অর্থনীতি ২য় পত্র • Dinajpur Board • দিনাজপুর বোর্ড ২০২৩
অর্থনীতি ২য় পত্র প্রশ্ন
'X' দেশে ২০২১ ও ২০২২ সালের বিভিন্ন ভোগ্যপণ্যের দাম এবং পরিমাণ নিম্নরূপ:দেশটির সরকার দ্রব্যমূল্য স্থিতিশীল রাখতে প্রত্যক্ষ করের হার ও ব্যাংক হার বৃদ্ধি এবং অর্থের যোগান হ্রাস করে।
ভোগ্য দ্রব্য | পরিমাণ (কেজি) | ২০২১দাম (টাকায়) | ২০২২দাম (টাকায়)
চাল | ২০ | ৫০ | ৬০
গম | ১৫ | ৪০ | ৫০
চিনি | ১০ | ৬০ | ৮০
- ক)(1)
ব্যাংক হার কী?
- খ)(2)
সীমিত আয়ের লোকের ওপর মুদ্রাস্ফীতির প্রভাব কীরূপ?
- গ)(3)
উদ্দীপকের আলোকে 'X' দেশের মুদ্রাস্ফীতির হার নির্ণয় করো।
- ঘ)(4)
মুদ্রাস্ফীতি নিয়ন্ত্রণে সরকার গৃহীত পদক্ষেপগুলো যথেষ্ট কি? তোমার মতামত দাও।
উত্তর ও ব্যাখ্যা
- ক)
AI-তৈরি নমুনা উত্তর
কেন্দ্রীয় ব্যাংক যে সুদের হারে তালিকাভুক্ত বাণিজ্যিক ব্যাংকগুলোকে ঋণ প্রদান করে বা তাদের প্রথম শ্রেণির বিল বাট্টাকরণ করে, তাকে ব্যাংক হার (Bank Rate) বলে।
- খ)
AI-তৈরি নমুনা উত্তর
মুদ্রাস্ফীতির ফলে সীমিত আয়ের বা নির্দিষ্ট আয়ের লোকের ওপর মারাত্মক নেতিবাচক প্রভাব পড়ে।
মুদ্রাস্ফীতির সময়ে দ্রব্যসামগ্রীর দাম ক্রমাগত বৃদ্ধি পেতে থাকে, কিন্তু নির্দিষ্ট বা সীমিত আয়ের মানুষের (যেমন: চাকুরিজীবী, শ্রমিক, পেনশনভোগী) আর্থিক আয় বা মজুরি সেই অনুপাতে বাড়ে না। ফলে তাদের অর্থের ক্রয়ক্ষমতা হ্রাস পায় এবং বাস্তব আয় কমে যায়। এতে তাদের জীবনযাত্রার মান হ্রাস পায় এবং তারা অর্থনৈতিকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হয়।
- গ)
AI-তৈরি নমুনা উত্তর
উদ্দীপকে ভিত্তি বছর হিসেবে ২০২১ এবং চলতি বছর হিসেবে ২০২২ ধরা হলো।
ভিত্তি বছর ২০২১-এর মোট ব্যয় (∑P₀Q₀):
চাল = ২০ কেজি × ৫০ টাকা = ১,০০০ টাকা
গম = ১৫ কেজি × ৪০ টাকা = ৬০০ টাকা
চিনি = ১০ কেজি × ৬০ টাকা = ৬০০ টাকা
অতএব, ∑P₀Q₀ = ১,০০০ + ৬০০ + ৬০০ = ২,২০০ টাকা।চলতি বছর ২০২২-এর মোট ব্যয় (∑P₁Q₀):
চাল = ২০ কেজি × ৬০ টাকা = ১,২০০ টাকা
গম = ১৫ কেজি × ৫০ টাকা = ৭৫০ টাকা
চিনি = ১০ কেজি × ৮০ টাকা = ৮০০ টাকা
