জীববিজ্ঞান ১ম পত্র • Cumilla Board • কুমিল্লা বোর্ড ২০২২
জীববিজ্ঞান ১ম পত্র প্রশ্ন
জীবকোষের অভ্যন্তরে ৬-কার্বনবিশিষ্ট শর্করা কতকগুলো ধারাবাহিক বিক্রিয়ার মধ্যে দিয়ে ৩-কার্বনবিশিষ্ট জৈব অ্যাসিডে পরিণত হয়। এ জৈব অ্যাসিডটি পরবর্তীতে মাইটোকন্ড্রিয়ার ম্যাট্রিক্সে একটি চক্রের মাধ্যমে সম্পূর্ণভাবে জারিত হয়ে CO₂ ও শক্তি উৎপন্ন করে।
- ক)(1)
লিমিটিং ফ্যাক্টর কী?
- খ)(2)
অক্সিডেটিভ ফসফোরাইলেশন বলতে কী বোঝায় ?
- গ)(3)
উদ্দীপকে উল্লিখিত ১ম প্রক্রিয়াটি ছক আকারে দেখাও।
- ঘ)(4)
উদ্দীপকের শেষ চক্রটির তাৎপর্য বিশ্লেষণ কর।
উত্তর ও ব্যাখ্যা
- ক)
AI-তৈরি নমুনা উত্তর
কোনো শারীরবৃত্তীয় প্রক্রিয়া যখন একাধিক বাহ্যিক বা অভ্যন্তরীণ প্রভাবক দ্বারা প্রভাবিত হয়, তখন যে প্রভাবকটির পরিমাণ বা মাত্রা স্বাভাবিকের তুলনায় সবচেয়ে কম থাকে এবং প্রক্রিয়াটির হারকে সরাসরি নিয়ন্ত্রণ করে, তাকে লিমিটিং ফ্যাক্টর (সীমাবদ্ধকারী প্রভাবক) বলে।
- খ)
AI-তৈরি নমুনা উত্তর
শ্বসন প্রক্রিয়ায় ইলেকট্রন ট্রান্সপোর্ট চেইনের (ETC) মধ্য দিয়ে ইলেকট্রন স্থানান্তরের সময় বিমুক্ত শক্তিকে ব্যবহার করে ADP এবং অজৈব ফসফেট (Pi) যুক্ত হয়ে ATP তৈরির পদ্ধতিকে অক্সিডেটিভ ফসফোরাইলেশন বলে। এ প্রক্রিয়ায় মাইটোকন্ড্রিয়ার অন্তঃঝিল্লিতে উপস্থিত বিভিন্ন বাহকের মাধ্যমে NADH+H⁺ এবং FADH₂ জারিত হয় এবং শেষ ইলেকট্রন গ্রাহক হিসেবে আণবিক অক্সিজেন ইলেকট্রন ও প্রোটন গ্রহণ করে পানি উৎপন্ন করে।
- গ)
AI-তৈরি নমুনা উত্তর
উদ্দীপকে উল্লিখিত ১ম প্রক্রিয়াটি হলো 'গ্লাইকোলাইসিস' (Glycolysis), যেখানে ৬-কার্বনবিশিষ্ট গ্লুকোজ জারিত হয়ে ৩-কার্বনবিশিষ্ট পাইরুভিক অ্যাসিডে পরিণত হয়।
গ্লাইকোলাইসিস প্রক্রিয়ার ধারাবাহিক বিক্রিয়াসমূহের ছক:
১. গ্লুকোজ (6C) + ATP ⟶ গ্লুকোজ-৬-ফসফেট + ADP [এনজাইম: হেক্সোকাইনেজ]
২. গ্লুকোজ-৬-ফসফেট ⇌ ফ্রুক্টোজ-৬-ফসফেট [এনজাইম: ফসফোগ্লুকো-আইসোমারেজ]
৩. ফ্রুক্টোজ-৬-ফসফেট + ATP ⟶ ফ্রুক্টোজ-১,৬-বিসফসফেট + ADP [এনজাইম: ফসফোফ্রুক্টোকাইনেজ]
৪. ফ্রুক্টোজ-১,৬-বিসফসফেট (6C) ⇌ ৩-ফসফোগ্লিসারালডিহাইড (3C) + ডাইহাইড্রক্সিঅ্যাসিটোন ফসফেট (3C) [এনজাইম: অ্যালডোলেজ ও আইসোমারেজ]
