বাংলা ১ম পত্র • Rajshahi Board • রাজশাহী বোর্ড ২০২৩

বাংলা ১ম পত্র প্রশ্ন

মতি গাজী একজন লেখক। তিনি সর্বদা মানবতাকে উচ্চ মর্যাদায় স্থান দিতে চেষ্টা করেন। ভিক্ষাবৃত্তিকে তিনি চরম অপছন্দ করেন। কারণ, এতে মানবতার মূল্যায়ন হয় না। এক মুষ্টি ভিক্ষা সাময়িক দাক্ষিণ্য হলেও প্রকৃত মানব কল্যাণের চিন্তা সৃজন হয় না .

  1. ক)

    "ওপরের হাত সব সময় নিচের হাত থেকে শ্রেষ্ঠ।”— কথাটি কে বলেছেন?

    (1)
  2. খ)

    লেখকের মতে 'মানব কল্যাণ' বলতে কী বোঝায়? বর্ণনা কর।

    (2)
  3. গ)

    উদ্দীপকে মতি গাজীর চিন্তায় ‘মানব কল্যাণ' প্রবন্ধের কোন দিকটি প্রধান হয়ে উঠেছে? আলোচনা কর।

    (3)
  4. ঘ)

    “উদ্দীপকে বর্ণিত বিষয় 'মানব কল্যাণ' প্রবন্ধটির সমগ্র ভাবের ধারক নয়।" -এ ক্ষেত্রে তুমি কি মনে কর তা প্রবন্ধের আলোকে লেখ।

    (4)

উত্তর ও ব্যাখ্যা

  1. ক)

    AI-তৈরি নমুনা উত্তর

    "ওপরের হাত সব সময় নিচের হাত থেকে শ্রেষ্ঠ"— কথাটি বলেছেন মহানবি হজরত মুহাম্মদ (সা.) (হাদিস)।

  2. খ)

    AI-তৈরি নমুনা উত্তর

    প্রাবন্ধিক আবুল ফজলের মতে, 'মানব কল্যাণ' বলতে কেবল সাময়িক দয়াদাক্ষিণ্য, দান-খয়রাত বা রিলিফ প্রদানকে বোঝায় না; বরং মানুষের সামগ্রিক বিকাশ ও সার্বিক মঙ্গলের জন্য কাজ করাকে বোঝায়।

    প্রকৃত মানব কল্যাণ হলো মানুষের মানবিক মর্যাদাবোধকে জাগ্রত করা, তাকে পরনির্ভরশীলতা থেকে মুক্ত করে স্বাবলম্বী করা এবং মানব অস্তিত্বের আত্মিক ও আত্মমর্যাদাপূর্ণ উত্তরণ ঘটানো। সংকীর্ণ দানশীলতা মানুষকে হীনম্মন্য করে তোলে, কিন্তু প্রকৃত মানব কল্যাণ মানুষকে মর্যাদাশীল জীবনের অধিকারী করে।

  3. গ)

    AI-তৈরি নমুনা উত্তর

    উদ্দীপকে মতি গাজীর চিন্তায় ‘মানব কল্যাণ' প্রবন্ধের দান-খয়রাত ও ভিক্ষাবৃত্তির সংকীর্ণতার দিকটি এবং মানবিক মর্যাদাহানির বিষয়টি প্রধান হয়ে উঠেছে।

    'মানব কল্যাণ' প্রবন্ধে লেখক আবুল ফজল উল্লেখ করেছেন যে, সাধারণ অর্থে মানুষ মানব কল্যাণ বলতে দান-খয়রাত বা দাক্ষিণ্য প্রদর্শনকে মনে করে। অথচ এই ধরনের তথাকথিত দান গ্রহণকারী মানুষকে হীন ও পরনির্ভরশীল করে তোলে এবং তার মানবিক মর্যাদাকে ক্ষুণ্ণ করে। এতে এক হাতের নিচে আরেক হাত পেতে মানুষ তার আত্মমর্যাদা বিসর্জন দেয়, যা কোনোভাবেই প্রকৃত কল্যাণ নয়।

