হিন্দু ধর্ম • Mymensingh Board • ময়মনসিংহ বোর্ড ২০২৩

হিন্দু ধর্ম প্রশ্ন

অতুল খুবই নম্র ও ভদ্র। সে মাতা-পিতা, শিক্ষক ও গুরুজনদের প্রণাম জানায়। সমবয়সীদের শুভেচ্ছা জানাতে ভোলে না। ছোটদের প্রতি রয়েছে তার অগাধ স্নেহ। অন্যদিকে, কালু অসৎ সঙ্গের কবলে পড়ে মাদকে আসক্ত হয়ে পড়ে। কালুর মাতা-পিতা বিষয়টি জানতে পেরে কালুকে যথেষ্ট সময় দেওয়ার চেষ্টা করে। তাকে ধুমপান ও মাদকাসক্তির কুফল সম্পর্কে সচেতন করে। অবশেষে মাতা-পিতা কালুকে স্বাভাবিক জীবনে ফিরিয়ে আনতে সক্ষম হয়।

  1. ক)

    প্রণামের প্রতি শব্দ কী?

    (1)
  2. খ)

    ধর্মাধর্ম নির্ণয়ের দ্বিতীয় প্রমাণ সম্পর্কে বুঝিয়ে লেখো।

    (2)
  3. গ)

    অতুলের কর্মকাণ্ডে ধর্মপথের কোন ধারণাটি ফুটে উঠেছে? ব্যাখ্যা করো।

    (3)
  4. ঘ)

    পাঠের আলোকে কালুর মাতা-পিতার কাজটির যথার্থতা মূল্যায়ন করো।

    (4)

উত্তর ও ব্যাখ্যা

  1. ক)

    প্রণামের প্রতিশব্দ নমস্কার।

  2. খ)

    ধর্মাধর্ম নির্ণয়ের দ্বিতীয় প্রমাণ হলো স্মৃতিশাস্ত্র। বেদের পরে কর্তব্য-অকর্তব্য বা ধর্ম-অধর্ম নির্ণয়ের জন্য যে গ্রন্থাবলি রচিত হয়েছে, তাকে স্মৃতিশাস্ত্র বলা হয়। মনুসংহিতা, পরাশর সংহিতা, যাজ্ঞবল্ক্য সংহিতা প্রভৃতি স্মৃতিশাস্ত্রের উল্লেখযোগ্য গ্রন্থ। প্রথম প্রমাণ বেদ, তৃতীয় সদাচার এবং চতুর্থ বিবেক।

  3. গ)

    অতুলের কর্মকাণ্ডে ধর্মপথের শিষ্টাচার ধারণাটি ফুটে উঠেছে।

    নম্র, ভদ্র বা শিষ্ট আচারকে শিষ্টাচার বলে। পাঠ্যবই অনুযায়ী শিষ্টাচার মনুষ্যত্বের অন্যতম প্রধান উপাদান। এটি একটি নৈতিক মূল্যবোধ এবং ধর্মের অঙ্গ। ধর্মপথে চলার ক্ষেত্রে শিষ্টাচার অন্যতম পাথেয়। মাতা, পিতা ও গুরুজনকে প্রণাম জানানোর মাধ্যমে ভক্তি ও শ্রদ্ধা প্রকাশ পায়। সমবয়সীদের শুভেচ্ছা জানানো এবং ছোটদের স্নেহ করাও শিষ্টাচার। প্রথাগত রীতি হলো, ছোটরা প্রণাম বা নমস্কার জানাবে এবং বড়রা আশীর্বাদ করবেন।

    উদ্দীপকের অতুল নম্র ও ভদ্র। সে মাতা-পিতা, শিক্ষক ও গুরুজনদের প্রণাম জানায়, সমবয়সীদের শুভেচ্ছা জানাতে ভোলে না এবং ছোটদের অগাধ স্নেহ করে। এ সবই শিষ্টাচারের বিভিন্ন রূপ। এ আচরণে সে মানুষের মন জয় করতে পারে।

    সুতরাং অতুলের কর্মকাণ্ডে শিষ্টাচারের ধারণাটি প্রতিফলিত হয়েছে।

  4. ঘ)

    কালুর মাতা-পিতার কাজটি পাঠ্যবইয়ের আলোকে সম্পূর্ণ যথার্থ ও প্রশংসনীয়। তাঁরা শাসনের পরিবর্তে সময় ও সচেতনতার মাধ্যমে কালুকে ফিরিয়ে এনেছেন।

    পাঠ্যবইয়ে বলা হয়েছে, মাদক গ্রহণ অধর্মের পথ। এতে স্বাভাবিক চেতনা বিমূঢ় হয় এবং বিবেকবুদ্ধি লোপ পায়। এটি দৈহিক, মানসিক, আর্থিক ও সামাজিক ক্ষতি করে। মাদকাসক্তকে সুস্থ জীবনে ফিরিয়ে আনা একটি পারিবারিক কর্তব্য। সন্তানদের গড়ে তোলা পিতা-মাতার ধর্মীয় ও নৈতিক দায়িত্ব।

    ১. সময় দেওয়া : কালুর মাতা-পিতা তাকে যথেষ্ট সময় দিয়েছেন। পাঠ্যবই অনুযায়ী সন্তানেরা কেমন করে দিন কাটাচ্ছে, সেদিকে লক্ষ রাখা প্রয়োজন। সময় দিলে সন্তান নিজেকে একা ভাবে না।

    ২. কুফল সম্পর্কে সচেতন করা : তাঁরা কালুকে ধূমপান ও মাদকাসক্তির কুফল বুঝিয়েছেন। পাঠ্যবইয়ে বলা হয়েছে, সন্তানদের কেবল শাসন নয়, সচেতনতা বৃদ্ধি করতে হবে। নিউমোনিয়া, ফুসফুসের ক্যান্সার, হৃদরোগের মতো রোগ এবং মস্তিষ্কবিকৃতির কথা জানলে সে সতর্ক হয়।

    ৩. ধর্মীয় ও নৈতিক মূল্যবোধ : পারিবারিক ধর্মীয় সংস্কৃতি গোটা পরিবারের ওপর প্রভাব ফেলে। দেহ ঈশ্বরের মন্দির, এ বোধ সন্তানকে মাদক থেকে দূরে রাখে।

    ৪. ফলাফল : মাতা-পিতা কালুকে স্বাভাবিক জীবনে ফিরিয়ে আনতে সক্ষম হয়েছেন। এতে প্রমাণিত হয়, ভালোবাসা ও সচেতনতা শাসনের চেয়ে বেশি কার্যকর।

    সুতরাং কালুর মাতা-পিতার কাজটি পারিবারিক দায়িত্ব পালনের আদর্শ উদাহরণ এবং এটি অত্যন্ত যথার্থ।

আরও প্রশ্ন অনুশীলন করতে অ্যাপে যাও

সম্পর্কিত প্রশ্ন