(পরবর্তী প্রতিটি বিক্রিয়া ২ অণু করে ঘটে):
৫. ৩-ফসফোগ্লিসারালডিহাইড + Pi + NAD⁺ ⇌ ১,৩-বিসফসফোগ্লিসারিক অ্যাসিড + NADH + H⁺ [এনজাইম: ফসফোগ্লিসারালডিহাইড ডিহাইড্রোজিনেজ]
৬. ১,৩-বিসফসফোগ্লিসারিক অ্যাসিড + ADP ⇌ ৩-ফসফোগ্লিসারিক অ্যাসিড + ATP [এনজাইম: ফসফোগ্লিসারোকাইনেজ]
৭. ৩-ফসফোগ্লিসারিক অ্যাসিড ⇌ ২-ফসফোগ্লিসারিক অ্যাসিড [এনজাইম: ফসফোগ্লিসারোমিউটেজ]
৮. ২-ফসফোগ্লিসারিক অ্যাসিড ⇌ ফসফোএনলপাইরুভিক অ্যাসিড + H₂O [এনজাইম: এনোলেজ]
৯. ফসফোএনলপাইরুভিক অ্যাসিড + ADP ⟶ পাইরুভিক অ্যাসিড (3C) + ATP [এনজাইম: পাইরুভেট কাইনেজ]। - ঘ)
AI-তৈরি নমুনা উত্তর
উদ্দীপকে উল্লিখিত মাইটোকন্ড্রিয়ার ম্যাট্রিক্সে সম্পন্ন হওয়া শেষ চক্রটি হলো 'ক্রেবস চক্র' (Krebs Cycle বা TCA চক্র)। বায়বীয় শ্বসনের এ চক্রটির তাৎপর্য নিম্নে বিশ্লেষণ করা হলো:
১. শক্তির প্রধান উৎস: ক্রেবস চক্র হলো কোষীয় শ্বসনের সর্বাধিক শক্তি উৎপাদনকারী পর্যায়। এক অণু অ্যাসিটাইল-CoA ক্রেবস চক্রে জারিত হয়ে ৩ অণু NADH+H⁺, ১ অণু FADH₂ এবং ১ অণু GTP উৎপন্ন করে, যা পরবর্তীতে ইলেকট্রন ট্রান্সপোর্ট চেইনের মাধ্যমে প্রচুর পরিমাণে ATP তৈরি করে।
২. সম্পূর্ণ জারণ ও বর্জ্য অপসারণ: গ্লাইকোলাইসিসে উৎপন্ন জৈব অ্যাসিড এই চক্রের মাধ্যমে সম্পূর্ণরূপে জারিত হয়ে CO₂ ও H₂O তে পরিণত হয়।
৩. জৈব রসায়নের কেন্দ্রবিন্দু (উভমুখী শ্বসন): ক্রেবস চক্র কেবল অপচিতিমূলক (catabolic) নয়, এটি উপচিতিমূলক (anabolic) বিক্রিয়ায়ও যুক্ত। এ চক্রের বিভিন্ন মধ্যবর্তী যৌগ যেমন- আলফা-কিটোগ্লুটারিক অ্যাসিড, সাকসিনাইল-CoA, অক্সালোঅ্যাসিটিক অ্যাসিড বিভিন্ন অ্যামাইনো অ্যাসিড, ফ্যাটি অ্যাসিড, সাইটোক্রোম, ক্লোরোফিল ইত্যাদি জৈব অণু সংশ্লেষে ব্যবহৃত হয়।
৪. চর্বি ও প্রোটিন বিপাক: কার্বোহাইড্রেট ছাড়াও কোষের চর্বি ও প্রোটিন ভেঙে যে অ্যাসিটাইল-CoA গঠিত হয়, তা-ও এই একই ক্রেবস চক্রের মাধ্যমে প্রবেশ করে শক্তিতে রূপান্তরিত হয়।সুতরাং, জীবকোষের যাবতীয় শারীরবৃত্তীয় কাজের প্রয়োজনীয় শক্তির জোগান এবং জৈব যৌগসমূহের পারস্পরিক বিপাকীয় রূপান্তরে ক্রেবস চক্র অপরিহার্য ভূমিকা পালন করে।
আরও প্রশ্ন অনুশীলন করতে অ্যাপে যাও