অতএব, ∑P₁Q₀ = ১,২০০ + ৭৫০ + ৮০০ = ২,৭৫০ টাকা।ভোক্তা মূল্যসূচক (CPI) = (∑P₁Q₀ / ∑P₀Q₀) × ১০০
= (২,৭৫০ / ২,২০০) × ১০০
= ১.২৫ × ১০০ = ১২৫মুদ্রাস্ফীতির হার = {(CPI - ১০০) / ১০০} × ১০০%
অথবা, {(২,৭৫০ - ২,২০০) / ২,২০০} × ১০০%
= (৫৫০ / ২,২০০) × ১০০%
= ২৫%অতএব, 'X' দেশের মুদ্রাস্ফীতির হার ২৫%।
- ঘ)
AI-তৈরি নমুনা উত্তর
উদ্দীপকে মুদ্রাস্ফীতি নিয়ন্ত্রণে সরকার গৃহীত পদক্ষেপগুলো গুরুত্বপূর্ণ হলেও এককভাবে তা পুরোপুরি যথেষ্ট নয়; কার্যকর ফলাফলের জন্য সামগ্রিক উদ্যোগ প্রয়োজন।
উদ্দীপকে উল্লেখিত 'X' দেশের সরকার মুদ্রাস্ফীতি নিয়ন্ত্রণে সংকোচনমূলক আর্থিক নীতি (ব্যাংক হার বৃদ্ধি ও অর্থের জোগান হ্রাস) এবং সংকোচনমূলক রাজস্ব নীতি (প্রত্যক্ষ করের হার বৃদ্ধি) গ্রহণ করেছে। প্রত্যক্ষ কর বাড়ালে জনগণের ডিসপোজেবল ইনকাম বা ব্যয়যোগ্য আয় কমে, ফলে সামগ্রিক চাহিদা হ্রাস পায়। একইভাবে ব্যাংক হার বাড়ালে বাণিজ্যিক ব্যাংকের ঋণের সুদের হার বাড়ে, ঋণের পরিমাণ কমে এবং অর্থের জোগান সংকুচিত হয়ে বাজারে কেনাকাটার চাপ কমে। ফলে চাহিদা-জনিত মুদ্রাস্ফীতি নিয়ন্ত্রণে এগুলো অত্যন্ত কার্যকর ভূমিকা রাখে।
তবে কেবল চাহিদা সংকোচনের পদক্ষেপগুলোই মুদ্রাস্ফীতি পুরোপুরি নিয়ন্ত্রণের জন্য যথেষ্ট নয়। কারণ:
১. জোগানজনিত মুদ্রাস্ফীতি: উৎপাদন ব্যয় বৃদ্ধি, কাঁচামালের অভাব বা প্রাকৃতিক কারণে জোগান কমে দ্রব্যমূল্য বৃদ্ধি পেলে কেবল মুদ্রানীতি তা সমাধান করতে পারে না। সেক্ষেত্রে কৃষি ও শিল্প উৎপাদন বৃদ্ধি এবং সরবরাহ ব্যবস্থা সচল রাখা অপরিহার্য।
২. মজুতদারি ও বাজার সিন্ডিকেট: বাজারে অসাধু ব্যবসায়ীদের কৃত্রিম সংকট রোধে কঠোর বাজার তদারকি ও নিয়ন্ত্রণমূলক ব্যবস্থা প্রয়োজন।
৩. সরকারি অনুৎপাদনশীল ব্যয় সংকোচন: সরকারের নিজস্ব অপচয়মূলক ব্যয় নিয়ন্ত্রণ না করলে মুদ্রাস্ফীতির চাপ বজায় থাকে।অতএব, গৃহীত পদক্ষেপগুলো মুদ্রাস্ফীতি নিয়ন্ত্রণে গুরুত্বপূর্ণ প্রাথমিক ভূমিকা রাখলেও উৎপাদন বৃদ্ধি, সুষ্ঠু বাজারজাতকরণ ও সামগ্রিক সরবরাহ ব্যবস্থা জোরদার না করলে মুদ্রাস্ফীতি টেকসইভাবে নিয়ন্ত্রণ করা সম্ভব নয়।
আরও প্রশ্ন অনুশীলন করতে অ্যাপে যাও