    উদ্দীপকের লেখক মতি গাজীও ভিক্ষাবৃত্তিকে চরম অপছন্দ করেন। তিনি মনে করেন ভিক্ষাবৃত্তিতে মানুষের যথাযথ মূল্যায়ন হয় না। এক মুষ্টি ভিক্ষা বা সাময়িক দান দিয়ে প্রকৃত কল্যাণ সাধন সম্ভব নয়, বরং তা মানুষের মর্যাদাহানি ঘটায়। ফলে প্রবন্ধে বর্ণিত সংকীর্ণ দানশীলতা বর্জন এবং মানুষের আত্মমর্যাদা রক্ষার দিকটিই মতি গাজীর ভাবনায় সুস্পষ্টভাবে প্রতিফলিত হয়েছে।

  4. ঘ)

    AI-তৈরি নমুনা উত্তর

    “উদ্দীপকে বর্ণিত বিষয় 'মানব কল্যাণ' প্রবন্ধটির সমগ্র ভাবের ধারক নয়”— মন্তব্যটি সম্পূর্ণ যথার্থ।

    উদ্দীপকে মূলত ভিক্ষাবৃত্তির অসার্থকতা ও সাময়িক দাক্ষিণ্যের অসারতার বিষয়টি তুলে ধরা হয়েছে, যা 'মানব কল্যাণ' প্রবন্ধের একটি আংশিক দিকের সাথে মিলে যায়। কিন্তু প্রবন্ধটির পরিধি ও ভাবার্থ আরও অনেক বেশি ব্যাপক ও গভীর।

    'মানব কল্যাণ' প্রবন্ধে লেখক আবুল ফজল শুধু দান-খয়রাত বা ভিক্ষাবৃত্তির বিরোধিতাই করেননি, বরং মানব কল্যাণের স্বরূপকে রাষ্ট্র, সমাজ, অর্থনীতি এবং ব্যক্তিজীবনের বৃহত্তর পটভূমিতে বিশ্লেষণ করেছেন। প্রবন্ধের মূল বক্তব্য হলো মানব মর্যাদার সার্বিক সুরক্ষা, মানব প্রতিভার সঠিক বিকাশ এবং সমাজ ও রাষ্ট্রীয় কাঠামোর ইতিবাচক রূপান্তর। লেখক মানব কল্যাণকে রাজনৈতিক ও সামাজিক চেতনার সাথে যুক্ত করেছেন এবং বিভেদহীন এক মানবিক বিশ্বব্যবস্থা গড়ে তোলার আহ্বান জানিয়েছেন। সেখানে প্রতিটি নাগরিকের অধিকার ও সুযোগ নিশ্চিত করাই হলো মানব কল্যাণের চরম লক্ষ্য।

    অন্যদিকে, উদ্দীপকে কেবল ভিক্ষাবৃত্তির প্রতি অনীহা ও দানশীলতার অকার্যকারিতার দিকটিই আলোচিত হয়েছে। মানব মুক্তির বৃহত্তর আদর্শ, সার্বিক সামাজিক রূপান্তর, অর্থনৈতিক বৈষম্য দূরীকরণ বা রাষ্ট্রীয় ব্যবস্থার দায়িত্বের মতো প্রবন্ধের মূল চেতনাগুলো উদ্দীপকে অনুপস্থিত।

    অতএব, উদ্দীপকটি প্রবন্ধের সূচনায় আলোচিত পরনির্ভরশীলতা ও দান-খয়রাতের অপকারিতার ধারণাকে ধারণ করলেও প্রবন্ধের মূল ও সমগ্র দর্শনকে ধারণ করতে পারেনি। তাই উক্তিটি সর্বাংশে সত্য।

আরও প্রশ্ন অনুশীলন করতে অ্যাপে যাও

সম্পর্কিত প্রশ্ন