. ক)

    AI-তৈরি নমুনা উত্তর

    যেসব উৎপাদিত দ্রব্য সরাসরি মানুষের ভোগে ব্যবহৃত না হয়ে ভবিষ্যৎ উৎপাদন প্রক্রিয়ায় পুনরায় অন্য দ্রব্য বা সেবা উৎপাদনে কাঁচামাল ও সহায়ক হিসেবে ব্যবহৃত হয়, সেগুলোকে মূলধনী দ্রব্য বলে (যেমন: যন্ত্রপাতি, কলকারখানা ইত্যাদি)।

  2. খ)

    AI-তৈরি নমুনা উত্তর

    বাংলাদেশ কৃষিপ্রধান দেশ হওয়া সত্ত্বেও বিপুল জনসংখ্যা, প্রাকৃতিক দুর্যোগ এবং আবাদি জমির স্বল্পতার কারণে খাদ্যসামগ্রী আমদানি করতে হয়। জনসংখ্যা বৃদ্ধির ফলে খাদ্যশস্যের অভ্যন্তরীণ চাহিদা ক্রমাগত বৃদ্ধি পাচ্ছে, অথচ শিল্পায়ন ও নগরায়ণের ফলে আবাদি জমির পরিমাণ সংকুচিত হচ্ছে। তদুপরি, বন্যা, খরা ও ঘূর্ণিঝড়ের মতো প্রাকৃতিক দুর্যোগে প্রায়ই ফসলের মারাত্মক ক্ষতি হয়। এছাড়া খাদ্য নিরাপত্তা নিশ্চিত করা এবং জরুরি মজুত গড়ে তোলার উদ্দেশ্যেও সরকারকে বাইরে থেকে খাদ্য আমদানি করতে হয়।

  3. গ)

    AI-তৈরি নমুনা উত্তর

    আন্তর্জাতিক বাণিজ্যে যেসব পণ্য প্রাচীনকাল বা ঐতিহাসিকভাবে দীর্ঘদিন ধরে রপ্তানি হয়ে আসছে সেগুলোকে 'প্রচলিত পণ্য' এবং যেসব পণ্য পূর্বে রপ্তানি হতো না বা অতি সামান্য হতো কিন্তু বর্তমানে নতুনভাবে রপ্তানি তালিকায় যুক্ত হয়ে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখছে সেগুলোকে 'অপ্রচলিত পণ্য' বলা হয়।

    উদ্দীপকের তালিকা অনুযায়ী:
    ১. প্রচলিত পণ্য:

    • কাঁচাপাট: ১৩৮ মিলিয়ন ডলার
    • চা: ০.৪ মিলিয়ন ডলার
    • চামড়া: ১১৯ মিলিয়ন ডলার
      অতএব, প্রচলিত পণ্যের মোট রপ্তানি আয় = (১৩৮ + ০.৪ + ১১৯) = ২৫৭.৪ মিলিয়ন ডলার।

    ২. অপ্রচলিত পণ্য:

    • হিমায়িত খাদ্য: ৪৭৭ মিলিয়ন ডলার
    • কৃষিজাত পণ্য: ৫৩২ মিলিয়ন ডলার
    • তৈরি পোশাক: ১৪,৪৯৭ মিলিয়ন ডলার
      অতএব, অপ্রচলিত পণ্যের মোট রপ্তানি আয় = (৪৭৭ + ৫৩২ + ১৪৪৯৭) = ১৫,৫০৬ মিলিয়ন ডলার।

    ব্যাখ্যা: উপাত্ত পর্যালোচনায় দেখা যায় যে, বাংলাদেশের মোট রপ্তানি আয়ের সিংহভাগই (বিশেষ করে তৈরি পোশাক থেকে) আসে অপ্রচলিত পণ্য খাত থেকে, আর প্রচলিত পণ্যের অংশ তুলনামূলকভাবে অনেকটাই কমে গেছে।

  4. ঘ)

    AI-তৈরি নমুনা উত্তর

    বাংলাদেশের রপ্তানি আয় বৃদ্ধিতে এবং বিদ্যমান প্রতিবন্ধকতা দূরীকরণে নিম্নোক্ত পদক্ষেপগুলো গ্রহণ করা যেতে পারে:

    ১. রপ্তানি পণ্যের বহুমুখীকরণ: বর্তমানে রপ্তানি আয় এককভাবে তৈরি পোশাকের ওপর অতিমাত্রায় নির্ভরশীল। চামড়া, পাটজাত বহুমুখী পণ্য, ওষুধ, তথ্যপ্রযুক্তি এবং কৃষি প্রক্রিয়াজাত পণ্যের মতো সম্ভাবনাময় খাতের বিকাশ ঘটিয়ে পণ্যের বৈচিত্র্য আনতে হবে।

    ২. নতুন বাজার অনুসন্ধান: ঐতিহ্যবাহী ইউরোপ ও আমেরিকার বাজারের বাইরে আফ্রিকা, ল্যাটিন আমেরিকা ও এশিয়ার দেশগুলোতে বাণিজ্য সম্পর্ক সম্প্রসারণ করতে হবে।

    ৩. পণ্যের গুণগত মান উন্নয়ন: আন্তর্জাতিক মান অনুযায়ী পণ্য উৎপাদনের জন্য আধুনিক প্রযুক্তি ও দক্ষ জনবল তৈরি করতে হবে এবং আন্তর্জাতিক মান নিয়ন্ত্রণকারী সার্টিফিকেশন নিশ্চিত করতে হবে।

    ৪. বন্দর ও যোগাযোগ ব্যবস্থার আধুনিকায়ন: সমুদ্রবন্দর ও স্থলবন্দরের সক্ষমতা বৃদ্ধি, লোডিং-আনলোডিং প্রক্রিয়ার দ্রুততা নিশ্চিতকরণ এবং লজিস্টিক সাপোর্ট উন্নত করে লিড টাইম (Lead Time) কমাতে হবে।

    ৫. কর ও শুল্ক সুবিধা প্রদান: রপ্তানিকারকদের জন্য নগদ প্রণোদনা, কর অবকাশ (Tax Holiday) এবং কাঁচামাল আমদানিতে শুল্কমুক্ত বন্ডেড ওয়্যারহাউস সুবিধা বৃদ্ধি ও সহজীকরণ করা প্রয়োজন।

    ৬. দ্বিপাক্ষিক বাণিজ্য চুক্তি: এলডিসি (LDC) উত্তরণ-পরবর্তী চ্যালেঞ্জ মোকাবিলায় বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ বাণিজ্যিক অংশীদার দেশের সাথে মুক্ত বাণিজ্য চুক্তি (FTA) ও অগ্রাধিকারমূলক বাণিজ্য চুক্তি (PTA) স্বাক্ষর করা আবশ্যক।

আরও প্রশ্ন অনুশীলন করতে অ্যাপে যাও

সম্পর্কিত প্রশ্ন